প্রযুক্তি

দশ বছরের গড়া পেজ, এক ভিডিওতেই এল হাজার হাজার মন্তব্য—কিছু এতটাই কুৎসিত যে বলা যায় না

কেটি প্রাইসের জন্য রেড কার্পেট লুক বানিয়েছিলেন মিচেল হ্যালিডে। যা এল, তা তাঁর কাজের সমালোচনা নয়—নিষ্ঠুরতার বেশির ভাগই ছিল তাঁকে ঘিরে। হ্যালিডের জবাবটিই কাজের: তিনি তাঁর পক্ষে দাঁড়িয়ে ভিডিও দিয়েছেন।

দশ বছরের গড়া পেজ, এক ভিডিওতেই এল হাজার হাজার মন্তব্য—কিছু এতটাই কুৎসিত যে বলা যায় না

বোল্টনের ২৮ বছর বয়সী মেকআপ শিল্পী মিচেল হ্যালিডে—যিনি মেড বাই মিচেল ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা এবং কিম কার্দাশিয়ানসহ অনেকের সঙ্গে কাজ করেছেন—রিয়েলিটি টেলিভিশনের পরিচিত মুখ কেটি প্রাইসের জন্য বানানো একটি রেড কার্পেট লুকের ভিডিও দিয়েছিলেন।

তাতে এসেছে হাজার হাজার মন্তব্য, যার কিছু তাঁর ভাষায় "এতটাই কুৎসিত" যে পুনরাবৃত্তি করা যায় না।

তিনি যা লক্ষ করলেন

যে বিষয়টি তাঁকে থামিয়ে দিয়েছে তা গালিগালাজ থাকা নয়। বরং তা কাকে লক্ষ্য করে, আর লিখছেন কারা।

তিনি বলেছেন, "সামাজিক মাধ্যম অনেক দেখেছি, তাই এখন আর সত্যিই অবাক হই না—কিন্তু কেটিকে নিয়ে নারীদের কথাগুলো আমাকে ধাক্কা দিয়েছে।" তাঁর কথায়, "কিছু কথা এতটাই কুৎসিত, একেবারে সোজা আক্রমণ।"

নব্বইয়ের দশকের শেষে মডেল জর্ডান নামে খ্যাতি পাওয়া প্রাইস নিজের বডি ডিসমরফিয়া ও কসমেটিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্যেই কথা বলেছেন। হ্যালিডে বলেন, "এত নিষ্ঠুরতা আগে সত্যিই দেখিনি।"

তাঁর বর্ণনায় একটি বাক্য নিয়ে থামা দরকার: "মনে হয় যেন মানুষ ভাবে, আমরা মন্তব্যগুলো দেখব না।"

তিনি কী করলেন

তিনি জানান, ঘটনাটি তাঁকে "বেশ বিষণ্ন" করেছে; দশ বছর ধরে যত্নে গড়া, যার চারপাশে একটি কমিউনিটি তৈরি করেছেন—সেই পেজে এত নেতিবাচকতা আসায় তিনি স্তম্ভিত। মুছে দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার বদলে তিনি প্রাইস ও নিজের ব্র্যান্ডের পক্ষে দাঁড়িয়ে একটি ভিডিও দিয়েছেন।

পেজটিকে তিনি কী বানাতে চান, তার সারাংশই এ গল্পের সবচেয়ে কাজের বাক্য: "আমি চাই মানুষ আমার প্ল্যাটফর্মে এসে দেখুক, যাঁরা ভিন্নভাবে কিছু করছেন তাঁদের উদ্‌যাপন করা হয়।"

কাজ নিয়ে তিনি নির্বিকার: "কেটির লুকটি ভালো লেগেছে, আর তাঁকে খুশি করতে পেরেছি জানাটুকুই আমার কাছে সব।"

বাংলাদেশে এর মানে কী

এর প্রতিটি অংশ এ দেশে চেনা, আর হুড়মুড়িয়ে পড়াটা আসে আরও দ্রুত—কারণ বাংলাদেশি ফেসবুকের মন্তব্য-সংস্কৃতি প্রকাশ্য, দ্রুত, আর বাংলায় প্রায় অ-নিয়ন্ত্রিত। কোনো নারীর একটি ভিডিও—তাঁর পোশাক, ওজন, বিয়ে, অস্ত্রোপচার, কণ্ঠস্বর—ঘণ্টার মধ্যে হাজার হাজার মন্তব্য টেনে আনতে পারে; আর সবচেয়ে নিষ্ঠুরগুলো প্রায়ই আসে অন্য নারীদের কাছ থেকেই, হ্যালিডে ঠিক যা লক্ষ করেছেন।

এ দেশে পেজ চালানো যে কারও জন্য দুটি কথা। এক, মডারেশন একটি কাজ, পরে দেখা যাবে এমন কিছু নয়: যেসব শব্দ আসবেই তা জানা থাকলে কিওয়ার্ড ফিল্টার চালু করুন, অতিথি আছেন এমন পোস্টে মন্তব্য সীমিত করুন, আর তর্ক না করে লুকিয়ে দিন। নিজের প্ল্যাটফর্মে কাউকে ডেকে আনা মানে সেখানে তাঁর কী হবে, তার দায়ও নেওয়া।

দুই, লক্ষ্যবস্তু খুব কমই ক্রিয়েটর নিজে। হ্যালিডেকে আক্রমণ করা হয়নি; করা হয়েছে তাঁর অতিথিকে। কাউকে সামনে আনলে তাঁকে রক্ষা করতে হবে ধরে নিন, আর পোস্ট করার আগেই ঠিক করুন আপনি তা করতে রাজি কি না।

ভেতরের টানটি নকশা করা। এসব প্ল্যাটফর্ম হাত থেকে নামানো কেন এত কঠিন, তা দেখেছি অতিরিক্ত ব্যবহার আসক্তি না অভ্যাস লেখায়; আর কম বয়সীদের সময় সীমিত করার একটি চেষ্টা দেখেছি মেটার কিশোর সময়সীমায়। কোনোটিই মন্তব্যের ঘর ঠিক করে না। সেটি শেষ পর্যন্ত পেজের মালিকের হাতেই।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।