বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স নিশ্চিত করেছে, সাইবার হামলায় প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদ প্রভাবিত হয়েছে। শিল্পটির ইতিহাসে এটিই বৃহত্তম চুরি, আর অনেক ব্যবধানেই—আগের রেকর্ড ২০২৫ সালে বাইবিট এক্সচেঞ্জে ১৫০ কোটি ডলারের হামলা, যা এর এক-চতুর্থাংশেরও কম।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, চুরি হওয়া সম্পদের প্রায় ৩০০ কোটি ডলার ইতিমধ্যে ব্লকচেইনে আটকে দেওয়া হয়েছে, ক্ষতি মেটাতে নিজেদের ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি তহবিল আলাদা করে রাখা হয়েছে, আর গ্রাহকের স্থিতিতে কোনো প্রভাব পড়েনি। জমা ও উত্তোলন অল্প সময়ের জন্য স্থগিত থেকে আবার চালু হয়েছে।
তারা ঢুকল যেভাবে
বাইন্যান্সের প্রথম বয়ান ছিল সংকীর্ণ: একজন ডেভঅপস প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক হয়েছিল, যাতে আক্রমণকারীরা একটি সার্ভিস কনটেইনারে পৌঁছে অননুমোদিত উত্তোলনের লেনদেন জমা দিতে পেরেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ওয়ালেটের প্রাইভেট-কি বা পাসওয়ার্ড ফাঁস হওয়ার প্রমাণ মেলেনি।
সেই বয়ান টেকেনি। সহপ্রধান নির্বাহী রিচার্ড টেং পরে বলেন, তদন্তে ‘আরও কয়েকটি প্রবেশবিন্দু’ পাওয়া গেছে, কাজটি ‘একজনের করা নয়’, আর আক্রমণকারীরা চালিয়েছে একটি সেলফ-ডেস্ট্রাক্ট ব্যবস্থা, যা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের হাতিয়ার ও চিহ্ন মুছে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, অনুপ্রবেশকারীরা একটি হট ওয়ালেটের পেছনের সাইনিং ব্যবস্থায় পৌঁছেছিল—ইন্টারনেটে যুক্ত যে ওয়ালেট এক্সচেঞ্জ দৈনন্দিন লেনদেনে ব্যবহার করে—আর তাকে এমন কিছুতে বদলে দিয়েছিল, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের কাছেই অর্থ পাঠায়।

৩০০ কোটি থামানো গেল, বাকিটা গেল না কেন
এই অংশটিই বোঝার মতো, কারণ কারও হাতে একমাত্র আসল হাতিয়ারটি এটিই ছিল।
যা নেওয়া হয়েছে তার কিছু ছিল স্টেবলকয়েন—ডলারে বাঁধা টোকেন, যা ইস্যু করে একটি কোম্পানি। টেথারের প্রধান নির্বাহী পাওলো আরদোইনো জানান, হামলার সঙ্গে যুক্ত ১৫০ কোটি ডলারের বেশি আটকানো হয়েছে; সার্কেলের জেরমি অ্যালেয়ার বলেন ৮০ কোটি ডলারের বেশি। দুজনেই তা পারেন, কারণ স্টেবলকয়েন শেষ বিচারে ইস্যুকারীর নিয়ন্ত্রণে থাকা খতিয়ানের একটি ভুক্তি। তাঁরা একটি ঠিকানা কালো তালিকাভুক্ত করতে পারেন, আর তাতে থাকা টোকেন নড়া বন্ধ করে।
বিটকয়েনে এমন কোনো সুইচ নেই। কেউ এটি ইস্যু করে না, কেউ আটকাতেও পারে না—যে ধর্মটির জন্যই এর ধারকেরা একে মূল্য দেন, আর ঠিক সে কারণেই চোরেরা এতেই রূপান্তর করে। পথ অনুসরণ করা সম্ভব—টিআরএম ল্যাবস ও চেইনালাইসিসের মতো প্রতিষ্ঠান করেও—তবে অনুসরণ করা মানে থামানো নয়।
তাই এই চুরির আটকানো অর্ধেকটি মাপ দেয়, ‘ক্রিপ্টো’র কতটা এখন কেন্দ্রীয় পরিচালকসহ হাতিয়ারে চলে; আর না-আটকানো অর্ধেকটি মাপ দেয়, কতটা চলে না।
এখানে এর মানে
এখানে ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচার কোনো আইনি অবস্থান নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০১৪ সালে প্রথম এ নিয়ে সাবধান করে, আর সেই অবস্থান পরেও বারবার জানিয়েছে; প্রয়োগের হাতিয়ার বিদেশি মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, যাতে এভাবে দেশের বাইরে মূল্য নেওয়া বাণিজ্য নয়—অপরাধ।
এর মানে নয় যে এখানে কেউ এটি রাখেন না। পিটুপি হস্তান্তরে চলে বড় একটি অনানুষ্ঠানিক বাজার, যার নিষ্পত্তি প্রায়ই হয় মোবাইল আর্থিক সেবায়; আর রেমিট্যান্সব্যবস্থা এড়াতে ফ্রিল্যান্সিংয়ের আয়ের ভালো একটি অংশ রাখা হয়েছে স্টেবলকয়েনে। যাঁরা তা করছেন, তাঁদের এই খবরটি মন দিয়ে পড়া উচিত একটি কারণেই: ফেরার কোনো পথ নেই। বাইন্যান্স গ্রাহকের ক্ষতি মেটাচ্ছে, কারণ তারা তা বেছে নিয়েছে আর সামর্থ্য আছে। যে বাংলাদেশির অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যায়, তাঁর নালিশ করার কোনো নিয়ন্ত্রক নেই—কারণ নিয়ন্ত্রক যে কাজটিকে রক্ষা করত, সেটিই সে নিষিদ্ধ করে রেখেছে।
অর্থ খুঁজে বের করা ও ফিরিয়ে আনার কাজে এরপর যোগ দিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা, আর কয়েকটি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান হামলাটিকে যুক্ত করেছে উত্তর কোরিয়ার একটি দলের সঙ্গে—দুটি অগ্রগতিই পোক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আলাদা করে লেখা হয়েছে।




