পশ্চিমা গাড়ি নির্মাতারা দুই বছর চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে দুশ্চিন্তায় কাটিয়েছে। রোববার বেইজিংয়ে শেষ হওয়া পাঁচ দিনের ওয়ার্ল্ড রোবট সম্মেলন তাদের দুশ্চিন্তার দ্বিতীয় বিষয় দিল। দুই ডজনের বেশি চীনা কোম্পানি দেখাল মানবাকৃতির রোবট—দুই হাত, দুই পা, ধড় ও মাথা, গাড়ির কারখানায় বা গুদামে একজন মানুষের কাজ করতে গড়া—আর হলের শিল্পোদ্যোক্তারা, রয়টার্সের বর্ণনায়, বেরোলেন এগুলো কত দূর এসেছে দেখে চমকে।
যা দেখানো হলো
রোবটগুলো হাঁটল, যন্ত্রাংশ বাছল, বাক্স বইল আর, ভিড় টানা প্রদর্শনীতে, নকল সংযোজন লাইনের স্টেশনে কাজ করল। বেইজিংয়ের লিডলিও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আরজেন রাও বলেন, চীনের হিউম্যানয়েড বিশেষভাবে শিল্প ও উৎপাদনের জন্য গড়া হচ্ছে, আর রাষ্ট্রের ‘নতুন উৎপাদনশীল শক্তি’ ধাক্কার অংশ হিসেবে নতুন রোবট কারখানা খুলছে। যে সংখ্যা জরুরি, তা এল সাংহাইয়ের কেপলার এক্সপ্লোরেশন রোবোটিকসের প্রধান নির্বাহী হু ডেবোর কাছ থেকে: তাঁর কোম্পানি নিজের কারখানার মেঝেতে পঞ্চম প্রজন্মের রোবট পরীক্ষা করছে আর তা বেচতে চায় ৩০ হাজার ডলারের নিচে। টেসলা অপটিমাসের জন্য ২০–৩০ হাজার ডলারের কথা বলেছে, কিন্তু একটিও পাঠায়নি।
টেসলা যেভাবে শুরু করল
পথটি ফেরে ২০১৯-এ, যখন টেসলা সাংহাই গিগাফ্যাক্টরি খোলে আর চীনা ইভি ও রোবোটিকস সরবরাহকারীতে বিনিয়োগের ঢেউ তোলে। ২০২১ সালে ইলন মাস্ক অপটিমাস ঘোষণা করে বলেন রোবটটি শেষমেশ গাড়ির ব্যবসার চেয়ে বেশি জরুরি হবে; টেসলার পদ্ধতি—সেলফ-ড্রাইভিং সফটওয়্যারের একই এআই স্ট্যাকে রোবটকে প্রশিক্ষণ—ছাঁচ বসায়। চীনা বিশ্লেষকেরা মানেন, ভিডিও থেকে রোবটকে নতুন কাজ শেখানো এআইয়ে টেসলা এখনো এগিয়ে। চীনা প্রতিষ্ঠানের হাতে সরবরাহ শৃঙ্খল: হিউম্যানয়েডের খরচের বেশির ভাগ গড়া মোটর, রিডিউসার, ব্যাটারি ও সেন্সর সেই একই উপাদান, যা ইভিতে যায়, আর চীন তার প্রায় সব বানায়।
বাজার
গোল্ডম্যান স্যাক্স জানুয়ারিতে পূর্বাভাস তোলে ২০৩৫ সালের মধ্যে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের হিউম্যানয়েড বাজারে, আগের হিসাবের ছয় গুণ, উপাদানের দাম প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত পড়ার কারণে। প্রথম ক্রেতা হবে পুনরাবৃত্ত, বিপজ্জনক বা লোক পাওয়া কঠিন কাজের কারখানা—যে কারণে বেইজিংয়ের প্রায় প্রতিটি রোবট দেখানো হলো বাক্স তুলতে।
বাংলাদেশ কেন দেখবে
বাংলাদেশের দুটি বৃহত্তম রপ্তানি পোশাক ও মানুষ। তিন শিফট চলা ৩০ হাজার ডলারের হিউম্যানয়েড দুটিরই নতুন ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বী: গাজীপুরের সেলাই মেঝের কর্মীর, যাঁর মালিকের ক্রেতারা সেই একই কোম্পানি যারা বেইজিং যায়; আর উপসাগর বা মালয়েশিয়ার গুদামের অভিবাসীর, যাঁর রেমিট্যান্স জাতীয় অর্থনীতির এক-পঞ্চমাংশ। প্রযুক্তি এখনো সেখানে নেই—প্রদর্শনীগুলো সাজানো ছিল, আর নির্ভরযোগ্যভাবে টি-শার্ট ভাঁজ করা রোবট নেই—কিন্তু দামের বক্ররেখা সেটিই, যা চীনা ইভিকে পাঁচ বছরে কৌতূহল থেকে আধিপত্যে নিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, প্রথম আলোর বরাতে।




