প্রযুক্তি

ফোন থেকেই এবার এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড জিমেইল—লক আইকনটি আসলে কী রক্ষা করে

জিমেইলের অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস অ্যাপ এখন লক আইকনে এক ট্যাপে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড বার্তা পাঠাতে পারে, বাড়তি কোনো অ্যাপ ছাড়া। ইমেইলে এন্ড-টু-এন্ড মানে কী, গুগল কী দেখতে পারে আর পারে না, আর বাড়তি ধাপটি কখন সার্থক।

ফোন থেকেই এবার এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড জিমেইল—লক আইকনটি আসলে কী রক্ষা করে

অনলাইনে আমরা যা এখনো ব্যবহার করি, তার মধ্যে ইমেইল সবচেয়ে পুরোনো আর সবচেয়ে কম গোপনীয়: বার্তা সার্ভারে থাকে পড়ার মতো অবস্থায়, আর সার্ভারে যার প্রবেশাধিকার আছে—সেবাদাতা, হ্যাকার, পরোয়ানা হাতে সরকার—সে পড়তে পারে। গুগল এবার অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসের জিমেইল অ্যাপে এনেছে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন, যাতে একটি বার্তা আপনার ফোনে তালাবদ্ধ হয়ে শুধু প্রাপকের ফোনেই খোলে। রোলআউট ধাপে ধাপে, সময়ের সঙ্গে সব জিমেইল ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছাবে; প্রথম জানায় ব্লিপিং কম্পিউটার।

পাঠাবেন যেভাবে

  1. জিমেইল অ্যাপে আগের মতোই বার্তা লিখুন।
  2. কম্পোজ স্ক্রিনে লক আইকনে ট্যাপ করুন।
  3. অ্যাডিশনাল এনক্রিপশন চালু করে পাঠান।

এনক্রিপশন স্বয়ংক্রিয় নয়—সাধারণ বার্তা সাধারণই থাকে—আর আপনাকে বা প্রাপককে কিছু ইনস্টল করতে হয় না। এনক্রিপ্টেড বার্তা প্রাপকের ইনবক্সে অন্য সব বার্তার মতোই জমা হয় এবং জিমেইলেই খোলে।

এখানে ‘এন্ড-টু-এন্ড’ মানে কী

সাধারণ জিমেইল এমনিতেই পথে এনক্রিপ্টেড, তাই ওয়াই-ফাইয়ের কেউ পড়তে পারে না। এন্ড-টু-এন্ড আরও দূরে যায়: বিষয়বস্তু প্রেরকের যন্ত্রে এমন চাবিতে এনক্রিপ্ট হয়, যা প্রাপকের কাছে, আর গুগলের সার্ভারেও তা এনক্রিপ্টেডই থাকে। গুগল নিজে বার্তার ভেতরটা পড়তে পারে না—অর্থাৎ স্প্যামের জন্য স্ক্যান, সার্চের জন্য ইনডেক্স বা স্মার্ট রিপ্লাইয়ের মতো সুবিধায় ব্যবহারও করতে পারে না। এই দরকষাকষিই সেটিংটি ডিফল্ট না রেখে ঐচ্ছিক রাখার কারণ।

যা লুকায় না

  • কাকে, কখন ইমেইল করলেন। ঠিকানা, সময় আর সাধারণত সাবজেক্ট লাইন সেবাদাতার কাছে দৃশ্যমান থাকে।
  • প্রাপকের দিক। তাঁর ফোনে ডিক্রিপ্ট হওয়ার পর বার্তাটি ততটাই নিরাপদ, যতটা তাঁর যন্ত্র ও অভ্যাস।
  • ফরোয়ার্ড করা সংযুক্তি। এনক্রিপশন প্রযোজ্য পাঠানো বার্তায়, পরে বানানো কপিতে নয়।

কখন কষ্ট করবেন

দৈনন্দিন বেশির ভাগ ইমেইলে বাড়তি ট্যাপ অপ্রয়োজনীয়। সার্থক তখন, যখন ফাঁস হলে ক্ষতি: এজেন্টকে পাঠানো পরিচয়পত্র, বেতন বা চিকিৎসার তথ্য, চুক্তি, সাংবাদিক বা আইনজীবী যা সার্ভারে পড়ার মতো অবস্থায় রাখতে চান না। বাংলাদেশিরা ভিসা, ব্যাংকিং ও চাকরির আবেদনে নিয়মিত পাসপোর্টের স্ক্যান আর এনআইডির কপি ইমেইল করেন—ঠিক সেই বার্তাগুলোতেই এখন তালা লাগানো উচিত।

একটি ব্যবহারিক সতর্কতা: প্রাপক যদি জিমেইলের বদলে অন্য কোনো ইমেইল সেবা ব্যবহার করেন, বার্তাটি কীভাবে খুলবে, গুগল তা বিস্তারিত বলেনি; আগে একটি পরীক্ষামূলক বার্তা পাঠিয়ে দেখে নেওয়া ভালো। আর এনক্রিপ্টেড বার্তা জিমেইলের সার্চে ধরা পড়ে না, তাই জরুরি কিছু পাঠালে সাবজেক্ট লাইনে এমন শব্দ রাখুন, যা দিয়ে পরে খুঁজে পাওয়া যায়।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।