২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোট্রেন যাত্রী নিয়ে চলবে উত্তরা থেকে আগারগাঁও, আর সঙ্গে আসবে কয়েকটি প্রথম: দেশের প্রথম সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত ট্রেন, চালকের বিবেচনায় নয়, নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলা প্রথম ট্রেন, আর প্রথম পুরোপুরি কম্পিউটারাইজড টিকিট। যন্ত্রটা কীভাবে চলে, দেখে নিন।
দিয়াবাড়ি থেকে চালানো
উত্তরার দিয়াবাড়ির ডিপোতে অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টার। লাইনে প্রতিটি ট্রেন কোথায় থামবে, কত সময়, কত গতিতে চলবে—সব আগে থেকে সেখানে প্রোগ্রাম করা। রেললাইনের প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ মিটারে রেডিও অ্যানটেনা, প্রতিটি ট্রেনে চারটি, তাই ট্রেন ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র সব সময় যুক্ত। ফল এমন নির্ভুলতা, যা কোনো মানুষ চালক ধরে রাখতে পারতেন না: প্রতিটি স্টেশনে ট্রেনকে থামতে হবে নির্দিষ্ট জায়গার ছয় ইঞ্চির মধ্যে, কারণ প্ল্যাটফর্মের স্ক্রিন ডোর আর ট্রেনের দরজা বরাবর হতে হবে। কেবিনে এখনো একজন অপারেটর আর প্রতিটি স্টেশনে একজন কন্ট্রোলার থাকবেন, তবে তাঁদের কাজ নির্দেশনা ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা দেখা। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বা লাইনে বাধা থাকলে ট্রেন নিজেই থামে। সফটওয়্যারই ট্রেনের মধ্যে দূরত্ব রাখে; পূর্ণ সেবায় ট্রেন ছাড়বে পাঁচ মিনিট পরপর।
লাইন ও ট্রেন
এমআরটি লাইন-৬ উত্তরা থেকে মতিঝিল ২০.১০ কিলোমিটার, ১৬ স্টেশন; প্রথম খোলা অংশ উত্তরা-আগারগাঁওয়ে নয়টি। প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৩৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, অর্থায়নের বড় অংশ জাপানের জাইকার, নির্মাণ ও পরিচালনায় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড। জাপানের কাওয়াসাকি-মিতসুবিশি কনসোর্টিয়ামের নকশা ও তৈরি প্রতিটি ট্রেনে ছয়টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কোচ: দুই প্রান্তে কেবিনসহ দুটি ট্রেইলার কার, ৪৮ আসন করে; মাঝে চারটি মোটরকার, ৫৪ আসন করে—মোট ৩০৬ বসে, দাঁড়িয়ে-বসে সর্বোচ্চ ২,৩০৮ যাত্রী। কোচ সাড়ে নয় ফুট চওড়া, প্রতি পাশে চারটি দরজা, প্রান্তের কোচে হুইলচেয়ারের জায়গা, পরের স্টেশনের অডিও-ভিজ্যুয়াল ঘোষণা। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার। প্রতিটি ট্রেন ডিপোতে ১৯ ধরনের পরীক্ষা পেরিয়েছে, তারপর বাণিজ্যিক গতি ও নিয়মে পল্লবী ও আগারগাঁও পর্যন্ত ট্রায়াল রান।
যে বিদ্যুৎ যায় না
উত্তরা-আগারগাঁও অংশে লাগবে প্রায় ১৭ মেগাওয়াট। ডিপোতে নিজস্ব সাবস্টেশন, মতিঝিলে দ্বিতীয়টি নির্মাণাধীন; প্রতিটিতে দুটি ট্রান্সফরমার—একটি চালু, একটি জরুরি—তাই স্থানীয় বিভ্রাটে ট্রেন থামে না। অক্টোবরের মতো জাতীয় গ্রিডই ভেঙে পড়লে ব্যাটারিতে প্রতিটি চলন্ত ট্রেন পৌঁছাবে কাছের স্টেশনে।
যেভাবে চড়বেন
স্টেশন তিনতলা: সড়ক থেকে লিফট, এস্কেলেটর ও সিঁড়িতে দ্বিতীয় তলার কনকোর্সে—টিকিটের যন্ত্র ও অফিস—আর তৃতীয় তলায় প্ল্যাটফর্ম, শুধু টিকিটধারীর জন্য। প্ল্যাটফর্মের ধারের বেড়া ট্রেনের দরজার সঙ্গে খোলে, আপনাআপনি বন্ধ হয়। টিকিট দুই রকম। এমআরটি পাস—আগে কেনা সাপ্তাহিক, মাসিক বা পারিবারিক স্মার্ট কার্ড, স্টেশনের যন্ত্রে রিচার্জ, পরে ফোন রিচার্জের মতো যেকোনো জায়গা থেকে—ঢোকার গেটে পাঞ্চ, বেরোনোর গেটে আবার; দ্বিতীয় পাঞ্চ ছাড়া গেট খোলে না। সিঙ্গেল জার্নি কার্ড স্টেশনে নির্দিষ্ট গন্তব্যের ভাড়ায় কেনা, বেরোনোর গেট রেখে দেয়; ভাড়ার চেয়ে দূরে গেলে বাড়তি ভাড়া কর্মীকে না দেওয়া পর্যন্ত গেট খোলে না। ভাড়া সর্বনিম্ন ২০ টাকা থেকে উত্তরা-আগারগাঁও পুরো পথে ৬০ টাকা।




