প্রযুক্তি

গুগল বলছে আপনার জিমেইল ও ডকসে বার্ডকে প্রশিক্ষণ দেয় না—প্রতিশ্রুতিটি কী ধরে, কী ধরে না, আর যে সেটিং তা ঠিক করে

বার্ড, গুগলের বিজ্ঞাপন টুল ও লেখার সহকারী ব্যবহারকারীদের নথি থেকে শিখছে, মাসের পর মাসের সন্দেহের পর গুগলের ওয়ার্কস্পেস পণ্যপ্রধান বলছেন না: ওয়ার্কস্পেসের কনটেন্ট অনুমতি ছাড়া ওয়ার্কস্পেসের বাইরে জেনারেটিভ মডেল প্রশিক্ষণ বা উন্নয়নে ব্যবহৃত হয় না, বিক্রি হয় না, বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত হয় না। বিবৃতিটি সত্য আর যতটা শোনায় তার চেয়ে সংকীর্ণ—এটি ধরে ব্যবসা ও স্কুলের অ্যাকাউন্ট, বেশির ভাগ বাংলাদেশির ব্যবহার করা ফ্রি জিমেইল নয়। রেখাটি আসলে কোথায়।

গুগল বলছে আপনার জিমেইল ও ডকসে বার্ডকে প্রশিক্ষণ দেয় না—প্রতিশ্রুতিটি কী ধরে, কী ধরে না, আর যে সেটিং তা ঠিক করে

গুগল ২০২৩ কাটিয়েছে সবকিছুতে জেনারেটিভ এআই বসিয়ে—বার্ড, জিমেইল ও ডকসে ‘হেল্প মি রাইট’, এআই-তৈরি বিজ্ঞাপন প্রচারণা, সংবাদ নিবন্ধের খসড়া করা টুল—আর পাশাপাশি বেড়েছে একটি সন্দেহ: মডেল ই-মেইল লিখতে শিখেছে আমাদেরগুলো পড়ে। এ সপ্তাহে গুগল সরাসরি তা ধরল। গুগল ওয়ার্কস্পেসের পণ্য ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউলি কওন কিম বললেন জেনারেটিভ এআই কোম্পানির গোপনীয়তার প্রতিশ্রুতি বদলায় না, গুগল ওয়ার্কস্পেসের তথ্য বেচে না, আর ব্যবহারকারীরা মোছার অধিকারসহ এর নিয়ন্ত্রণ রাখেন।

গুগল আসলে যা প্রতিশ্রুতি দিল

বিবৃতির সুনির্দিষ্ট প্রান্ত আছে। ওয়ার্কস্পেসের কনটেন্ট—অর্থ দেওয়া ব্যবসা, স্কুল ও সরকারি অ্যাকাউন্টের ই-মেইল, নথি, স্প্রেডশিট ও চ্যাট—গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া ওয়ার্কস্পেসের বাইরে জেনারেটিভ এআই বা বড় ভাষা মডেল প্রশিক্ষণ বা উন্নয়নে ব্যবহৃত হয় না। বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত হয় না আর কখনো বিক্রি হয় না। ওয়ার্কস্পেসের ভেতরে স্মার্ট কম্পোজ ও স্প্যাম ফিল্টারের মতো সুবিধা আপনার নিজের ব্যবহার থেকে শেখে, যেমন বরাবর শিখেছে, আর নতুন এআই সুবিধা আপনার অনুরোধের উত্তরে আপনার কনটেন্ট প্রক্রিয়া করে। ব্যবসার সফটওয়্যারে এটিই স্বাভাবিক চুক্তি, আর গুগলের প্রতিযোগীরাও একই করে।

যা এটি ধরে না

দুটি জিনিস। প্রথমত, ভোক্তা জিমেইল—বাংলাদেশে প্রায় সবার ব্যবহার করা ফ্রি @gmail.com অ্যাকাউন্ট—চলে ওয়ার্কস্পেসের শর্তে নয়, গুগলের সাধারণ গোপনীয়তা নীতিতে। গুগল ২০১৭ সালে বিজ্ঞাপনের লক্ষ্যে জিমেইল স্ক্যান থামিয়েছে আর বলছে বার্ড প্রশিক্ষণেও জিমেইলের কনটেন্ট ব্যবহার করে না, কিন্তু নিশ্চয়তাটি চুক্তির বদলে নীতির বিবৃতি। দ্বিতীয়ত, বার্ড নিজে: চ্যাটবটের সঙ্গে আপনার কথোপকথন ডিফল্টে জমা থাকে, মানব মূল্যায়কেরা পর্যালোচনা করেন আর মডেল উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়। এ কারণেই বার্ড গোপনীয় তথ্য না ঢোকানোর সতর্কবার্তা দেখায়, আর গুগলের নিজের কর্মীদের বলা হয়েছে অভ্যন্তরীণ কোড এতে না পেস্ট করতে।

যে সেটিং ঠিক করে

  1. bard.google.com/activity-তে যান (বা myactivity.google.com → বার্ড অ্যাক্টিভিটি)।
  2. নতুন কথোপকথন জমা ও প্রশিক্ষণে ব্যবহার থামাতে বার্ড অ্যাক্টিভিটি বন্ধ করুন; আগেরগুলো একই পাতা থেকে মোছা যায়। বন্ধ থাকলেও নিরাপত্তা পর্যালোচনায় কথোপকথন ৭২ ঘণ্টা থাকে।
  3. ওয়ার্কস্পেস অ্যাকাউন্টে প্রশাসক এটি নিয়ন্ত্রণ করেন অ্যাডমিন কনসোল → অ্যাপস → অ্যাডিশনাল গুগল সার্ভিসেস → বার্ডে।

এখানে কেন জরুরি

বাংলাদেশের ব্যাংক, এনজিও ও বিশ্ববিদ্যালয় মূলত ওয়ার্কস্পেসে চলে, আর তাদের উদ্বেগ—ক্লায়েন্টের ফাইল, শিক্ষার্থীর রেকর্ড, দাতার তালিকা—প্রতিশ্রুতির আওতায়। যে ফ্রিল্যান্সারের পুরো ব্যবসা ফ্রি জিমেইলে, তিনি এমন নীতির আওতায়, যা গুগল নোটিশ দিয়ে বদলাতে পারে। পার্থক্যের দাম মাসে ৭০০ টাকা, সবচেয়ে সস্তা ওয়ার্কস্পেস প্ল্যানের দাম, আর অন্যের তথ্য সামলানো যে কারও জন্য তা প্রতিশ্রুতির বদলে চুক্তির দাম।

প্রশিক্ষণ আর প্রক্রিয়াকরণ এক নয়

এখানে আসল কাজটি করে যে পার্থক্যটি, গোপনীয়তার বেশির ভাগ বিবৃতি তার ওপরই দাঁড়ায় আর খুব কমই তা ব্যাখ্যা করে। প্রশিক্ষণ মানে আপনার লেখা ব্যবহার করে মডেলের ওজন বদলানো হয়, এরপর তার চিহ্ন থেকে যায় এমন একটি ব্যবস্থার ভেতরে, যা অন্যদের উত্তর দেয়। প্রক্রিয়াকরণ মানে আপনার লেখা মডেলের কাছে যায়, উত্তর ফিরে আসে, আর কিছুই জমা থাকে না।

তাই প্রশিক্ষণ না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি শুনতে যতটা, তার চেয়ে দুর্বল; কারণ ওয়ার্কস্পেসের প্রতিটি এআই সুবিধাই অনিবার্যভাবে আপনার নথি প্রক্রিয়া করে—ই-মেইল সার করা তো এভাবেই হয়। অর্থপূর্ণ প্রশ্নগুলো হলো: প্রক্রিয়াকৃত লেখা কত দিন রাখা হয়, মান যাচাইয়ে কোনো মানুষ তা দেখতে পারেন কি না, আর বিনা মূল্যের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ও অর্থ দেওয়া করপোরেট অ্যাকাউন্টে উত্তর আলাদা কি না। সাধারণত আলাদা, আর করপোরেট শর্ত সাধারণত কড়া।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।