২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর সোমবার বঙ্গোপসাগর ধরে বাংলাদেশের উপকূলের দিকে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং; আবহাওয়া অধিদপ্তরের অনুমান, আজ গভীর রাতে এটি উপকূল অতিক্রম করবে, সঙ্গে ৫ থেকে ৮ ফুট জলোচ্ছ্বাস। দেশের বেশির ভাগ জায়গায় এরই মধ্যে বৃষ্টি, বাড়ছে বাতাস। বিদ্যুৎ গেলে আপনার ফোনই আবহাওয়া সেবা। কোথায় দেখবেন, আর কীভাবে টিকিয়ে রাখবেন।
আসল তথ্য কোথায়
- বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর: live4.bmd.gov.bd-তে মানচিত্রে ঘূর্ণিঝড়ের বর্তমান অবস্থান ও সম্ভাব্য গতিপথ, রাডারের ছবি, আর সরকারি সতর্কবার্তা ও নির্দেশনা; bmd.gov.bd-তে বিশেষ বুলেটিন। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসে অধিদপ্তরের বিনা মূল্যের অ্যাপ "BMD Weather"-ও আছে।
- ১০৯০: অধিদপ্তরের টোল-ফ্রি কণ্ঠসেবা, বাংলায়—সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় বুলেটিন ও নদীর সতর্কবার্তা পড়ে শোনায়। যেকোনো ফোনে চলে, ডেটাহীন ফিচার ফোনেও।
- Windy.com: বিশ্বজুড়ে পাইলট ও নাবিকদের ব্যবহৃত বিনা মূল্যের অ্যাপ (অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস) ও ওয়েবসাইট; বাতাস, বৃষ্টি ও চাপের সচল মানচিত্রে ঘূর্ণিঝড়ের কুণ্ডলী আর সম্ভাব্য পথ স্পষ্ট। পূর্বাভাস মডেলের সময় দেখে নিন।
- ওয়েদার চ্যানেল (weather.com ও অ্যাপ)—গতিপথে দ্বিতীয় মত, আর জুম করা যায় এমন স্যাটেলাইট ছবি।
ফেসবুকের পূর্বাভাস, বিশেষ করে নাটকীয় বাতাসের গতির সংখ্যা আর সূত্রহীনগুলো, বিনোদন হিসেবে নিন।
সংকেতের নম্বর পড়া
বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরের সংকেত ব্যবস্থা সবাইকে বিভ্রান্ত করে। ১ থেকে ৪ দূরের সতর্কতা; ৫, ৬ ও ৭ মানে ঝড় বন্দরের এক পাশ দিয়ে যাবে, বন্দর হুমকিতে; ৮, ৯ ও ১০ "মহাবিপৎসংকেত"—প্রবল ঘূর্ণিঝড় বন্দরের কাছ দিয়ে যাবে; ১১ মানে সতর্ককেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। নদীবন্দরে ১ থেকে ৪। বুলেটিনে মোংলা ও পায়রায় ৭ আর চট্টগ্রামে ৬ বললে সংখ্যাগুলো ঝড়ের সাপেক্ষে বন্দরের অবস্থান বোঝায়, শুধু শক্তি নয়।
ফোন বাঁচিয়ে রাখা
- গ্রিড থাকতেই সব চার্জ করুন, পাওয়ার ব্যাংকও।
- লো-পাওয়ার মোড; ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ও ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ রিফ্রেশ বন্ধ; পর্দার উজ্জ্বলতা কমান।
- খোঁজখবরে কল বা হোয়াটসঅ্যাপ নয়, এসএমএস; দুর্বল, ভিড়ের নেটওয়ার্কে আর কিছু না গেলেও টেক্সট যায়।
- নেটওয়ার্ক পড়ার আগে বিএমডির বুলেটিন বা গতিপথের স্ক্রিনশট নামিয়ে রাখুন, যাতে রাত দুইটায় টুজিতে মানচিত্র লোড করতে না হয়।
- ফোন চার্জারসহ বন্ধ করা প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখুন; ভেজা ফোন মরা ফোন, আর চালে কাজ হবে না।
হালনাগাদ: মধ্যরাতের দিকে বরিশাল ও ভোলার মাঝামাঝি উপকূল অতিক্রম করে সিত্রাং, আশঙ্কার চেয়ে দুর্বল হয়ে; তবু গাছ ও দেয়াল চাপায় অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু, প্রায় ৮০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন।




