বিল গেটস এমন কথা হালকাভাবে বলেন না; শেষবার তিনি কিছুকে ইন্টারনেটের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, সেটি ছিল ইন্টারনেট। জার্মান ব্যবসায়িক দৈনিক হ্যান্ডেলসব্লাটকে সাক্ষাৎকারে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বললেন, নভেম্বরে ওপেনএআইয়ের ছাড়া চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ইন্টারনেট আবিষ্কারের মতোই তাৎপর্যপূর্ণ আর ‘আমাদের বিশ্ব বদলে দেবে’। ‘এত দিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পড়তে ও লিখতে পারলেও বিষয়বস্তু বুঝতে পারত না,’ তিনি বলেন। ‘চ্যাটজিপিটির মতো নতুন প্রোগ্রাম চালান বা চিঠি লিখতে সাহায্য করে অফিসের অনেক কাজ আরও দক্ষ করবে।’
এই সপ্তাহ কেন
সাক্ষাৎকারটি এল এক দশকে প্রযুক্তিশিল্পের সবচেয়ে ফলদায়ী সপ্তাহে। সোমবার ৬ ফেব্রুয়ারি গুগল, যে চ্যাটজিপিটির ভিত্তি ট্রান্সফরমার কাঠামো উদ্ভাবন করেছে আর নিজের চ্যাটবট ল্যাবে রেখেছিল, ঘোষণা করল বার্ড। মঙ্গলবার মাইক্রোসফট—যে এখন ওপেনএআইয়ে ১ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে—চ্যাটজিপিটির মডেল ভেতরে বসানো নতুন বিং ও এজ ব্রাউজার উন্মোচন করল, আর সত্য নাদেলা ঘোষণা করলেন ‘দৌড় শুরু আজ’। বুধবার গুগলের বার্ড প্রদর্শনীতে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ নিয়ে একটি তথ্যগত ভুল পাওয়া গেল, আর অ্যালফাবেটের শেয়ার পড়ল ৯ শতাংশ, মোটামুটি ১০ হাজার কোটি ডলার। ২০২০ সালে মাইক্রোসফটের বোর্ড ছাড়া কিন্তু এখনো পরামর্শ দেওয়া গেটস কথা বলছিলেন যখন তাঁর প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি বিশ বছরে গুগলের সার্চ ব্যবসায় সেরা আঘাতটি হানছে।
চ্যাটজিপিটি কী, সংক্ষেপে
বিশাল লেখার ভান্ডারে প্রশিক্ষিত বড় ভাষা মডেল, যা আপনি যা টাইপ করেন তার সবচেয়ে সম্ভাব্য ধারাবাহিকতা তৈরি করে—আর তা রচনা, কোড, কবিতা ও চিঠি লেখার মতো ভালোভাবে। চালু ৩০ নভেম্বর, দুই মাসে ১০ কোটি ব্যবহারকারী, টিকটকের চেয়ে দ্রুত। এটি প্রায়ই ভুলও, ২০২১-এর পর কিছু জানে না আর লাইভ ওয়েবে প্রবেশ নেই; বিংয়ের সংস্করণ শেষ দুটি সারানোর মাইক্রোসফটের চেষ্টা।
ঢাকা থেকে দেখা
প্রথম সপ্তাহগুলোয় চ্যাটজিপিটি বাংলাদেশি ফোন নম্বরে সাইন-আপ আটকে রেখেছিল, পরে খুলেছে; ফেব্রুয়ারির মধ্যে এটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে আলোচিত সফটওয়্যার, যেখানে শিক্ষকেরা ইতিমধ্যে অ্যাসাইনমেন্টে এর গদ্য পাচ্ছিলেন। এর বাংলা খারাপ—সাবলীল দেখানো, ভুলপ্রবণ—যা আপাতত বাংলা ভাষার কাজকে রক্ষা করে আর বাংলা ভাষার ব্যবহারকারীকে সমান মাত্রায় পিছিয়ে দেয়। চালান ও চিঠি নিয়ে গেটসের পূর্বাভাসই এখানে নজর রাখার: দেশের বিপিও ও ব্যাক-অফিস শিল্প, ৯০ হাজার চাকরি, ঠিক সেই কাজ করে যা তিনি বলছেন আরও দক্ষ হতে চলেছে।
পূর্বাভাসটি কেমন টিকল
আংশিক ঠিক, আর যেটি নিয়ে সবাই তাকিয়ে ছিল তাতে ভুল। মাইক্রোসফট প্রযুক্তিটি সর্বত্র বসিয়েছে—ওয়ার্ড, এক্সেল, আউটলুক ও উইন্ডোজজুড়ে কোপাইলট—আর হয়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে দৃশ্যমান করপোরেট এআই বিক্রেতা। কিন্তু ওই সপ্তাহের নির্দিষ্ট বাজিটি—এআই সার্চ গুগলের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য অংশ কেড়ে নেবে—ফলেনি: বিংয়ের অংশ প্রায় নড়েইনি, আর দুই দশক ধরে ধরে রাখা সার্চের বাজার গুগলের কাছেই থেকেছে।
অফিসের কাজ নিয়ে পূর্বাভাসটির নিষ্পত্তি এখনো চলছে। শুরুর স্পষ্টতম প্রভাব পড়েছে সাধারণভাবে জ্ঞানভিত্তিক কাজে নয়, বরং সবচেয়ে ছাঁচে ঢালা ও বিপুল পরিমাণের শ্রেণিগুলোতে—গতানুগতিক কপিরাইটিং, অনুবাদের প্রথম খসড়া, গ্রাহকসেবার সাধারণ স্ক্রিপ্ট—আর বাংলাদেশের বিপিও শিল্প ঠিক সেখানেই দাঁড়িয়ে। এর মানে আসন কমা, নাকি প্রতিটি আসনে বেশি কাজ—এই লেখার তোলা প্রশ্নটির উত্তর তিন বছর পরেও আলাদা প্রতিষ্ঠানে আলাদা।
সূত্র: রয়টার্স, প্রথম আলোর বরাতে।




