অনুপ্রবেশ নিশ্চিত করার এক দিন পর কতটা তারা থামাতে পেরেছে, তার অঙ্ক দিয়েছে বাইন্যান্স: প্রায় অর্ধেক। রেকর্ড ৬৩০ কোটি ডলারের লুটের বাকি অংশ এখনো অশনাক্ত আক্রমণকারীদের হাতে, আর তার খোঁজে এবার নেমেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরাও।
পিছু নিয়েছে কারা
আর্থিক অপরাধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কেন্দ্রীয় সংস্থা মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস বলছে, চুরি যাওয়া অর্থ খুঁজে বের করা, জমা করে দেওয়া, পথ ধরে এগোনো আর ফিরিয়ে আনার কাজ তারা রাতদিন চালিয়ে যাচ্ছে; সঙ্গে তাদের ঘোষণা—দায়ী সাইবার অপরাধীদের তারা চিহ্নিত করে বিচারের মুখে দাঁড় করাবে। বাইন্যান্স বলছে, তারা এফবিআইয়ের সঙ্গেও কাজ করছে।
বাইন্যান্সের মার্কিন এক্সচেঞ্জ আক্রান্ত হয়নি, তবু মার্কিন এলাকাধিকার খাটে: চুরিতে জড়িয়ে আছে টেথার ও সার্কেলের ইস্যু করা ডলারে বাঁধা স্টেবলকয়েন, দুটিই মার্কিন-সংশ্লিষ্ট; আর এ ধরনের উদ্ধার বাস্তবে এক দেশের নয়, বিশ্বজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ কাজ।

অনুপ্রবেশ নিয়ে কোম্পানি যা স্বীকার করেছে
সহপ্রধান নির্বাহী রিচার্ড টেং প্রথম ব্যাখ্যাটি থেকে ধাপে ধাপে সরে এসেছেন। ‘এটি একজনের করা নয়,’ তিনি এখন বলছেন; আর প্রথমে দায়ী করা একক যন্ত্রটির জায়গা নিয়েছে একাধিক পথে ঢোকার স্বীকারোক্তি।
তিনি আরও জানিয়েছেন, আক্রমণকারীদের হাতে ছিল নিজেকে ধ্বংস করে দেওয়ার একটি কৌশল—পথ ধরে এগোতে এগোতেই তারা নিজেদের যন্ত্রপাতি ও পায়ের ছাপ মিলিয়ে দিয়েছে, আর তাতে তদন্ত কঠিন হয়েছে। পেশাদারেরা এই খুঁটিনাটিটিই লক্ষ করবেন: চলার পথে নিজের পেছনটা পরিষ্কার করে যাওয়া সুযোগসন্ধান নয়, কারিগরি দক্ষতা—আর তা এমন একটি দলের সঙ্গেই মেলে, যারা তদন্তের মুখে পড়ার কথা ধরেই রেখেছিল।
বাজারের প্রতিক্রিয়াই ব্যাখ্যা করার মতো অংশ
গ্রাহকের ক্ষতি মেটানো হলো, আর বাজার তবু পড়ল। নিউইয়র্কে শুক্রবার বিকেলের লেনদেনে বিটকয়েন ৫ শতাংশ পড়ে নামে ৭৬,৮০০ ডলারে। জড়িত না থাকা প্রতিদ্বন্দ্বী এক্সচেঞ্জ কয়েনবেস পড়ে ১২ শতাংশ—আংশিকভাবে নিজের আর্থিক ফলের কারণে, যা প্রত্যাশার সামান্য নিচে এসেছে। রবিনহুডও পড়েছে।
এটি অযৌক্তিক নয়। এই মাপের চুরি বাইন্যান্সের গ্রাহকদের ক্ষতিকে দামে ধরে না; দামে ধরে এই আবিষ্কারটিকে—শিল্পের বৃহত্তম ও সবচেয়ে সম্পদশালী এক্সচেঞ্জে একসঙ্গে একটির বেশি দরজা দিয়ে ঢোকা যায়। বাইন্যান্সের ক্ষেত্রে তা সত্যি হলে বাজারকে জিজ্ঞেস করতেই হয়, এর চেয়ে ছোট সবার ক্ষেত্রে কী সত্যি—আর উত্তরটি অজানা, যা পড়তে থাকা দাম ঠিক সেটিই প্রকাশ করে।
এখানকার পাঠকের জন্য ব্যবহারিক পাঠটি হামলা নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে বদলায়নি: বাংলাদেশে লাইসেন্সধারী কোনো এক্সচেঞ্জ নেই, আমানতের সুরক্ষা নেই, আর নালিশটি নেবে এমন কোনো কর্তৃপক্ষও নেই।
‘প্রতিটি ক্ষতি মেটানো’ বাইন্যান্সকে আসলে কী করতে বাঁধে
কথাটি দেখতে যতটা, কাজ করছে তার চেয়ে বেশি। ব্যাংকের মতো বিমার সুরক্ষা বাইন্যান্সের এতে নেই; তারা দিচ্ছে জমানো মুনাফা আর আগেই নিজেদের হাতে থাকা টোকেন থেকে। এটি সম্ভব কারণ তারা বিশ্বের বৃহত্তম এক্সচেঞ্জ আর অত্যন্ত লাভজনক; আর সে কারণেই প্রতিশ্রুতিটি এখানে বিশ্বাসযোগ্য, আর ছোট কোনো পরিচালকের কাছ থেকে হতো না।
আর এটি একবারের ব্যাপার। একটি চুরির পরে দেওয়া প্রতিশ্রুতি স্থায়ী নিশ্চয়তা নয়, আর এতে কোম্পানিটি আবার একই কাজ করতে বাঁধা পড়ছে না। ‘বাইন্যান্স ক্ষতি মেটায়’—এটিকে প্ল্যাটফর্মের সুবিধা ধরা মানে একটি সংবাদ বিবৃতিকে নীতিমালা হিসেবে পড়া।




