হিউম্যানয়েড রোবটের ইতিহাসের বেশির ভাগ সময় চমকপ্রদ জিনিসটি ছিল যে তারা আদৌ হাঁটতে পারে। এ সপ্তাহে চীনা কোম্পানি ইউনিট্রি রোবোটিকস একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যাতে তাদের এইচ১ ইভল্যুশন ভি৩.০ দৌড়ায়—সত্যিকারের দৌড়, দুই পা মাটির ওপরে—ঘণ্টায় ১১ মাইল বা ১৭.৭ কিলোমিটারে। দুই পায়ের কোনো হিউম্যানয়েড এত দ্রুত যায়নি, আর এটি মোটামুটি জোরে জগিং করা সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের গতি।
রোবটটি কী
এইচ১-এর উচ্চতা ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি, ওজন ৫০ কেজির কম। এটি নিজে ভারসাম্য রাখে, মানুষের পায়ের মতো হাঁটু ও গোড়ালি ভাঁজ করে, আর তা দিয়ে সিঁড়ি ওঠে ও নামে। ভিডিওতে এটি গানের তালে নাচে, দৌড়ায়, আর এক জায়গায় পেছনে তাকিয়ে সামনে দৌড়ায়। সেন্সর ও ক্যামেরা একে বাধা এড়াতে আর কোম্পানির ভাষায় কঠিন কাজ সামলাতে দেয়; হাঁটার গতি প্রায় ৭.৪ মাইল। ইউনিট্রি বলেছে, রোবটটি কয়েক মাসের মধ্যে বাড়ি, কর্মস্থল ও কারখানায় ব্যবহারযোগ্য হবে, আর দাম বলেছে ৯০ হাজার ডলারের কাছাকাছি—বিস্তর টাকা, আর তুলনীয় গবেষণা রোবটের এক দশক আগের দামের প্রায় দশ ভাগের এক।
গতি কেন জরুরি
দৌড়ানো কাজ নয়। জগিং করা রোবট কারও দরকার নেই। দৌড়ানো হিউম্যানয়েড যা দেখায়, তা নিয়ন্ত্রণ: এমন চলনে ভারী দুই পায়ের শরীরকে ভারসাম্যে রাখা, যাতে প্রতিটি পা মাটি ছাড়ে, পিছলে গেলে সামলে ওঠা, আর বহনযোগ্য হালকা মোটর ও ব্যাটারিতে তা করা। এগুলোই সেই সক্ষমতা, যা রোবটকে অসমান কারখানার মেঝেতে বাক্স বইতে বা লিফটহীন ভবনের সিঁড়ি ভাঙতে দেয়—কোম্পানিগুলো আসলে যে কাজ চায়। বোস্টন ডায়নামিকসের অ্যাটলাস গবেষণা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বছর কয়েক আগে এমন নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছে; ইউনিট্রি দেখাচ্ছে দামের ট্যাগওয়ালা একটি পণ্যে।
চীনের অবস্থান
ইউনিট্রি শুরু করেছিল চার পায়ের রোবট কুকুর বানিয়ে—বোস্টন ডায়নামিকসের স্পটের চেয়ে সস্তা, আর এখন বাংলাদেশের কয়েকটিসহ বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে সবচেয়ে সাধারণ চতুষ্পদ। শাওমি, ইউবিটেক ও অন্যদের পাশাপাশি হিউম্যানয়েডে এর পদক্ষেপের পেছনে ২০২৩ সালে হিউম্যানয়েড রোবটকে কৌশলগত শিল্প ঘোষণা করা জাতীয় নীতি। ফল টেসলার অপটিমাস ও আমেরিকান স্টার্টআপ ফিগারের সঙ্গে এমন এক দৌড়, যেখানে চীনের আছে উৎপাদনের ভিত্তি আর, ক্রমেই, প্রদর্শনীগুলো।
আর বাংলাদেশের জন্য
৯০ হাজার ডলারের রোবট শিগগির কোনো পোশাক কারখানায় হেঁটে ঢুকবে না; একজন সেলাই অপারেটরের খরচ অনেক কম আর চার্জ লাগে না। কিন্তু দিকটি পরিকল্পনা করার মতো স্পষ্ট। এমন যন্ত্র প্রথমে যে কাজ নেয়, তা কেউ চায় না এমন কাজ—ভারী তোলা, রাতের শিফট, বিপজ্জনক ঘর—আর এগিয়ে থাকবে সেই দেশ, যারা মানুষকে রোবটের সঙ্গে প্রতিযোগিতার বদলে রোবট গড়তে, প্রোগ্রাম করতে ও সারাতে প্রশিক্ষণ দেয়।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স, প্রথম আলোর বরাতে।




