প্রযুক্তি বিশ্ব

একটি বাক্য লিখলেই খেলার উপযোগী গেম বানিয়ে দেবে গুগল ল্যাবস — আর বদলাতে হবে কথা বলে, কোড লিখে নয়

সাধারণ ভাষায় লেখা বর্ণনা থেকে ব্রাউজারে চলা গেম বানিয়ে দেয় প্লেগ্রাউন্ড, তারপর নির্দেশনা দিয়েই বদলানো যায় নিয়ম, চরিত্র ও গতিবিধি।

একটি বাক্য লিখলেই খেলার উপযোগী গেম বানিয়ে দেবে গুগল ল্যাবস — আর বদলাতে হবে কথা বলে, কোড লিখে নয়

গেম বানাতে আর প্রোগ্রামিং জানা বা জটিল সফটওয়্যার শেখা লাগছে না। সাধারণ ভাষায় লিখে জানান আপনি কী চান, আর গুগল ল্যাবসের বানানো প্লেগ্রাউন্ড এআই দিয়ে সেটি তৈরি করে দেবে। গুগল জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্মটিতে বানানো গেম খেলা যাবে আর অন্যদের সঙ্গে শেয়ারও করা যাবে।

প্ল্যাটফর্মটি বানানো হয়েছে এমন ব্যবহারকারীদের কথা ভেবে, যাঁরা গেম বানাতে আগ্রহী কিন্তু প্রোগ্রামিংয়ে দক্ষ নন। কোড লেখার বদলে দিতে হবে লেখা নির্দেশনা, তারপর চ্যাটের মাধ্যমে ফলাফল ঘষামাজা করা যাবে। শুরু করা যাবে একেবারে খালি ক্যানভাস থেকে, কিংবা দেওয়া নমুনা নির্দেশনা ব্যবহার করে। প্রথম সংস্করণ তৈরি হওয়ার পর নতুন নির্দেশনায় বদলানো যাবে খেলার নিয়ম, চরিত্র, তাদের গতিবিধি ও পরিবেশ, আর পরিবর্তনগুলো সরাসরি ওয়েব ব্রাউজারেই পরীক্ষা করা যাবে।

এটি সত্যিই যে কাজে ভালো

এখানে কাজের জিনিসটি প্রোগ্রামিং বাদ দেওয়া নয়। কাজের জিনিসটি হলো, একটি ভাবনা আসা আর ভাবনাটি আদৌ মজার কি না তা দেখার মধ্যেকার দূরত্ব এটি মুছে দেয়।

গেম নকশা মূলত বারবার চেষ্টা। কাগজে চতুর শোনানো নিয়ম খেলায় প্রায়ই বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়ায়, আর তা জানার একমাত্র উপায় খেলে দেখা। আগে সেটি জানতে এক সপ্তাহের নির্মাণ লাগত। পরিবর্তন করতে যদি একটি বাক্য লাগে আর ফল ব্রাউজারেই চলে, তবে একজন নকশাকার এক বিকেলে বিশটি রূপ পরীক্ষা করে যেটি কাজ করে সেটিই রাখতে পারেন।

যাঁদের ভাবনা আছে অথচ তা পরখ করার পথ নেই, তাঁদের জন্যই এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—বাংলাদেশে যে সংখ্যাটি বিশাল, প্রোগ্রামিং শিক্ষক ও সফটওয়্যারের বাজেটহীন বিদ্যালয়গুলোতে।

তৃতীয় চেষ্টাতেই সবাই যে সীমায় ঠেকেন

এ ধরনের সরঞ্জাম মিনিট বিশেকের জন্য মুগ্ধ করে, তারপর একই দেয়ালে ঠেকে—শুরু করার আগে সেটি জানা ভালো।

প্রথম নির্দেশনাতেই আশ্চর্য রকম ভালো কিছু তৈরি হয়। তৃতীয় বা চতুর্থ পরিবর্তনে আগেরগুলোতে ঠিক করা জিনিস ভাঙতে শুরু করে, কারণ মডেল সম্পাদনা করছে না, নতুন করে বানাচ্ছে—আর আগের সিদ্ধান্তটি কেন নেওয়া হয়েছিল তার নির্ভরযোগ্য স্মৃতি তার নেই। “লাফটা একটু উঁচু করো” বললে দশ মিনিট ধরে ঠিক করা সংঘর্ষের আচরণ নীরবে বদলে যেতে পারে।

ব্যবহারিক উপায় হলো প্রতিটি চালু সংস্করণকে সম্পূর্ণ ধরা: যখন কিছু ভালো চলে, পরের পরিবর্তন চাওয়ার আগেই সেটি সংরক্ষণ বা শেয়ার করে রাখুন। সংরক্ষিত ভালো অবস্থা থেকে এগোনোয় কিছুই খরচ হয় না; যা সংরক্ষণ করেননি তা ফেরানো সম্ভব নয়।

এটি যা শেখায় না

এটি স্পষ্ট বলা দরকার, কারণ এ ধরনের সরঞ্জামকে প্রায়ই শিল্পে ঢোকার পথ হিসেবে দেখানো হয়।

গেমের বর্ণনা দেওয়া আর গেম বানানো আলাদা দক্ষতা। যেসব অংশ কাউকে চাকরির যোগ্য করে—একটি লুপ ধীরে চলে কেন তা বোঝা, কেউ চায়নি এমন আচরণ ডিবাগ করা, অন্যের লেখা কোড পড়া, দুর্বল যন্ত্রে কিছু চালানো—ঠিক সেই অংশগুলোই সরঞ্জামটি আপনার হয়ে করে দেয়। এভাবে ত্রিশটি গেম বানানো মানুষের নকশার মূল্যবান সহজাত বোধ থাকে, প্রকৌশলের কিছুই থাকে না।

এটি ব্যবহার না করার যুক্তি নয়। এটি একে প্রশিক্ষণ হিসেবে না দেখার যুক্তি। সৎ বর্ণনা হলো, এটি একটি খসড়া-খাতা—আর খসড়া-খাতা নকশাকারের কাজে লাগে, প্রকৌশলীর জন্য যথেষ্ট নয়।

এখানে যে ব্যবহারটি সত্যিই লাভজনক

বাংলাদেশি শিক্ষকের জন্য কৌতূহলোদ্দীপক প্রয়োগটি সম্ভবত গেম বানানোই নয়। সেটি হলো একটি ধারণা দেখানোর মতো ছোট একটি মিথস্ক্রিয় জিনিস বানানো—এমন একটি সিমুলেশন, যেখানে একটি সংখ্যা বদলালে পর্দায় ফলও বদলায়—পরীক্ষাগারহীন একটি শ্রেণির জন্য।

যে পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক দশ মিনিটে প্রক্ষেপণ গতির একটি চালু প্রদর্শনী বানাতে পারেন, আর শিক্ষার্থী “ভারী হলে কী হতো” জিজ্ঞেস করলে সঙ্গে সঙ্গে তা বদলে দিতে পারেন, তাঁর হাতে এমন কিছু আছে যা কোনো পাঠ্যবই দেয় না আর যা পেতে কোনো বাজেট লাগেনি। “এখন যে কেউ গেম বানাতে পারবে”—এর চেয়ে এটি ছোট দাবি, আর বাস্তব শ্রেণিকক্ষের সংস্পর্শে টিকে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

গেম বানানো পেশা হিসেবে কোথায় নিয়ে যায়, তা নিয়ে দেখুন গেম শিল্পে বেতন ও পথ নিয়ে লেখাটি।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।