প্রযুক্তি

১৪ অক্টোবর থামছে উইন্ডোজ ১০-এর আপডেট—আরও এক বছর নিরাপত্তা প্যাচ পাওয়ার তিনটি পথ, একটি বিনা মূল্যে

১৪ অক্টোবর উইন্ডোজ ১০-এর প্যাচ দেওয়া বন্ধ করছে মাইক্রোসফট। উইন্ডোজ ১১ চালাতে না পারা পিসির জন্য—বাংলাদেশের অফিস, সাইবার ক্যাফে ও বাড়ির বেশির ভাগ যন্ত্র—আছে ৩০ ডলারের এক্সটেন্ডেড সিকিউরিটি আপডেটসের এক বছর, বা ক্লাউডে সেটিংস ব্যাকআপ কিংবা ১,০০০ মাইক্রোসফট রিওয়ার্ডস পয়েন্টে বিনা মূল্যে এক বছর। প্রতিটি কীভাবে কাজ করে, আর কিছু না করলে কী হয়।

১৪ অক্টোবর থামছে উইন্ডোজ ১০-এর আপডেট—আরও এক বছর নিরাপত্তা প্যাচ পাওয়ার তিনটি পথ, একটি বিনা মূল্যে

হালনাগাদ, অক্টোবর ২০২৬ — এই লেখার দুটি তারিখই পেরিয়ে গেছে। উইন্ডোজ ১০-এর সমর্থন শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর, আর এখানে বর্ণিত এক বছরের কনজিউমার এক্সটেন্ডেড সিকিউরিটি আপডেটস শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর। মাইক্রোসফট বলেছে, গ্রাহকদের জন্য দ্বিতীয় কোনো বছর নেই। কী ঘটল আর কী বাকি রইল — মূল লেখার পরেই।

১৪ অক্টোবর ২০২৫ উইন্ডোজ ১০-এর নিরাপত্তা আপডেট দেওয়া বন্ধ করছে মাইক্রোসফট। অপারেটিং সিস্টেম চলতে থাকবে—কিছু বন্ধ হয় না—কিন্তু সেই তারিখের পর পাওয়া প্রতিটি দুর্বলতা খোলা থাকবে, আর অপরাধীরা ঠিক এমন তারিখ ধরেই অভিযান সাজায়। মাইক্রোসফটের পরামর্শ উইন্ডোজ ১১-এ যাওয়া। বিপুল সংখ্যক যন্ত্রের জন্য তা সম্ভব নয়: উইন্ডোজ ১১-এর দরকার মোটামুটি ২০১৮ বা পরের প্রসেসর আর টিপিএম ২.০ নিরাপত্তা চিপ, আর বাংলাদেশে বসানো যন্ত্রের বড় অংশ—দল বেঁধে কেনা অফিসের ডেস্কটপ, সাইবার ক্যাফের পিসি, পরিবারের ল্যাপটপ—একটি বা দুটি পরীক্ষাতেই ফেল। তাদের জন্য মাইক্রোসফট খুলেছে এক বছরের সেতু এক্সটেন্ডেড সিকিউরিটি আপডেটস (ইএসইউ), তিনটি পথে।

বিকল্প ১: ৩০ ডলার দিন

ভোক্তারা যন্ত্রপ্রতি ৩০ মার্কিন ডলারে এক বছরের ইএসইউ কিনতে পারেন, যা ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত নিরাপত্তা প্যাচ দেয়। ব্যবসার জন্য আলাদা, দামি কর্মসূচি আছে, যা তিন বছর চলতে পারে। পেমেন্টে মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট ও আন্তর্জাতিক কার্ড লাগে—এখানে চিরাচরিত বাধা।

বিকল্প ২: ক্লাউডে ব্যাকআপ, বিনা মূল্যে

পিসির সেটিংস মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টে সিঙ্ক করতে উইন্ডোজ ব্যাকআপ চালু করে বিনা খরচে ইএসইউতে নাম লেখান। করা যায় সেটিংস → অ্যাকাউন্টস → উইন্ডোজ ব্যাকআপ থেকে। মাইক্রোসফট ৫ জিবি ওয়ানড্রাইভ বিনা মূল্যে দেয়; সেটিংসে এর প্রায় কিছুই লাগে না, তবে ফোল্ডারও ব্যাকআপ করতে দিলে সীমায় ঠেকে আরও কিনতে বলা হতে পারে। বাধ্য নন।

বিকল্প ৩: ১,০০০ রিওয়ার্ডস পয়েন্ট, বিনা মূল্যে

মাইক্রোসফট রিওয়ার্ডস পয়েন্ট মেলে বিংয়ে সার্চ, মাইক্রোসফট স্টোরে কেনাকাটা, এক্সবক্স গেম ও দৈনিক কাজ সম্পন্ন করে। ১,০০০ পয়েন্টে এক বছরের ইএসইউ। শূন্য থেকে শুরু করলে তা কয়েক সপ্তাহের দৈনিক বিং সার্চ; নীতিগতভাবে ক্লাউড ব্যাকআপে অনিচ্ছুকদের জন্য এটি।

নাম লেখাবেন যেভাবে

  1. বকেয়া সব উইন্ডোজ ১০ আপডেট বসান; হালনাগাদ ২২এইচ২ যন্ত্রে সেটিংস → আপডেট অ্যান্ড সিকিউরিটি → উইন্ডোজ আপডেট-এ ইএসইউ নাম লেখানোর উইজার্ড আসে।
  2. মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টে সাইন-ইন করুন (লোকাল অ্যাকাউন্টে নাম লেখানো যায় না)।
  3. তিনটি বিকল্পের একটি বাছুন। প্রথম দিন থেকে সুরক্ষা পেতে অক্টোবরে বিনা মূল্যের বিকল্পের সময়সীমার আগে নাম লেখানো শেষ করতে হবে।

কিছু না করলে

পিসি চলতে থাকে আর ব্রাউজার আপডেট হতে থাকে—ক্রোম ও ফায়ারফক্স কিছুদিন উইন্ডোজ ১০ সমর্থন করবে—কিন্তু অপারেটিং সিস্টেম নিজেই ক্রমবর্ধমান দায় হয়, আর বিকাশ, ব্যাংকিং বা অফিসের ইমেইল সামলানো কোনো যন্ত্রের প্যাচহীন অবস্থায় এতে থাকা উচিত নয়। অযোগ্য পিসির সৎ দীর্ঘমেয়াদি উত্তর হালকা লিনাক্স, বা নতুন যন্ত্র; ইএসইউ সিদ্ধান্তের জন্য এক বছর কেনে।

সূত্র: নিউজ১৮, প্রথম আলোর বরাতে।

আজ পরিস্থিতি কোথায়

ঘোষণা অনুযায়ীই ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর উইন্ডোজ ১০-এর সমর্থন শেষ হয়। গ্রাহকদের এক্সটেন্ডেড সিকিউরিটি আপডেটস চলে তার পরদিন থেকে এক বছর, আর শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর। মাইক্রোসফট ধারাবাহিকভাবেই বলে এসেছে, গ্রাহকদের কর্মসূচিটি এক বছরের এবং এটি বাড়ানো হবে না; আলাদা বাণিজ্যিক কর্মসূচিটি বছরে বছরে তিন বছর পর্যন্ত নবায়ন করা যায়, আর প্রতি বছর তার দাম দ্বিগুণ হয়।

কাজেই এই লেখায় বর্ণিত সময়টুকু প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। যিনি এখনো উইন্ডোজ ১০-এ আছেন, তাঁর হাতে মাস নয়, দিন।

প্রকাশের পর একটি জিনিসই বদলেছে

ওপরে বর্ণিত তিনটি পথ ছিল বিশ্বের বেশির ভাগ জায়গার ব্যবস্থা, আর এর দুটির সঙ্গে শর্ত জোড়া ছিল: বিনা মূল্যের পথে উইন্ডোজ ব্যাকআপ চালু করতে হতো, যা সেটিংস ওয়ানড্রাইভে সিংক করে এবং যন্ত্রটিকে মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে বেঁধে ফেলে; নয়তো বিং ও মাইক্রোসফট স্টোর থেকে অর্জিত ১,০০০ মাইক্রোসফট রিওয়ার্ডস পয়েন্ট খরচ করতে হতো।

ইউরোপের ভোক্তা সংগঠনগুলো আপত্তি তোলে। তাদের যুক্তি, সচল একটি কম্পিউটারকে নিরাপদ রাখতে অর্থ নেওয়া — কিংবা ক্লাউডে নিবন্ধন আর সার্চের কর্মকাণ্ড আদায় করা — আসলে নীতির জোরে কার্যক্ষম যন্ত্রকে অচল বানানোরই নামান্তর। ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য মাইক্রোসফট পিছু হটে; সেখানে গ্রাহকেরা ব্যাকআপ বা রিওয়ার্ডসের শর্ত ছাড়াই বিনা মূল্যে ইএসইউ বছরটি পান।

এই বিভাজন লক্ষ করার মতো, কে সুবিধা পেল তার জন্য নয়, বরং এটি কী দেখায় তার জন্য। একই কোম্পানি, একই সফটওয়্যার, একই নিরাপত্তা প্যাচ — অথচ কোন নিয়ন্ত্রক নজর রাখছে তার ওপর নির্ভর করে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন শর্তে সরবরাহ। ইইএর বাইরের পাঠকের জন্য বাস্তব শিক্ষাটি হলো, শর্তগুলো কখনোই কারিগরি বাধ্যবাধকতা ছিল না।

২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবরের পর আসলে কী বাকি

চারটি উপায়, মোটামুটি খরচের ক্রমে।

১. যন্ত্র উপযুক্ত হলে উইন্ডোজ ১১-তে যান। বিনা মূল্যে, আর মাইক্রোসফট কেবল এই পথটিকেই সমর্থন করে। বেশির ভাগ যন্ত্র বাদ পড়ে যে শর্তে, তা হলো টিপিএম ২.০ এবং মোটামুটি ২০১৮ বা তার পরের প্রসেসর। অনুমান না করে পিসি হেলথ চেক দিয়ে যাচাই করুন — অনেক যন্ত্র বাদ পড়ে কেবল এ কারণে যে ফার্মওয়্যারে টিপিএম বন্ধ করা আছে, যা বায়োসের একটি সেটিং, যন্ত্রের সীমা নয়।

২. অসমর্থিত যন্ত্রে উইন্ডোজ ১১ বসান। এটি সম্ভব, আর মাইক্রোসফট নিজেই রেজিস্ট্রির একটি উপায় নথিবদ্ধ করেছে — তবে স্পষ্ট করে সমর্থন অস্বীকার করে, সতর্ক করে যে এমন যন্ত্র হালনাগাদ না-ও পেতে পারে এবং কোনো ক্ষতি ওয়ারেন্টির আওতায় পড়বে না। আজ অনেকের ক্ষেত্রেই এটি কাজ করছে। কিন্তু এটি এমন একটি বিন্যাস, যার সেবা বন্ধ করার অধিকার নির্মাতা নিজের হাতে রেখে দিয়েছে — ব্যাংকিং চালানো যন্ত্রের জন্য যা দুর্বল ভিত্তি।

৩. লিনাক্সে যান। ২০১৫ সালের যে ল্যাপটপে উইন্ডোজ ১১ চলবে না, তাতে চালু ধারার ডেস্কটপ লিনাক্স বর্তমান উইন্ডোজ ১০-এর চেয়ে দ্রুত চলবে এবং বছরের পর বছর নিরাপত্তা হালনাগাদ পাবে। আসল খরচ কাঠিন্য নয়; আধুনিক ইনস্টলার সহজ। আসল খরচ সামঞ্জস্য: কেবল উইন্ডোজে চলা কোনো নির্দিষ্ট সফটওয়্যার, বিশেষ কোনো প্রিন্টার বা স্ক্যানার, কিংবা অফিসের রিমোট অ্যাকসেস ক্লায়েন্ট — এর যেকোনো একটিই পথটি বন্ধ করে দিতে পারে। কিছু মোছার আগে দেখে নিন আপনি আসলে কীসের ওপর নির্ভরশীল।

৪. নতুন যন্ত্র কিনুন। মাইক্রোসফট এটিই চায়, আর যে যন্ত্র উইন্ডোজ ১১-র পরীক্ষায় ফেল করার মতো পুরোনো, তার জন্য প্রায়ই এটিই নিজস্ব যুক্তিতে সঠিক।

কিছুই না করলে

কম্পিউটার চলতেই থাকবে। কিছুই বন্ধ হয়ে যায় না — আর ঠিক এ কারণেই প্যাচবিহীন যন্ত্র বছরের পর বছর টিকে থাকে।

যা বদলায় তা হলো, উইন্ডোজে নতুন করে পাওয়া প্রতিটি নিরাপত্তাত্রুটি আপনার যন্ত্রে স্থায়ীভাবে খোলা থেকে যায়; আর আক্রমণকারীরা সমর্থন শেষ হওয়ার পরের সময়টিকেই বিশেষভাবে বেছে নেয়, কারণ প্যাচবিহীন যন্ত্রের সংখ্যা তখন জানা, বড়, এবং আর কমছে না। ব্রাউজার অপারেটিং সিস্টেমের চেয়ে পিছিয়ে চলে — ক্রোম ও ফায়ারফক্স কিছুকাল উইন্ডোজ ১০-এ সমর্থন চালিয়ে যাবে — আর মাইক্রোসফট ২০২৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত উইন্ডোজ ১০-এ মাইক্রোসফট ৩৬৫ অ্যাপের নিরাপত্তা হালনাগাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু এর কোনোটিই নিচের অপারেটিং সিস্টেমকে রক্ষা করে না।

বাস্তব সীমারেখাটি টানা উচিত ব্যবহারের ভিত্তিতে। যে যন্ত্রে গান-ছবি চলে, অফলাইন সফটওয়্যার চলে, কিংবা কারখানার কোনো যন্ত্র নিয়ন্ত্রিত হয়, তার ঝুঁকি মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু যে যন্ত্রে ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা, ব্যবসায়িক ইমেইল বা অন্যের তথ্য রাখা হয়, সেটিতে প্যাচবিহীন অপারেটিং সিস্টেম চলা উচিত নয় — আর যন্ত্রটি এখনো চালু হচ্ছে বলেই সেটি নিরাপদ, এমন কোনো যুক্তি নেই।

সূত্র: Microsoft, SecurityWeek, BetaNews, Euroconsumers, Tech BD archive (August 2025), updated October 2026

লিখেছেন

Mahbub Rabbani

টেক বিডিতে ভোক্তা প্রযুক্তি নিয়ে লেখেন মাহবুব রব্বানী — ফোন, অ্যাপ, অপারেটিং সিস্টেম আর দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রতিদিনের প্ল্যাটফর্ম। সাইটের কীভাবে-করবেন নির্দেশিকাগুলো তাঁর লেখা; কোনো পণ্যকে তিনি মাপেন কেনার খরচ দিয়ে নয়, ব্যবহারের খরচ দিয়ে।