অ্যান্ড্রয়েড অথরিটি প্রথম প্রকল্পটির কথা লেখার পর থেকে ক্রোম ওএস ও অ্যান্ড্রয়েডের একীভবন নিয়ে প্রতিবেদন হয়েছে, অস্বীকার করা হয়েছে, আধাআধি স্বীকার করা হয়েছে, আবার প্রতিবেদন হয়েছে। কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন সামিটে দুটি জিনিস বদলাল। গুগল প্ল্যাটফর্মটির নাম বলল — অ্যান্ড্রয়েড ফর পিসি — এবং তার সঙ্গে একটি সাল জুড়ে দিল।
আসলে যা বলা হয়েছে
গুগলের প্ল্যাটফর্ম ও ডিভাইস প্রধান রিক অস্টারলো পরিবর্তনটিকে উপস্থাপন করলেন পনেরো বছরের একটি বিভাজনের সমাপ্তি হিসেবে: ফোনের জন্য এক ব্যবস্থা আর কম্পিউটারের জন্য আরেক ব্যবস্থার বদলে এখন থাকবে, তাঁর ভাষায়, দুটিকেই সেবা দেওয়া একটি সাধারণ কৌশলগত ভিত্তি। তিনি স্থাপত্যের চেয়ে আরও এগিয়ে গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেন, পিসির অপারেটিং সিস্টেমে আসবে জেমিনি ও গুগলের পূর্ণ অ্যান্ড্রয়েড এআই স্ট্যাক, প্লে স্টোরের অ্যাপভান্ডার এবং অ্যান্ড্রয়েডের ডেভেলপার সমাজ। অ্যান্ড্রয়েড বাস্তুতন্ত্রের দায়িত্বে থাকা সমীর সামাত জানালেন সময়: আগামী বছর, অর্থাৎ ২০২৬ সাল।
কোয়ালকমের প্রধান নির্বাহী ক্রিস্তিয়ানো আমন বললেন তিনি এটি চলতে দেখেছেন, এবং তা অবিশ্বাস্য — নিজের মঞ্চে দাঁড়ানো প্রধান নির্বাহীর কথা, কাজেই ছাড় দিয়েই পড়া উচিত, তবু একজন অংশীদারের দেখা চালু সংস্করণ চালু সংস্করণই। ঘোষণার ব্যবসায়িক দিকটি কৌশলগত দিকের চেয়ে অনেক স্পষ্ট। আজকের ক্রোমবুক বিপুলভাবেই ইনটেলের যন্ত্র। অ্যান্ড্রয়েড ফর পিসি তৈরি হচ্ছে স্ন্যাপড্রাগনে, কোয়ালকম দুই বছর ধরে উইন্ডোজ ল্যাপটপে যে স্ন্যাপড্রাগন এক্স ধারাটি সামান্য সাফল্যে ঠেলে দিচ্ছে তার ওপর ভর করে। গুগল তার ল্যাপটপ প্ল্যাটফর্মের চিপ-নির্ভরতার মালিকানা বদলে দিচ্ছে।
এবারের চেষ্টা আলাদা কেন
গুগল এর আগেও চেষ্টা করেছে। ২০১৬ সালে কনটেইনারের ভেতরে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ এসেছিল ক্রোম ওএসে, কখনোই তা স্বাভাবিক লাগেনি। অ্যান্ড্রয়েড ও ক্রোম ওএসের স্পষ্ট একীভবন প্রকল্প অ্যান্ড্রোমিডা ওই বছরই তুলে রাখা হয়। শূন্য থেকে গড়া অপারেটিং সিস্টেম ফুকশিয়া চুপচাপ স্মার্ট ডিসপ্লেতে এসে আর এগোয়নি। স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হলো চতুর্থ চেষ্টাকেও আগের তিনটির মতোই দেখা।
পার্থক্য হলো, কাজের বড় অংশ আগেই হয়ে গেছে — অ্যান্ড্রয়েডের ভেতরেই, অন্য কারণে। অ্যান্ড্রয়েডে এখন সত্যিকারের ডেস্কটপ উইন্ডোইং আছে: আকার বদলানো যায়, একটির ওপর আরেকটি বসে, টাস্কবার আছে — তৈরি হয়েছিল ফোল্ডেবলের জন্য আর বাইরের মনিটরে ফোন চালানোর জন্য। বাইরের ডিসপ্লে, কিবোর্ড, ট্র্যাকপ্যাড ও মাউসকে এটি প্রথম শ্রেণির ইনপুট হিসেবেই নেয়, কারণ ট্যাবলেট তাকে বাধ্য করেছে। ২০২৫ সালে এতে যুক্ত হয়েছে ভার্চুয়াল মেশিনে চলা একটি লিনাক্স টার্মিনাল, যে একটি সুবিধাই ব্রাউজিং-যন্ত্র আর ডেভেলপারের যন্ত্রের মধ্যে সীমারেখা টানে। এর কোনোটিই ল্যাপটপের জন্য বানানো হয়নি, আর ল্যাপটপের যা দরকার তার সবই এখানে আছে। একীভবন তাই নতুন কোনো অপারেটিং সিস্টেম নয়, বরং সেই বিন্দু যেখানে অ্যান্ড্রয়েড এই সুবিধাগুলো অন্য কিছুর জন্য বলে ভান করা বন্ধ করে।
তিনটি সমস্যা
অ্যাপ। প্লে স্টোরের অ্যাপ বানানো হয় এক হাতে ধরা স্পর্শপর্দার জন্য। কিবোর্ডসহ ১৪ ইঞ্চি পর্দায় পূর্ণ স্ক্রিনে চলা ফোনের অ্যাপ — এই ব্যর্থতাই এক দশক ধরে অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেটকে হাসির বস্তু বানিয়ে রেখেছিল। গুগলের উত্তর অ্যাডাপটিভ লেআউট ও ডেভেলপারদের ওপর শর্ত, আর ডেভেলপারদের ওপর তার চাপ দেওয়ার ক্ষমতা সত্যিই আছে — কিন্তু প্রথম দিনে যে ভান্ডার সে উত্তরাধিকারসূত্রে পাবে, তা এই কাজের জন্য লেখা হয়নি।
চালু ক্রোমবুক। স্কুলে কয়েক কোটি যন্ত্র আছে, বেশির ভাগ ইনটেলের, অনেকগুলোর স্বয়ংক্রিয় হালনাগাদের মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ। এগুলো অ্যান্ড্রয়েড ফর পিসি পাবে কি না, ক্রোম ওএসের দীর্ঘ সমর্থন পাবে কি না, নাকি নীরবে শেষ হয়ে যাবে — গুগল কিছুই বলেনি। যে প্রতিষ্ঠানগুলো এগুলো কিনেছে, তাদের কাছে এটিই একমাত্র প্রশ্ন।
বদলানোর কারণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের স্কুলের বাইরে ক্রোম ওএস ব্যর্থ হয়েছে, আর বাকি বাজার জিতেছে সস্তা উইন্ডোজ ল্যাপটপ। ৩৫ হাজার টাকার উইন্ডোজ যন্ত্র আর ৩৫ হাজার টাকার অ্যান্ড্রয়েড যন্ত্রের মধ্যে বেছে নিতে বসা ক্রেতার কাছে হাতে থাকা ফোনের সঙ্গে অ্যাপের সামঞ্জস্য সত্যিকারের যুক্তি; উইন্ডোজের লাইসেন্সের দাম না দেওয়াও। কিন্তু সবার কর্মক্ষেত্র যে ব্যবস্থায় চলে তাকে হারাতে পারবে কি না, সেটি ভিন্ন প্রশ্ন, আর গুগল এখনো তার উত্তর দেয়নি।
কোন দিকে নজর রাখবেন
দুটি সংকেত বলে দেবে ২০২৬ সত্যি কি না। প্রথমটি, ডেভেলপার প্রিভিউ যেখানে ডেস্কটপ আকৃতির নাম স্পষ্ট করে বলা থাকবে — উইন্ডোইং চালু করা ট্যাবলেট সংস্করণ নয়। দ্বিতীয়টি, গুগল ছাড়া অন্য কোনো নির্মাতা দাম উল্লেখ করে স্ন্যাপড্রাগন অ্যান্ড্রয়েড ল্যাপটপের প্রতিশ্রুতি দেওয়া — লেনোভো, এসার ও আসুস তিনটিই ক্রোমবুক ও উইন্ডোজ যন্ত্র দুটোই বানায়, এবং বিক্রির পূর্বাভাস ছাড়া তারা তৃতীয় ধারার ঘোষণা দেবে না। তাদের কেউ না করা পর্যন্ত ঘোষণাটি একটি দিকনির্দেশ, পণ্য নয়।




