এক দশক ধরে জিমেইল অ্যাকাউন্টের প্রমিত রক্ষাকবচ ছিল পাসওয়ার্ড লেখার পর খুদে বার্তায় আসা ছয় অঙ্কের কোড। গুগল এখন বলছে, সেই কোডই দায়। আগামী কয়েক মাসে এর দুই স্তরের যাচাই এসএমএস কোড পাঠানো বন্ধ করে সাইন-ইন পর্দায় একটি কিউআর কোড দেখাবে, যা ফোনের ক্যামেরায় স্ক্যান করে প্রমাণ করবেন, এটি আপনিই।
গুগল কেন করছে
‘এসএমএস কোড এখন ব্যবহারকারীদের জন্য বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি,’ বদলটি ঘোষণা করে বলেছেন গুগলের মুখপাত্র রস রিচেনডরফার। কোম্পানির যুক্তি তিন ভাগে:
- ফোন নম্বরই দুর্বল জায়গা। মোবাইল অপারেটরকে রাজি করিয়ে আপনার নম্বর নতুন সিমে সরিয়ে নেওয়া অপরাধী—‘সিম সোয়াপ’—আপনার কোড পায়। অপারেটরদের নিরাপত্তার মান দেশভেদে বিস্তর আলাদা, আর গুগল তা শোধরাতে পারে না।
- ফিশিং। নকল লগইন পাতা আপনার পাসওয়ার্ড, তারপর এসএমএস কোড চেয়ে দুটোই সেকেন্ডের মধ্যে আসল জিমেইলে চালান করতে পারে। যে যন্ত্র সাইন-ইন করছে, তার সঙ্গে বাঁধা কিউআর কোড চালান করা অনেক কঠিন।
- ট্রাফিক পাম্পিং। প্রতারকেরা প্রিমিয়াম-রেট নম্বর খুলে সেখানে যাচাই বার্তার বন্যা বইয়ে এসএমএস চার্জের ভাগ পকেটে তোলে। গুগল নিজের অপব্যবহারের দাম দিচ্ছিল।
বাংলাদেশের জন্য এর মানে
তিনটি সমস্যাই এখানে চেনা। সিম নিবন্ধন এনআইডিতে বাঁধা, তবু কাস্টমার-কেয়ার পয়েন্টে সিম প্রতিস্থাপন মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণায় বারবার কাজে লাগানো হয়েছে, আর ওটিপি-ফিশিং কল (‘আমি ব্যাংক থেকে বলছি, কোডটা বলুন’) সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসা প্রতারণা। জিমেইলের শৃঙ্খল থেকে এসএমএস সরানো মানে বাংলাদেশের আক্রমণকারীরা প্রতিদিন যে কড়িটি ব্যবহার করে, তার একটি কাটা।
এখনই যা চালু করবেন
- myaccount.google.com → সিকিউরিটি → টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন-এ যান।
- একটি পাসকি যোগ করুন (ফোনে আঙুলের ছাপ বা মুখ)—গুগল একে মূল পদ্ধতি ধরে, আর এটি ফিশিংয়ে অভেদ্য।
- দ্বিতীয় পদ্ধতি হিসেবে গুগল অথেনটিকেটর বা অন্য অথেনটিকেটর অ্যাপ যোগ করুন, যাতে মোবাইল সিগন্যাল ছাড়াও সাইন-ইন করা যায়।
- ব্যাকআপ কোড নামিয়ে ফোন নয়, এমন কোথাও রাখুন।
- তারপরই ফোন নম্বরকে সাইন-ইন পদ্ধতি থেকে সরান—চাইলে অ্যাকাউন্ট উদ্ধারের জন্য রাখুন, দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে নয়।
বদলের নির্দিষ্ট তারিখ গুগল দেয়নি, আসবে ধাপে ধাপে। কিউআর পদ্ধতিই হবে ডিফল্ট; দ্বিতীয় যন্ত্র নেই এমন ব্যবহারকারীদের বিকল্প থাকবে, কিন্তু খুদে বার্তার কোডের যুগ শেষ হচ্ছে, আর যে ব্যাংক ও মোবাইল-অর্থ অপারেটররা এখনো এতে ভর করে, তাদের ঘোষণাটিকে নিজেদের ব্যবস্থার সতর্কবার্তা হিসেবে পড়া উচিত।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, প্রথম আলোর বরাতে।




