প্রযুক্তি

বাংলাদেশের কারখানায় ব্যাটারি স্টোরেজ আনছে হুয়াওয়ে — যে হিসাব একে কার্যকর করে, আর যে চারটি স্পেসিফিকেশন ঠিক করে এটি লাভজনক কি না

সোলার সহজ অংশ; সন্ধ্যার শিফট শেষ হওয়ার আগেই সূর্য ডোবে। স্টোরেজের প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রিড নয়, ডিজেল — আর এ কারণেই হিসাবটি কারখানায় মেলে, বাড়িতে নয়।

বাংলাদেশের কারখানায় ব্যাটারি স্টোরেজ আনছে হুয়াওয়ে — যে হিসাব একে কার্যকর করে, আর যে চারটি স্পেসিফিকেশন ঠিক করে এটি লাভজনক কি না

সোলার প্যানেল সহজ অংশ। একটি কারখানা ছাদ ভরে প্যানেল বসিয়ে দিনের বিল কমাতে পারে — আর তারপর দেখতে পারে ছটায় সূর্য ডুবে যাচ্ছে, ঠিক যখন সন্ধ্যার শিফট, কম্প্রেসর আর বাতির বিদ্যুৎ সবচেয়ে বেশি দরকার। অনুপস্থিত অংশটি স্টোরেজ, আর হুয়াওয়ে এখন সেটিই বাংলাদেশে বিক্রি করছে: ঢাকার এক অনুষ্ঠানে কোম্পানিটি তাদের লুনা২০০০ সিরিজের স্টোরেজ ব্যবস্থা উন্মোচন করেছে, যার লক্ষ্য স্পষ্টতই বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহক, বাড়ি নয়।

পণ্যটি কী

লুনা২০০০ হলো লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবস্থার একটি পরিবার, যা বসে সোলার অ্যারে আর ভবনের বৈদ্যুতিক লোডের মাঝখানে। দিনে এগুলো উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ শুষে নেয়; প্যানেল উৎপাদন বন্ধ করলে, গ্রিড বিকল হলে, কিংবা বিদ্যুৎ ব্যয়বহুল হয়ে উঠলে এগুলো সরবরাহ করে। হুয়াওয়ের আঞ্চলিক ডিজিটাল পাওয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরাপত্তা স্থাপত্যের কথা বিশেষভাবে বলেছেন, যা একক সেল থেকে শুরু করে ব্যবহারের বিন্দু পর্যন্ত পুরো স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করে — কাপড় ও রাসায়নিকে ভরা ভবনের ভেতরে বসানো পণ্যের জন্য যা গুরুত্বপূর্ণ। কোম্পানির দাবি, তাদের ডিজিটাল পাওয়ার সরঞ্জাম বাংলাদেশে ইতিমধ্যে ৪৩ কোটি কিলোওয়াট-ঘণ্টার বেশি উৎপাদনে ভূমিকা রেখেছে, মূলত ইনভার্টার ও প্ল্যান্ট পর্যায়ের যন্ত্রপাতির মাধ্যমে; কাজেই স্টোরেজ হলো পুরোনো গ্রাহকদের কাছেই বিক্রি করা দ্বিতীয় পণ্য।

শিল্প কেন, বাড়ি কেন নয়

এই অংশটি বোঝা দরকার, কারণ প্রশ্নটি কার সামর্থ্য আছে তা নিয়ে নয়।

ব্যাটারি আয় করে সেই পার্থক্য থেকে, যা আপনি দিতে হচ্ছে না বলে বাঁচালেন আর জমিয়ে রাখা এককটির জন্য যা খরচ হলো। ভর্তুকিপ্রাপ্ত আবাসিক ট্যারিফের গ্রাহকের জন্য বাঁচানো খরচটি গ্রিডের সস্তা একক বিদ্যুৎ, আর তার বিপরীতে ব্যাটারির দাম উঠতে বহু সময় লাগে। কারখানার ক্ষেত্রে তিনটি জিনিস একসঙ্গে বদলে যায়।

মানদণ্ড ডিজেল, গ্রিড নয়। গ্রিড বিকল হলে কারখানার বিকল্প জেনারেটর, আর ডিজেলই সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ যা কোনো ব্যবসা কিনতে পারে — জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ধরলে প্রতি এককে গ্রিড ট্যারিফের কয়েক গুণ। ওই ঘণ্টায় ব্যাটারি থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ সস্তা বিদ্যুতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না। এটি ভবনের সবচেয়ে দামি বিদ্যুৎটিকেই প্রতিস্থাপন করছে।

বাণিজ্যিক ট্যারিফে ডিমান্ড চার্জ থাকে। শিল্পের বিল কেবল ব্যবহৃত শক্তির নয়; তাতে বিলিং সময়ে সর্বোচ্চ যে শক্তি টানা হয়েছে তার ভিত্তিতেও একটি চার্জ থাকে। সর্বোচ্চ টানার ওই কয়েক মিনিটে ব্যাটারি সরবরাহ করলে নথিভুক্ত সর্বোচ্চটি নেমে যায়, আর সঞ্চয়টি প্রতি মাসেই চলতে থাকে — বাড়তি কোনো শক্তি স্থানান্তর না করেই। বাণিজ্যিক স্টোরেজের আয়ের বড় অংশ আসলে এখান থেকেই আসে, আর আবাসিক ক্ষেত্রে এর কোনো সমতুল্য নেই।

ধারাবাহিকতার সরাসরি খরচ আছে। উৎপাদন লাইনে অন্ধকার আধঘণ্টা মাপা যায় উৎপাদনে, নষ্ট হওয়া আধা-সম্পন্ন কাজে আর ওভারটাইমে। বাড়িতে বিদ্যুৎ গেলে হারায় স্বাচ্ছন্দ্য।

এগুলো একসঙ্গে রাখলে গ্যাস রেশনিং, বারবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি আর অনিশ্চিত সরবরাহের বিপরীতে বসানো স্টোরেজ ব্যবস্থার খরচ উঠে আসে কার্বন ক্রেডিটে নয়, বাঁচানো জ্বালানির মাসের হিসাবে।

লাভজনক কি না ঠিক করে যে চারটি স্পেসিফিকেশন

১. সেলের রসায়ন। স্থির বাণিজ্যিক স্টোরেজ বিপুলভাবেই এলএফপি — লিথিয়াম আয়রন ফসফেট। ফোন ও গাড়িতে ব্যবহৃত রসায়নের চেয়ে এটি প্রতি কেজিতে কম শক্তি ধরে, যা কারখানার মেঝেতে বসে থাকা ব্যাটারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়; বিনিময়ে এটি তাপীয়ভাবে অনেক বেশি স্থিতিশীল, কয়েক হাজার সাইকেল বেশি টেকে, আর এতে কোবাল্ট নেই। কোনো বিক্রেতা রসায়নটি স্পষ্ট করে বলতে না চাইলে, সেটিই উত্তর।

২. সাইকেল লাইফ আর ওয়ারেন্টির শেষ-জীবনের সংখ্যাটি। শিল্পের ব্যাটারি প্রতিদিনই চার্জ-ডিসচার্জ হয়, তাই গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যাটি নিশ্চয়তাসহ সাইকেলের সংখ্যা — আর সবচেয়ে বড় কথা, সেগুলো শেষে কতটুকু ধারণক্ষমতা তখনো নিশ্চিত। ৭০ শতাংশ ধারণক্ষমতায় ৬,০০০ সাইকেলের ওয়ারেন্টি আর ধারণক্ষমতার উল্লেখ ছাড়া ৬,০০০ সাইকেলের ওয়ারেন্টি — দুটি আলাদা পণ্য। ব্যবস্থাটির দামকে (ব্যবহারযোগ্য ধারণক্ষমতা × নিশ্চিত সাইকেল) দিয়ে ভাগ করলেই পাওয়া যায় জমা রাখা প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টার প্রকৃত খরচ, আর দুটি দরপত্র তুলনা করার একমাত্র সংখ্যা এটিই।

৩. রাউন্ড-ট্রিপ দক্ষতা ও ডেপথ অব ডিসচার্জ। ভেতরে ঢোকা আর বেরিয়ে আসার সময় কিছু শক্তি নষ্ট হয়; ৯০ শতাংশ রাউন্ড-ট্রিপ ভালো। আর ১০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা রেটিংয়ের ব্যাটারি আপনাকে ১০০ দেয় না — ব্যবহারযোগ্য ভগ্নাংশ, অর্থাৎ ডেপথ অব ডিসচার্জ, সাধারণত ৮০ থেকে ৯৫ শতাংশ, আর এর বেশি নামালে আয়ু কমে। দুটি সংখ্যাই ওপরের হিসাব নীরবে বদলে দেয়, আর দুটিই বিক্রয় তালিকা থেকে নিয়মিত বাদ পড়ে।

৪. বিকল মডিউল কে বদলাবে, আর কত দ্রুত। ব্যাটারি ব্যবস্থা একটি সেবাযোগ্য স্থাপনা, গৃহস্থালি যন্ত্র নয়। প্রশ্নটি বিক্রেতার স্থানীয় অফিস আছে কি না তা নয়, প্রশ্নটি যন্ত্রাংশের অবস্থা: বদলি মডিউল আসতে কত দিন লাগে, সেবা দেয় নির্মাতা নাকি স্থানীয় ইন্টিগ্রেটর, আর ইন্টিগ্রেটর ব্যবসা গুটিয়ে নিলে ওয়ারেন্টির কী হয়।

সই করার আগে দুটি বিষয় মীমাংসা করে নিন

গ্রিডের নিয়ম। নেট-মিটারিং নির্দেশিকা ঠিক করে দেয় গ্রিডে কী এবং কোন শর্তে পাঠানো যাবে। নিজের ব্যবহারের মাপে বসানো ব্যবস্থা — নিজের সৌরবিদ্যুৎ নিজের সন্ধ্যার জন্য জমিয়ে রাখা — এর বেশির ভাগ জটিলতা এড়িয়ে যায়, আর রপ্তানির নিয়ম যা-ই অনুমোদন করুক, প্রথম স্থাপনা হিসেবে সাধারণত এটিই সঠিক।

সংযুক্ততা। আধুনিক ইনভার্টার ও স্টোরেজ ব্যবস্থা ইন্টারনেটে যুক্ত এবং নির্মাতা দূর থেকে এগুলোর হালনাগাদ করতে পারে — পর্যবেক্ষণ, সমস্যা নির্ণয় ও ফার্মওয়্যার সংশোধন এভাবেই কাজ করে। এর মানে, আপনার বৈদ্যুতিক সরবরাহের সঙ্গে জোড়া যন্ত্রে তৃতীয় একটি পক্ষ পৌঁছাতে পারে। গ্রিড-সরঞ্জাম নিয়ে সাধারণভাবেই কয়েকটি সরকার একে নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবে তুলেছে, আর তা কোনো একটি ব্র্যান্ডের নয়, সংযুক্ত প্রতিটি ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রেই খাটে। ব্যবহারিক জবাবগুলো সাধারণ: যন্ত্রটি কী পাঠায় আর কোথায় পাঠায় জিজ্ঞেস করুন, অফিসের ল্যানে না রেখে আলাদা নেটওয়ার্কে রাখুন, আর নিশ্চিত হয়ে নিন ইন্টারনেট সংযোগ কেটে দিলে ব্যবস্থাটি স্বাভাবিকভাবে চলে কি না — ক্লাউড সেবা ছাড়া যে ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে, দেয়ালে বসানোর আগেই সেই নির্ভরশীলতার কথা জানা থাকা দরকার।

বড় সংকেতটি অটুট। বাংলাদেশে ব্যাটারি স্টোরেজ পরীক্ষামূলক প্রকল্প থেকে পণ্যে পরিণত হয়েছে, আর বড় পরিসরে প্রথম ক্রেতা হবে সেসব কারখানা, অন্ধকার সন্ধ্যার শিফটে যাদের হারানোর সবচেয়ে বেশি।

সূত্র: Huawei Digital Power, battery industry specifications, commercial storage market analysis, Prothom Alo

লিখেছেন

Mahbub Rabbani

টেক বিডিতে ভোক্তা প্রযুক্তি নিয়ে লেখেন মাহবুব রব্বানী — ফোন, অ্যাপ, অপারেটিং সিস্টেম আর দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রতিদিনের প্ল্যাটফর্ম। সাইটের কীভাবে-করবেন নির্দেশিকাগুলো তাঁর লেখা; কোনো পণ্যকে তিনি মাপেন কেনার খরচ দিয়ে নয়, ব্যবহারের খরচ দিয়ে।