প্রযুক্তি

সার্কল টু সার্চে এল গানের ইতিহাস ও এক চাপে অনুবাদ — সঙ্গে সেই কথাটি, যা জেসচারটি আসলে কী পাঠায় তা নিয়ে কেউ বলে না

বেশির ভাগ মানুষ ভুলে যান এমন অ্যান্ড্রয়েড সুবিধাটির দুটি বিলম্বিত সংশোধন। আগে জানা দরকার: এটি চালু করলে আপনার পর্দায় যা আছে তার ছবি তুলে গুগলে পাঠানো হয়।

সার্কল টু সার্চে এল গানের ইতিহাস ও এক চাপে অনুবাদ — সঙ্গে সেই কথাটি, যা জেসচারটি আসলে কী পাঠায় তা নিয়ে কেউ বলে না

অ্যান্ড্রয়েডে সার্কল টু সার্চ এসেছিল সরল একটি প্রতিশ্রুতি নিয়ে: হোম বোতাম বা নেভিগেশন বার চেপে ধরুন, পর্দায় যেকোনো কিছুর চারপাশে একটি বৃত্ত আঁকুন — ভিডিওর একটি রোদচশমা, ছবির একটি গাছ, চ্যাটের একটি শব্দ — আর অ্যাপ না ছেড়েই ফল পান। এটি ভালো কাজ করে, আর প্রাপ্যের চেয়ে কম ব্যবহৃত হয়। অ্যান্ড্রয়েড পুলিশের খুঁজে পাওয়া কোড অনুযায়ী, গুগল অ্যাপের একটি বিটায় এর দুটি খসখসে দিক মসৃণ হচ্ছে।

কী বদলাচ্ছে

গানের ইতিহাস। ছোট্ট সুরচিহ্ন আইকনের মাধ্যমে সার্কল টু সার্চ আশপাশে বা ভিডিওর ভেতরে বাজতে থাকা গান শনাক্ত করতে পারে। যা পারত না, তা হলো মনে রাখা: বাসে শনাক্ত করা গান বাড়ি পৌঁছানোর আগেই হারিয়ে যেত। বিটায় সুরচিহ্নের পাশে যুক্ত হয়েছে ঘড়ির আকৃতির একটি বোতাম, যা খোলে রিসেন্ট সং সার্চেস তালিকা — শিরোনাম, শিল্পী ও অ্যালবাম আর্টসহ; ফলে কয়েক দিন পরেও গানটি খুঁজে পাওয়া যায় এবং তালিকা থেকেই স্ট্রিমিং অ্যাপে পাঠানো যায়।

নতুন করে শুরু না করেই অনুবাদ। এখন কোনো লেখা ঘিরে বৃত্ত এঁকে তারপর অনুবাদ করতে চাইলে বেরিয়ে এসে আবার সুবিধাটি চালু করে, নির্বাচন করার আগেই অনুবাদের বিকল্প বাছতে হয়। সংশোধনটি ছোট ও বিলম্বিত: সার্কল টু সার্চের ভেতরেই যেকোনো লেখায় চাপ দিন, আর ফলের পাশেই চলে আসবে ট্রান্সলেট বোতাম। যাঁরা দুটি লিপিতে পড়েন, তাঁদের জন্য এটি ঠিক সেই ধাপটিই সরিয়ে দেয় যা সুবিধাটিকে ঝামেলা মনে করাত।

জেসচারটি আসলে যা করে

এটিই জানার মতো অংশ, আর কোনো ঘোষণাই স্পষ্ট করে বলে না।

সার্কল টু সার্চ আপনি যে অ্যাপে আছেন সেটি পড়ছে না। পারেও না — অ্যান্ড্রয়েডের স্যান্ডবক্স এক অ্যাপকে অন্য অ্যাপের ভেতরটা দেখতে দেয় না। জেসচারটি যা করে তা হলো আপনার পর্দার একটি ছবি তোলা, সেই ছবির একটি অংশ আপনাকে চিহ্নিত করতে দেওয়া, আর চিহ্নিত অংশটি ভিজ্যুয়াল সার্চের জন্য গুগলের সার্ভারে পাঠানো। এটি আসলে গুগল লেন্স, সামনে বসানো একটি সিস্টেম-পর্যায়ের জেসচারসহ।

এ থেকে তিনটি ফল আসে, আর তিনটিই মানুষের বিভ্রান্তিকর মনে হওয়া আচরণ ব্যাখ্যা করে।

যা দেখা যায় তাতেই কাজ করে, আর কেবল যা দেখা যায় তাতেই। এ কারণেই এটি ভিডিওর ভেতরের পণ্য বা গেমের ভেতরের শব্দ খুঁজতে পারে — ওই অ্যাপগুলোর সহযোগিতা তার কখনো দরকারই হয়নি। আর এ কারণেই পর্দার বাইরে স্ক্রল হয়ে যাওয়া কিছু এটি খুঁজে পায় না।

পর্দায় যা আছে সবই গুগলে যায়। গোটা অ্যাপ নয়, আপনার ইতিহাসও নয় — কিন্তু পর্দার ছবিটি যায়, আর তাতে থাকে চালু করার মুহূর্তে পর্দায় থাকা বাকি সবকিছুও: চ্যাটের বাকি অংশ, সুতোর অন্য বার্তাগুলো, আপনি যেটি ঘিরে বৃত্ত এঁকেছেন তার ওপরের অ্যাকাউন্ট নম্বরটি। বেশির ভাগ অনুসন্ধানে এটি উল্লেখযোগ্য কিছু নয়। তবে ব্যাংকিং অ্যাপ, কোনো চিকিৎসা রিপোর্ট বা কোনো নথিতে এটি ব্যবহারের আগে জানা দরকার, ছবিটি আপনার আঁকা বৃত্তে সীমাবদ্ধ নয়।

সুরক্ষিত ভিডিওতে এটি ব্যর্থ হয়। কোনো পেইড স্ট্রিমিং সেবায় চেষ্টা করলে ছবিটি প্রায়ই কালো আসে। এটি ইচ্ছাকৃত: সুরক্ষিত ভিডিও আঁকা হয় এমন একটি নিরাপদ পথে, যার স্ক্রিনশট নিতে সিস্টেম অস্বীকার করে — আর হাতে নেওয়া স্ক্রিনশটের মতোই এই নিষেধাজ্ঞা সার্কল টু সার্চেও খাটে।

এত কম মানুষ এটি ব্যবহার করেন কেন

সুবিধাটি ভালো এবং প্রায় অদৃশ্য, আর কারণগুলো শিক্ষণীয়।

এটির অস্তিত্বের ইঙ্গিত দেওয়ার মতো কিছুই পর্দায় নেই। জেসচারটি — হোম বোতাম বা নেভিগেশন বারে লম্বা চাপ — ঠিক সেই জায়গা যেখানে আগে অ্যাসিস্ট্যান্ট থাকত; ফলে যাঁরা ওই সম্পর্কটি শিখেছেন তাঁরা নতুন আচরণটি কখনো আবিষ্কারই করেন না। আর একে লড়তে হয় আগে থেকেই কাজ করা একটি অভ্যাসের সঙ্গে: স্ক্রিনশট নিন, ছবিটি খুলুন, লেন্স সার্চ চালান। একের বদলে তিন ধাপ, কিন্তু মানুষের আগে থেকেই জানা তিন ধাপ।

যে সুবিধা স্পষ্টতই ভালো অথচ একটি জেসচার শিখতে বলে, সেটি সাধারণত হেরে যায় পেশিস্মৃতিতে বসে থাকা নিকৃষ্টতর কিছুর কাছে। কোনো প্ল্যাটফর্ম এমন কিছু ঘোষণা করলে যা কেউ গ্রহণ করছে বলে মনে হয় না, তখন এ কথাটি মনে রাখা ভালো।

ব্যবহার, আর বন্ধ করা

  1. পিক্সেল, গ্যালাক্সি বা সাম্প্রতিক বেশির ভাগ অ্যান্ড্রয়েড ফোনে হোম বোতামে লম্বা চাপ দিন, কিংবা জেসচার মোডে নেভিগেশন বারে।
  2. যা চান তার চারপাশে বৃত্ত আঁকুন, আঁচড় কাটুন বা চাপ দিন। নিচ থেকে ফল উঠে আসবে।
  3. কিছু না হলে স্যামসাংয়ে সেটিংস → ডিসপ্লে → নেভিগেশন বার থেকে, আর পিক্সেলে সেটিংস → সিস্টেম → নেভিগেশন মোড থেকে চালু করুন।

একই সেটিংস থেকে এটি বন্ধও করা যায় — আর হোম বোতামে হাত দিতে গিয়ে যাঁদের বারবার ভুল করে এটি চালু হয়ে যায়, তাঁদের জন্য সেটিই সঠিক সিদ্ধান্ত। অভিযোগটি সাধারণ, আর কাজে ব্যবহৃত ফোনে তা তুচ্ছও নয়।

দুটি সংযোজনই আপাতত কিছু বিটা পরীক্ষকের জন্যই চালু। গুগল সাধারণত সার্কল টু সার্চের পরিবর্তন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গুগল অ্যাপের হালনাগাদের মাধ্যমে সবার কাছে পৌঁছে দেয়, সিস্টেম হালনাগাদ ছাড়াই — আর এ কারণেই আপনার ফোনে হালনাগাদ হয়েছে বলে মনে না হলেও সুবিধাটি বদলে যেতে পারে।

সূত্র: Android Police, Google Lens documentation, Android platform behaviour

লিখেছেন

Mahbub Rabbani

টেক বিডিতে ভোক্তা প্রযুক্তি নিয়ে লেখেন মাহবুব রব্বানী — ফোন, অ্যাপ, অপারেটিং সিস্টেম আর দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রতিদিনের প্ল্যাটফর্ম। সাইটের কীভাবে-করবেন নির্দেশিকাগুলো তাঁর লেখা; কোনো পণ্যকে তিনি মাপেন কেনার খরচ দিয়ে নয়, ব্যবহারের খরচ দিয়ে।