প্রযুক্তি

লোকেশন হিস্ট্রি খোঁজার ভালো উপায় পেল গুগল ম্যাপস—ঠিক যখন সেই হিস্ট্রি রাখা তারা বন্ধ করল

"ইওর রিসেন্ট প্লেসেস" ম্যাপসের হিস্ট্রি কাজে লাগানোর মতো করেছে। নিচের বড় বদলটি হলো, টাইমলাইন গুগলের সার্ভার থেকে সরে গেছে আপনার যন্ত্রে—যাতে জিওফেন্স ওয়ারেন্টও শেষ হয়ে গেছে।

লোকেশন হিস্ট্রি খোঁজার ভালো উপায় পেল গুগল ম্যাপস—ঠিক যখন সেই হিস্ট্রি রাখা তারা বন্ধ করল

গুগল ম্যাপস বিনা মূল্যের, আর তার দাম হলো—সে মনে রাখে। প্রতিটি সার্চ, প্রতিটি পথ, শুক্রবার রাতে ছুঁয়ে দেখা প্রতিটি রেস্তোরাঁ নথিভুক্ত থাকে, আর নীতিগতভাবে আবার খুঁজে পাওয়া যায়। বাস্তবে "রমজানে যে কাবাবের দোকানটায় গিয়েছিলাম" খুঁজতে হতো দিনে এক ডজন করে বাড়তে থাকা কালানুক্রমিক তালিকা ধরে পেছনে স্ক্রল করে।

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে দেখা যাওয়া ইওর রিসেন্ট প্লেসেস অংশটি তারই সমাধান। তবে এটি এসেছে একই তথ্যে ঘটা অনেক বড় একটি বদলের সঙ্গে, আর দুটি একসঙ্গে পড়াই ভালো।

ছোট বদল: একটি সূচি

অংশটিতে চারটি ফিল্টার—এরিয়া, ক্যাটাগরি, সেভড আর ম্যাপস হিস্ট্রি। এরিয়া তালিকা সরু করে কোনো এলাকা বা শহরে; ক্যাটাগরি ভাগ করে খাবার ও পানীয়, সংস্কৃতি, কেনাকাটা, দর্শনীয় স্থান আর হোটেলে; সেভড দেখায় কেবল আগে থেকেই তালিকায় থাকা জায়গা; আর ম্যাপস হিস্ট্রি পুরোনো পূর্ণ তালিকা।

প্রতিটি এন্ট্রির পাশে থাকে বুকমার্ক আইকন আর তিন-বিন্দু মেনুতে মুছে ফেলার সুযোগ। অর্থাৎ কাবাবের দোকানটি দাঁড়ায়: এরিয়া, তারপর ক্যাটাগরি, ব্যস—আর আলাদা এন্ট্রি দেখার মতোই সহজে মুছেও ফেলা যায়, যা আগে সত্যি ছিল না।

বড় বদল: তথ্যটি কার হাতে

আলাদাভাবে গুগল টাইমলাইন—আগেকার লোকেশন হিস্ট্রি—নিজেদের সার্ভার থেকে সরিয়ে যন্ত্রে নিয়ে গেছে। কোথায় গেছেন আর কোন পথে, তা এখন ক্লাউডে নয়, প্রতিটি ফোনের ভেতরের একটি মানচিত্রে জমা হয়; টাইমলাইনের ওয়েব সংস্করণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসে এটি এসেছে ধাপে ধাপে।

ফোন হারালে হিস্ট্রিও হারিয়ে যেত বলে গুগল যোগ করেছে এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ ও যন্ত্র বদলের সুযোগ: একটি অনুলিপি আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে রাখা যায় এমন রূপে, যা গুগল পড়তে পারে না।

ফিল্টারের চেয়ে এটি কেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ

দুটি বদলের কোনোটির প্রতিবেদনেই যে পরিণতিটি বেশির ভাগ সময় বাদ পড়েছে, সেটি এই।

লোকেশন হিস্ট্রি যতদিন গুগলের সার্ভারে ছিল, ততদিন তা জিওফেন্স ওয়ারেন্টের আওতায় ছিল—আদালতের এমন আদেশ, যাতে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট জায়গার আশপাশে থাকা প্রতিটি যন্ত্র শনাক্ত করতে বলা হয়। একে কখনো রিভার্স-লোকেশন ওয়ারেন্টও বলা হয়, আর এর বৈশিষ্ট্য হলো—এতে কোনো সন্দেহভাজনের নাম থাকে না। জানতে চাওয়া হয় কোন ফোনগুলো এলাকায় ছিল, আর সেখান থেকে পেছনে হাঁটা হয়।

গুগল এ ধরনের বিপুলসংখ্যক আদেশ পেত। টাইমলাইন যন্ত্রে চলে যাওয়ায় আর ব্যাকআপ এনক্রিপ্টেড হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির হাতে দেওয়ার মতো তথ্যই আর নেই। কোনো ব্যক্তির ওপর এখনো ওয়ারেন্ট জারি করা যায়, কিন্তু আশপাশে থাকা সবার বিরুদ্ধে ঢালাও অনুসন্ধানটি চালানোর মতো কিছু আর অবশিষ্ট নেই।

নীতির বদলে স্থাপত্য দিয়ে অর্জিত গোপনীয়তার এটি অস্বাভাবিক রকম পরিষ্কার উদাহরণ। গুগল এসব অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের প্রতিশ্রুতি দেয়নি; তারা উত্তর দিতে পারাই বন্ধ করেছে। প্রতিশ্রুতি ব্যবস্থাপনা আর এখতিয়ারভেদে বদলায়। তথ্য হাতে না থাকা বদলায় না।

আপসগুলো, সোজাভাবে

তিনটি, আর সেগুলো সত্যিকারের।

  1. ঝুঁকিটি এখন আপনার। ফোনে থাকা হিস্ট্রি ঠিক ততটাই নিরাপদ, যতটা আপনার ফোন। এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ চালু না করে ফোন হারালে নথিটি শেষ; খোলা অবস্থায় হারালে নথিটি অন্য কারও।
  2. ওয়েব টাইমলাইন আর নেই। বড় পর্দায় বছরের পর বছরের হিস্ট্রি দেখা আর যায় না, যা খরচের হিসাব আর ভ্রমণের নথির জন্য সত্যিই কাজে লাগত।
  3. এটি টাইমলাইনের জন্য, সবকিছুর জন্য নয়। ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাকটিভিটি—যা সার্চ আর আপনি যেসব জায়গায় ছুঁয়েছেন তা রাখে, আর যা নতুন রিসেন্ট প্লেসেস পাতাটিকে চালায়—আলাদা একটি সেটিং, সাধারণত চালু, আর এখনো সার্ভারেই।

আসলে খোলার মতো সেটিংটি ওটিই। অ্যান্ড্রয়েডে: প্রোফাইল ছবি → ইওর ডেটা ইন ম্যাপস → ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাকটিভিটি, যেখানে স্বয়ংক্রিয় মুছে ফেলা ৩, ১৮ বা ৩৬ মাসে বেঁধে দেওয়া যায়। রিসেন্ট প্লেসেস পাতাটি কাজে লাগে ঠিক এ কারণেই যে কিছু একটা সবই নথিভুক্ত করছে; ওই নথি কত দিন টিকবে তা ঠিক করাই সুবিধাটির বাকি অর্ধেক।

সূত্র: গুগলের ঘোষণা; অ্যান্ড্রয়েড অথরিটি; ৯টু৫গুগল; দ্য হ্যাকার নিউজ; অ্যান্ড্রয়েড পুলিশ; আর প্রথম আলোর মূল প্রতিবেদন।

সূত্র: Google, Android Authority, 9to5Google, The Hacker News, Android Police, Prothom Alo

লিখেছেন

Mahbub Rabbani

টেক বিডিতে ভোক্তা প্রযুক্তি নিয়ে লেখেন মাহবুব রব্বানী — ফোন, অ্যাপ, অপারেটিং সিস্টেম আর দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রতিদিনের প্ল্যাটফর্ম। সাইটের কীভাবে-করবেন নির্দেশিকাগুলো তাঁর লেখা; কোনো পণ্যকে তিনি মাপেন কেনার খরচ দিয়ে নয়, ব্যবহারের খরচ দিয়ে।