বৃহস্পতিবার অ্যালফাবেট বাজারমূল্যে হারিয়েছে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি—মোট মূল্য ৩.৯৭ ট্রিলিয়ন থেকে নেমে এসেছে ৩.৪৬ ট্রিলিয়নে—এ কথা বলার পর যে সার্চ ফলাফলের ওপরে তারা এখন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সারসংক্ষেপ বসাচ্ছে, তা ওই ফলাফলের বহন করা বিজ্ঞাপনের আয়ে কাটছে।
প্রধান ব্যবসা কর্মকর্তা ফিলিপ শিন্ডলার বলেন, কথোপকথনের ঢঙে উত্তর দেওয়া গুগলের ‘এআই মোড’ সেই অর্থে কাটছে, যা আসে চিরাচরিত সার্চ ফলাফলের পাশে দেখানো বিজ্ঞাপন থেকে। সঙ্গে তিনি যোগ করেন, নিজেদের ‘গতিপথ নিয়ে তিনি খুব ভালো বোধ করছেন’।
ফলাফল ভালোই ছিল
আর সে কারণেই পতনটি কৌতূহলোদ্দীপক। সেপ্টেম্বরের শেষে শেষ হওয়া তিন মাসে মোট আয় বছরওয়ারি ২৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১২,৭৬০ কোটি ডলার। সাধারণ যেকোনো মাপেই এটি শক্ত একটি প্রান্তিক।
তবে বিজ্ঞাপন শাখার অঙ্ক বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার নিচে এসেছে, আর শেয়ার ১২ শতাংশের বেশি পড়ে ছয় মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। ফরেস্টারের প্রধান বিশ্লেষক ট্রেসি উ বলেন, সার্চের হতাশ করা অঙ্ক ‘প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার শক্তি ধরে রেখে বিপুল এআই বিনিয়োগের খরচ জোগানোর চ্যালেঞ্জটিই সামনে আনে’। অ্যালফাবেট এ বছর ২০,৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত খরচের আশা করছে, যার প্রায় পুরোটাই এআইতে।

একটি কোম্পানি নিজের সঙ্গে এটি করবে কেন
গুগলের বিজ্ঞাপন ব্যবসা একসময় চালানো কিম স্কট বিবিসির টুডে অনুষ্ঠানে কথাটি এক লাইনেই বলেছেন: কোম্পানিটি ‘অন্য কাউকে নিজের ভাত খেতে দেওয়ার চেয়ে নিজের ভাত নিজে খাওয়াই পছন্দ করবে’।
পুরো কৌশলটি এটিই। প্রশ্ন নিয়ে মানুষ যেখানে যায়—গুগলের সেই অবস্থান সরাসরি আক্রমণের মুখে চ্যাটজিপিটি ও ক্লডের কাছ থেকে; আর একমাত্র প্রতিরক্ষা হলো একইভাবে উত্তর দেওয়া—যার মানে পাশে বিজ্ঞাপন থাকা দশটি নীল লিংকে দর্শনার্থীকে না পাঠিয়ে পাতাতেই উত্তর দেওয়া। যে বিজ্ঞাপনের জায়গাগুলো গুগলকে ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক বিজ্ঞাপন ব্যবসা বানিয়েছে, সেগুলো আছে কারণ সার্চ ছিল একটি তালিকা। উত্তর তালিকা নয়।
তাই প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছাকৃতভাবেই নিজের খরচ জোগানো ব্যবস্থাটির ক্ষতি করছে—এই ভাবনায় যে বিকল্পটি হলো ব্যবস্থাটি কেড়ে নেওয়া হওয়া। স্কটের পাঠ হলো, গুগল যা বরাবর করেছে তা-ই করছে—দূরের বাজি, যা অল্প সময়ে ব্যথা দেয়।
যাঁরা প্রকাশ করেন, তাঁদের জন্য এর মানে
এটি কেবল অ্যালফাবেটের শেয়ারদরের খবর নয়। যে বদল একটি বিজ্ঞাপনের জায়গা সরায়, সেটিই একটি ক্লিকও সরায়; আর খোলা ওয়েবের প্রতিটি প্রকাশকের আয় আসে সেই ক্লিক থেকেই—এই সাইটটিরও।
ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ প্রিন্স এ মাসে বলেছেন, গুগলের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সার্চ এখন কোনো ক্লিক ছাড়াই শেষ হয়। গতিপথ যদি সেটিই হয়, তবে বাংলাদেশের কোনো সংবাদ সাইট, রান্নার সাইট বা দাম-তুলনার সাইট ট্রাফিকের এমন পতনের মুখে নেই, যা ঘষামাজা করে সামলানো যায়; তারা মুখোমুখি সেই কারণটির অপসারণের, যে কারণে সার্চ ইঞ্জিন তাদের পাঠক পাঠাত। যাঁদের সরাসরি দর্শক আছে—একটি অ্যাপ, নিউজলেটার, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল, প্রশ্নের বদলে নাম ধরে আসা অনুসারী—দাঁড়ানোর জায়গা তাঁদেরই আছে।
একই সপ্তাহে ফল জানিয়েছে মাইক্রোসফট ও অ্যামাজন, দুটিই এআইতে বিপুল খরচের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা তাদেরও নামিয়েছে, আর অ্যামাজন জানিয়েছে ৪,২০০ কোটি ডলারের ঋণাত্মক নগদ প্রবাহ—তিন মাসে ছয় গুণ বৃদ্ধি।




