প্রযুক্তি

অনলাইনে কোরবানির গরু: কেজি দরে সরকারের ডিজিটাল হাট, আর ক্যাশবিহীন পশুর হাট

digitalhaat.gov.bd-তে লাইভ ওজনের কেজিপ্রতি ৪৭৫-৫৭৫ টাকায় গরু, এসক্রো পেমেন্টসহ; গত বছর অনলাইনে বিক্রি ৩ লাখ ৮৭ হাজার পশু; ঢাকার ছয় হাটে এখন বিকাশ। কীভাবে কাজ করে, আর প্রতারিত না হওয়ার উপায়।

অনলাইনে কোরবানির গরু: কেজি দরে সরকারের ডিজিটাল হাট, আর ক্যাশবিহীন পশুর হাট

মিরপুরের খন্দকার মিনহাজ ইসলাম এ বছর হাটে না গিয়েই কোরবানির পশু কিনেছেন। ভিড়ের মধ্যে নগদ টাকা বহন নেই, বৃষ্টিতে দরদাম নেই, মিরপুর রোড ধরে গরু টেনে আনা নেই, আর গরুটা সুস্থ কি না—সে দুশ্চিন্তাও নেই। ২০২০ সালে মহামারির বিকল্প হিসেবে শুরু হওয়া অনলাইন বাজার ঢাকার ক্রমবর্ধমান সংখ্যক পরিবারের কাছে এখন কেনার স্বাভাবিক পথ।

ডিজিটাল হাট: কেজি দরে

সরকারি প্ল্যাটফর্ম digitalhaat.gov.bd চালায় প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগের এটুআই-একশপ ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। এ বছর তালিকায় জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তত্ত্বাবধানের হাট আর ই-ক্যাবের যাচাই করা ৬৮ উদ্যোক্তা। বিশেষত্ব দামের তালিকা: পশু বিক্রি হয় লাইভ ওজনে—৪০০ কেজি পর্যন্ত কেজিপ্রতি ৪৭৫ টাকা, ৪০১ থেকে ৫০০ কেজি ৫২৫, ৫০১ থেকে ৬০০ কেজি ৫৭৫—যাতে হাটের অনুমান উঠে যায়। ক্রেতা বিক্রেতার সঙ্গে সরাসরি লেনদেন করতে পারেন, বা এসক্রোতে—টাকা জমা থাকে, পশু পৌঁছানোর পর বিক্রেতা পান—জানান ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ। ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সারের হিসাবে প্ল্যাটফর্মটি ২০২০ সালে ২৭ হাজার ও ২০২১ সালে ৩ লাখ ৮৭ হাজার পশু বিক্রি করেছে।

বেসরকারি বিক্রেতারা

  • বিক্রয় ডটকম—বিনা মূল্যে বাড়িতে পৌঁছানো ও ক্যাশ অন ডেলিভারিসহ পশুর তালিকা।
  • বেঙ্গল মিট (qurbani.bengalmeat.com)—পশু বিক্রি, কোরবানি ও ঠান্ডা মাংস পৌঁছানো, প্রতিটি ধাপে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ।
  • সাদেক এগ্রো, মোহাম্মদপুর—নিজের খামার থেকে, ছবি ও দাম অনলাইনে।
  • ফেসবুকের খামার। আশুলিয়ার আরমা এগ্রিকালচার এই ঈদের জন্য ৭৫টি গরু পালন করে পেজে টোকেন নম্বরে বিক্রি করছে; দেওয়ার আগে ক্রেতা খামারে গিয়ে দেখতে পারেন। শত শত ছোট খামার একই কাজ করছে, অনেকগুলোতে এরই মধ্যে "সোল্ড আউট"।

ক্যাশবিহীন হাট আর অনলাইন কসাই

যাঁরা পশু দেখে কিনতে চান, তাঁদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের "স্মার্ট হাট" উদ্যোগে গাবতলী, বসিলা, আফতাবনগর, ভাটারা, কাওলা ও উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরে পশুর দাম ও হাসিল বিকাশে দেওয়া যায়; বিক্রেতারা এজেন্টে খরচ ছাড়া ক্যাশ আউট বা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পান। সেবা ডটএক্সওয়াইজেড আর কসাই সাপ্লাই, কসাই জোনের মতো ফেসবুক পেজ কসাই বুক করে—পশুর দামের প্রতি হাজারে নির্দিষ্ট টাকা—আর সেবা বর্জ্যের জন্য নিবন্ধিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীও দেয়।

প্রতারিত না হওয়ার উপায়

এসক্রো বা ডেলিভারিতে টাকা দিন, অযাচাই পেজে কখনো আগাম নয়; আজকের পত্রিকাসহ ভিডিও চান; পৌঁছানোর পর দাঁত দেখে বয়স যাচাই করুন; আর ১ লাখ টাকার ওপরে হলে খামারে যান। সুবিধা সত্যি, তবে প্রতি জুলাইয়ে গজিয়ে ওঠা প্রতারক পেজও সত্যি।

কেজি দরই আসল পরিবর্তন কেন

হাটে দরদাম হয় চোখের আন্দাজে। একই গরু দেখে দুজন ক্রেতাকে আলাদা দাম বলা হয়—কে কতটা মরিয়া দেখাচ্ছেন আর সপ্তাহের কোন দিন, তার ওপর নির্ভর করে; আর দুজনের কেউই কিছু যাচাই করতে পারেন না। লাইভ ওজনের দর এর জায়গায় বসায় হিসাব: কেজিপ্রতি ঘোষিত একটি দর, একটি ওজন মাপা, আর এমন একটি সংখ্যা যা দুই পক্ষই মিলিয়ে দেখতে পারে।

মুশকিল হলো, লাইভ ওজন মাংসের ওজন নয়। গরুর ক্ষেত্রে কাটা দেহের মাংস সাধারণত জীবিত ওজনের অর্ধেকের কিছু বেশি হয়, বাকিটা চামড়া, হাড় আর ভুঁড়ি—তাই কেজিপ্রতি লাইভ দরকে সরাসরি কসাইয়ের কেজিপ্রতি মাংসের দামের সঙ্গে মেলানো যায় না। যাঁরা তা ধরে নেন, তাঁরা ঠকেননি জেনেও ভাবেন ঠকেছেন। জেনে নিন লাইভ ওজনের দর কত, ওজন মাপা হবে কীভাবে, আর মাপার সময় কারা উপস্থিত থাকবেন।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।