প্রযুক্তি

চীনের যে কারখানায় রোবট বানায় রোবট: প্রতি দশ মিনিটে একটি হিউম্যানয়েড, বছরে ১০ হাজার

লিউঝোতে ইউবিটেকের নতুন কারখানায় নিজেদের ক্রুজার রোবটই উপকরণ পৌঁছে দেয় সেই লাইনে, যেখানে তৈরি হয় ওয়াকার এস হিউম্যানয়েড। প্রতিটি রোবট পায় আলাদা সিরিয়াল নম্বর, চার ঘণ্টার পরীক্ষা, আর গুদামে যায় চালকবিহীন ফর্কলিফটে।

চীনের যে কারখানায় রোবট বানায় রোবট: প্রতি দশ মিনিটে একটি হিউম্যানয়েড, বছরে ১০ হাজার

দক্ষিণ চীনের গুয়াংশি অঞ্চলের শিল্পশহর লিউঝোতে রোবট নির্মাতা ইউবিটেক রোবোটিকস এমন একটি কারখানা চালু করেছে, যার শ্রমিকদের বড় অংশই তাদের নিজেদের পণ্য। কারখানাটি শিল্পে ব্যবহারের হিউম্যানয়েড বা মানবাকৃতির রোবট বানায়, আর ভেতরের আনা-নেওয়া, বহন আর সরানোর কাজের বড় অংশও করে রোবট। ইউবিটেকের দাবি: প্রতি দশ মিনিটে একটি করে শিল্পে ব্যবহারযোগ্য হিউম্যানয়েড লাইন থেকে বের হয়।

সংখ্যায়

ভবনটির আয়তন ১৪ হাজার বর্গমিটার, উচ্চতা ১৩ দশমিক ৮ মিটার, আর বছরে ১০ হাজার রোবট তৈরির সক্ষমতা। এখানে তৈরি হয় ইউবিটেকের ওয়াকার এস সিরিজ—পূর্ণ আকারের হিউম্যানয়েড, যা কোম্পানিটি গাড়ির কারখানায় বসাচ্ছে—আর চাকাওয়ালা সার্ভিস রোবট ক্রুজার সিরিজ। লাইন থেকে বের হওয়া প্রতিটি রোবটের আলাদা সিরিয়াল নম্বর থাকে, ফলে প্রথম স্ক্রু থেকে সরবরাহ পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট রোবটের যন্ত্রাংশ ও পরীক্ষার ফল খুঁজে বের করা যায়।

রোবট যেভাবে রোবট বানাতে সাহায্য করে

ইউবিটেকের তথ্যমতে, ক্রুজার ওয়াই১ ও ক্রুজার এস২ রোবট লজিস্টিকসের কাজ সামলায়: উপকরণ নামানো, সাজিয়ে রাখা, লাইনের ঠিক জায়গায় পৌঁছে দেওয়া আর এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনে সরানো। অর্থাৎ যে যন্ত্রাংশ দিয়ে নতুন রোবট হবে, সেগুলো সংযোজন লাইনে নিয়ে আসে আগেই একই রকম লাইন থেকে বের হওয়া রোবট। সংযোজনের বড় অংশও করে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র; কোম্পানির ভাষ্য, এতে মেঝেতে মানুষের সরাসরি তদারকির প্রয়োজন কমে।

সংযোজন শেষ হলেই রোবট পাঠানো হয় না। প্রতিটির পুরো যন্ত্রের কার্যকারিতা ও মান পরীক্ষা চলে চার ঘণ্টার বেশি। তৈরি রোবট স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুদামে যায়, আর বাড়তি উপকরণ সরিয়ে নেয় চালকবিহীন ফর্কলিফটসহ নানা মানুষবিহীন যন্ত্র।

বড় ছবিটা

এই কারখানা এক বিশাল প্রবণতার একটি বিন্দু মাত্র। চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে শুধু গত জুলাইয়ে দেশটিতে ৯৮ হাজার ৬৭৭টি শিল্প রোবট তৈরি হয়েছে, যা আগের বছরের একই মাসের চেয়ে বেশি; সরকার হিউম্যানয়েড রোবটকে কৌশলগত শিল্প ঘোষণা করেছে। হংকংয়ে তালিকাভুক্ত ইউবিটেকের প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনিট্রি, অ্যাজিবটসহ ডজনখানেক অর্থপুষ্ট স্টার্টআপ—সবার দৌড় একটাই: একটি কর্মক্ষম হিউম্যানয়েডের দাম নামিয়ে আনা সেই শ্রমিকের এক বছরের মজুরির নিচে, যাকে সে প্রতিস্থাপন করবে। নিজেদের রোবট দিয়ে লজিস্টিকস চালিয়ে বড় পরিসরে রোবট বানানোর কারখানাই সেই দাম কমানোর পথ।

আমাদের জন্য এর মানে

বাংলাদেশের কারখানায় শিগগির হিউম্যানয়েড আসছে না; পোশাকশিল্পের বেশির ভাগ কাজে অর্থনীতি এখনো মানুষের পক্ষে, আর ইউবিটেকের রোবটের লক্ষ্য গাড়ি ও ইলেকট্রনিকসের কারখানা। কিন্তু লিউঝোতে যে চাকাওয়ালা ক্রুজার-ধাঁচের রোবট আনা-নেওয়া করছে, ঢাকার কয়েকটি বড় পোশাক কারখানায় কাপড়ের রোল টানার কাজে ঠিক সেই ধরনের যন্ত্রই এরই মধ্যে চলছে—আর চীনা লাইন যত বছর চলে, সেগুলোর দাম তত কমে। বাংলাদেশের কারখানার বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি যে দেশ জোগায়, সেই দেশ এখন এমন যন্ত্র বানাচ্ছে যা যন্ত্র বানায়; এর অন্য প্রান্তে থাকা শ্রমিকদের সেগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়, সেগুলো চালানো শিখতে হবে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।