৩১ অক্টোবর ওপেনএআই চ্যাটজিপিটিকে সার্চ ইঞ্জিন বানাল: অর্থ দেওয়া গ্রাহকেরা, আর শিগগির সবাই, একে প্রশ্ন করে লিংকসহ লাইভ ওয়েব ফল থেকে গড়া উত্তর পেতে পারেন। দুই দশকে গুগলের মূল পণ্যের প্রথম বিশ্বাসযোগ্য চ্যালেঞ্জ এটি, আর গুগলের জবাব এল দশ দিনের মধ্যে—উন্মোচন হিসেবে নয়, পরীক্ষা হিসেবে, গুগল অ্যাপের বেটা বিল্ডে দেখা আর ম্যাশেবলের প্রতিবেদনে।
পরীক্ষাটি যা করে
গুগল অ্যাপে আজকের ভয়েস সার্চ প্রতি ট্যাপে একটি প্রশ্ন: মাইক্রোফোন চাপুন, বলুন, ফল পান, আর পরের প্রশ্নে মাইক্রোফোন আবার চাপুন। পরীক্ষামূলক বিল্ডে মাইক্রোফোন খোলা থাকে। প্রশ্ন করুন, ফল দেখুন, তারপর একই নিশ্বাসে ফলো-আপ করুন—‘আর এগুলোর কোনটি এখন খোলা?’—আর গুগল সদ্য দেখানোটির প্রসঙ্গে উত্তর দেয়। কথা বলতে বলতে ফল আসে, চ্যাটবটের অনুচ্ছেদের বদলে সাধারণ সার্চ ফল ও এআই ওভারভিউ হিসেবে। এটি চ্যাটবট না হয়ে কথোপকথনের মতো আচরণ করা সার্চ।
জেমিনি লাইভ থেকে যেভাবে আলাদা
গুগলের ইতিমধ্যে মুখের কথোপকথনের এআই আছে: আগস্টে আসা জেমিনি লাইভ, যা কৃত্রিম কণ্ঠে পাল্টা কথা বলে। পার্থক্য যা ফেরে তাতে। জেমিনি লাইভ দেয় একটি উত্তর; ভয়েস-সার্চের পরীক্ষা দেয় ফল—লিংক, তালিকা, মানচিত্র, দাম—যার ওপর গুগলের বিজ্ঞাপন ব্যবসা গড়া আর যাকে জেমিনির উত্তর হুমকি দেয়। পরীক্ষাটি গুগলের চেষ্টা সার্চকেই কথোপকথনের মতো করার, যাতে যন্ত্রের সঙ্গে কথা বলার অভ্যাস বিজ্ঞাপন না দেখানো অ্যাপে না সরে।
সময়
সুবিধাটি কবে, বা আদৌ, আসবে গুগল বলেনি; কোম্পানিটি অনেক কিছু পরীক্ষা করে যা কখনো আসে না। কিন্তু ক্রম—৩১ অক্টোবর চ্যাটজিপিটি সার্চ, কয়েক দিনে কথোপকথনের সার্চ পরীক্ষা—গত দুই বছরের ধরন, যাতে গুগল সার্চের প্রায় প্রতিটি সুবিধা এসেছে ওপেনএআইয়ের ঘোষণার পিছু পিছু। প্রতিযোগিতা ব্যবহারকারীর জন্য ভালো। এ কারণেই সার্চ ২০২২-এর চেয়ে ভালো।
বাংলা কোথায়
গুগলের ভয়েস শনাক্তকরণ বাংলা সমর্থন করে, বছরের পর বছর ধরে; বাংলায় মুখের প্রশ্ন অ্যাপে আজই কাজ করে। কথোপকথনের পরীক্ষাটি করে কি না জানা নেই—এমন সুবিধা সাধারণত ইংরেজিতে আসে আর পরে ভাষা যোগ হয়—আর ফলো-আপ যার ওপর নির্ভর করে সেই গুগলের এআই ওভারভিউ বাংলা সার্চে এখনো আসে না। কথোপকথন, যখন আসবে, আগে ইংরেজিতে।
বাংলায় ভয়েস সার্চ কখনো ভালো চলেনি কেন
লেখাটি বলছে কথোপকথনটি আগে আসবে ইংরেজিতে। পথে কী দাঁড়িয়ে আছে, তা নিয়ে নির্দিষ্ট হওয়া দরকার—কারণ সমস্যা একটি নয়, তিনটি; আর এর কেবল একটি তথ্যের পরিমাণ নিয়ে।
ভাষা মেশানো। বাংলাদেশিরা মাইক্রোফোনে একটি ভাষায় কথা বলেন না। আসল প্রশ্নটি হলো ‘আমি একটা good quality camera phone খুঁজছি under 30 thousand’—বাংলা বাক্যগঠন, ইংরেজি বিশেষ্য, ইংরেজি সংখ্যা। বাংলায় প্রশিক্ষিত শনাক্তকারী ইংরেজি অর্ধেকে ব্যর্থ হয়, আর ইংরেজিতে প্রশিক্ষিতটি বাকিটায়; একটি বাক্যে দুটিই একসঙ্গে সামলানো যেকোনো একক ভাষার চেয়ে কঠিন সমস্যা।
থিতু প্রতিবর্ণীকরণ নেই। একই জায়গা বা পণ্য রোমান হরফে লেখা হয় পাঁচভাবে, আর বাংলায় দুই-তিনভাবে; ফলে নির্ভুল প্রতিলিপিও সার্চের সূচিবদ্ধ করা লেখার সঙ্গে না-ও মিলতে পারে।
উপভাষার বিস্তার। চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও ঢাকার স্বরধ্বনি ও শব্দভান্ডারে এতটা পার্থক্য যে মূলত ঢাকার কথায় প্রশিক্ষিত মডেল অন্যত্র লক্ষণীয়ভাবে দুর্বল হয়—আর যে প্রশিক্ষণ-রেকর্ডিং আছে, তা বিপুলভাবে ঢাকার।
এর কিছুই অসমাধেয় নয়; সবটাই খরচসাপেক্ষ, আর খরচ হয় যেখানে বিজ্ঞাপনের আয়। ইতিমধ্যে ব্যবহারিক বিকল্পটি নিরাভরণ: প্রশ্নটি লিখে ফেলুন, আপনি আসলে যে মিশ্রণে ভাবেন সেই মিশ্রণেই।
সূত্র: ম্যাশেবল, প্রথম আলোর বরাতে।




