চলন্ত গাড়িতে ফোন পড়লে বড় একাংশ মানুষের বমি ভাব হয়, আর কারণ মাথার ভেতরের একটি মতভেদ। না-নড়া পর্দায় স্থির চোখ জানায় স্থিরতা; ত্বরণ টের পাওয়া অন্তঃকর্ণ জানায় গতি। দুটি গল্প পাওয়া মস্তিষ্ক করে যা বিষক্রিয়া সন্দেহ করলে করে: আপনাকে বমি ভাব দেয়। অ্যাপল আইওএস ১৮-এ সমস্যাটি ধরে ভেহিকল মোশন কিউস দিয়ে, আর গুগল এখন একই জিনিস অ্যান্ড্রয়েড ১৬-তে গড়ছে মোশন কিউস নামে।
যেভাবে কাজ করে
সুবিধাটি চালু থাকলে পর্দার কিনার বরাবর ছোট বিন্দু আসে। গাড়ি ত্বরণ, ব্রেক বা মোড় নিলে বিন্দুগুলো গতির দিকে চলে, ফোনের অ্যাক্সিলারোমিটার ও জাইরোস্কোপ ব্যবহার করে। চোখ এখন এমন নড়াচড়া দেখে, যা অন্তঃকর্ণের অনুভূতির সঙ্গে মেলে, দুই গল্প একমত হয়, আর বেশির ভাগের বমি ভাব শুরু হয় না—বা অনেক পরে হয়। বিন্দুগুলো কনটেন্টের বাইরে বসে আর উপেক্ষা করার মতো আবছা; এগুলো প্রান্তিক সংকেত, তাকানোর কিছু নয়।
কোথায় আছে
অ্যান্ড্রয়েড অথরিটি পরীক্ষামূলক বিল্ডে সুবিধাটি পেয়েছে। চালু হয় কুইক সেটিংস টাইল থেকে, আর ফোনে ‘অন্য অ্যাপের ওপর প্রদর্শন’ অনুমতি থাকলে ভ্রমণ টের পেলে নিজে চালু আর থামলে বন্ধ হতে পারে। গুগল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি; অ্যান্ড্রয়েড ১৬ আসছে সাধারণের চেয়ে আগে, ২০২৫-এর দ্বিতীয় প্রান্তিকে, আর সুবিধাটি তার সঙ্গে বা আগে পিক্সেল ফিচার ড্রপে আসার আশা।
কাজ করে?
কৌশলটির গবেষণার ইতিহাস আছে: যানবাহনের গতির সঙ্গে মেলা দৃশ্য সংকেত ড্রাইভিং সিমুলেটর ও গাড়ির গবেষণায় উপসর্গ কমাতে দেখা গেছে, আর অ্যাপলের সংস্করণের ব্যবহারকারীরা বলেন সাহায্য করে, বিশেষত মসৃণ মহাসড়কে। সবার জন্য কাজ করে না, আর গতি প্রচণ্ড হলে—মৃদু বাঁকের বদলে হঠাৎ মোড়—কম কাজ করে।
ঢাকার সতর্কতা
যা আমাদের আনে বাসে। মোশন কিউস নকশা করা এমন নড়াচড়ার জন্য, যা সেন্সর ট্র্যাক করতে আর চোখ অনুসরণ করতে পারে: বাঁকওয়ালা রাস্তায় গাড়ি। স্টপের মাঝে ঝাঁকুনি খাওয়া ঢাকার লোকাল বাস, গতিতে সিএনজি অটোরিকশা, বা পদ্মায় লঞ্চ এমন ঝাঁকি দেয়, যা বিন্দুগুলো বিশ্বস্তভাবে ফুটিয়ে তুলবে—যাতে কোনো স্বস্তি না-ও থাকতে পারে। ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে শীতাতপ কোচে এটি ক্যালিফোর্নিয়ায় যা করে তা-ই করবে। মিরপুর দিয়ে ৬ নম্বর বাসে পুরোনো পরামর্শই থাকে: জানালা দিয়ে বাইরে তাকান।
এটির অপেক্ষায় থাকতে যা সাহায্য করে
সুবিধাটি যে বিরোধটি সামলায়, তা কমে এমন কয়েকটি জিনিসে, যেগুলোর কোনো খরচ নেই; আর ঢাকা–চট্টগ্রাম সড়কে যাঁর বমি ভাব হয়, তিনি কয়েকটি আগেই জানেন।
সামনে দেখা যায় এমন জায়গায় বসুন। সামনের আসন কাজ করে, কারণ দিগন্ত আপনার চোখকে সেই গতিটিই দেয়, ভেতরকান যা জানাচ্ছে। বাসের পাশের জানালা সবচেয়ে খারাপ অবস্থা: সবকিছু পাশ দিয়ে ছুটে যায়, যা দিকহীন গতি।
শব্দে চলে যান। এটিই সৎ উত্তর, আর সুবিধাটি এর চেয়ে খারাপ বিকল্প। পডকাস্ট, বা ফোনের স্ক্রিন রিডারে পড়ে শোনানো কোনো নথি, বিরোধটি পুরোপুরি সরিয়ে দেয়—কারণ আপনার চোখ তখন জানালার বাইরে তাকাতে স্বাধীন।
মুখে ঠান্ডা বাতাস, আর একেবারে খালি বা ঠাসা পেটে না পড়া। দুটিই সুপ্রতিষ্ঠিত, আর কোনোটিই জটিল নয়।
আর ফোনের জন্য নির্দিষ্ট একটি কথা: কোলের ওপর নিচে না রেখে ফোনটি উঁচুতে ধরুন, উইন্ডস্ক্রিনের বাইরে তাকানোর রেখার কাছে। পর্দা আর বাইরের দৃশ্যের মধ্যে কোণ ছোট হলে মস্তিষ্কের মেলানোর কাজ কমে যায়।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, প্রথম আলোর বরাতে।




