প্রযুক্তি

মেটা আনল ভাইবস, যে ফিডের প্রতিটি ভিডিও এআইয়ের বানানো — আর ক্লিপগুলোর চেয়ে নিচের অর্থনীতিটি বেশি কৌতূহলোদ্দীপক

একই মাসে কৃত্রিম ভিডিও নিয়ে মেটা ও ইউটিউব উল্টো বাজি ধরেছে। দুটিরই নিচে একটি সত্য: কনটেন্ট বানাতে খরচ না লাগলে নির্মাতাদের সঙ্গে সমঝোতাটির আর মানে থাকে না।

মেটা আনল ভাইবস, যে ফিডের প্রতিটি ভিডিও এআইয়ের বানানো — আর ক্লিপগুলোর চেয়ে নিচের অর্থনীতিটি বেশি কৌতূহলোদ্দীপক

মার্ক জাকারবার্গ কয়েকটি ক্লিপ দিয়ে এটির ঘোষণা দেন: একটি বিড়াল যে একই সঙ্গে বাবুর্চি, কাগজের মতো ভাঁজ হয়ে যাওয়া একটি শহর, আতশবাজিতে রূপান্তরিত হওয়া এক নারী। কোনোটিই ধারণ করা নয়। ভাইবস হলো মেটা এআই অ্যাপ ও meta.ai-তে থাকা একটি ফিড, যার প্রতিটি ভিডিওই তৈরি করা — আর ঘোষিত উদ্দেশ্য দেখা নয়, বানানো।

যেভাবে কাজ করে

টিকটক বা রিলসের মতোই ফিড খুলে স্ক্রল করুন। যেকোনো ক্লিপ রিমিক্স করা যায়: অন্য কারও ভিডিও নিয়ে দৃশ্য বদলান, নতুন ধাঁচ বসান, সংগীত জুড়ুন, আর ফলটি ভাইবসে ফিরিয়ে দিন কিংবা ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের স্টোরিজ ও রিলসে পাঠান। শূন্য প্রম্পট থেকেও শুরু করা যায়। মেটার অন্য অ্যাপগুলোর মতোই সুপারিশের অ্যালগরিদম শিখে নেয় আপনি কোথায় থামছেন।

এখন তৈরির কাজ চলে মিডজার্নি ও ব্ল্যাক ফরেস্ট ল্যাবস-এর মডেলে; মেটার প্রধান এআই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, কোম্পানির নিজস্ব ভিডিও মডেল এখনো তৈরি হচ্ছে আর সেটিই এগুলোর জায়গা নেবে।

প্ল্যাটফর্ম এটি চায় কেন

স্পষ্ট পাঠটি হলো, কয়েক হাজার কোটি ডলারের এআই ব্যয়কে যুক্তিসংগত দেখাতে মেটার একটি জায়গা দরকার। সত্যি, তবে সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক অংশ এটি নয়।

সামাজিক প্ল্যাটফর্মের কঠিনতম স্থায়ী সমস্যা কনটেন্টের জোগান। প্রতিদিন তার বিপুল পরিমাণ নতুন উপকরণ দরকার, সে নিজে কিছুই বানায় না, আর যাঁরা বানান তাঁদের ধরে রাখতে হয় — এ কারণেই প্ল্যাটফর্মগুলো ক্রিয়েটর ফান্ড, আয়ের ভাগ আর বোনাস কর্মসূচি চালায়। ব্যবস্থাটি ব্যয়বহুল, এটি নিরন্তর দরকষাকষি, আর যে বেশি দেয় নির্মাতারা মাঝেমধ্যেই তার কাছে চলে যান।

তৈরি করা কনটেন্ট শর্তগুলো পুরোপুরি বদলে দেয়। চাহিদামতো প্রায় শূন্য প্রান্তিক খরচে উপকরণ বানানো গেলে জোগানের সীমাবদ্ধতা উবে যায়, আর সঙ্গে উবে যায় যাঁরা এত দিন জোগান ছিলেন তাঁদের দরকষাকষির ক্ষমতাও। যে প্ল্যাটফর্ম নিজের ফিড নিজেই ভরে, তাকে কারও সঙ্গে আয় ভাগ করতে হয় না — কারণ এমন কেউ আর থাকে না যাঁর অনুপস্থিতিতে ফাঁক তৈরি হবে।

এই একটিমাত্র অ্যাপের অনেক বাইরেও লক্ষ করার মতো ঘটনা এটিই। ভিডিওগুলো ভালো কি না তা নয় — বেশির ভাগই হবে না — বরং এই যে, প্ল্যাটফর্ম আর যাঁরা সেগুলো ভরেন তাঁদের সম্পর্কের প্রথমবারের মতো একটি সস্তা বিকল্প তৈরি হলো।

একই মাসে দুটি উল্টো বাজি

ভাইবস এসেছে ঠিক তখনই, যখন ইউটিউব গণহারে বানানো কৃত্রিম ভিডিওর বিরুদ্ধে নিয়ম কড়া করেছে — যেগুলো সুপারিশ ও আয়ের ব্যবস্থা ভারাক্রান্ত করছিল। দুটি প্রতিক্রিয়া পরস্পরবিরোধী দেখায়, আর আসে ভিন্ন অবস্থান থেকে।

ইউটিউবের ব্যবসা মানুষ যা দেখতে বেছে নিয়েছে তার পাশে বিজ্ঞাপন, আর তার ঝুঁকি হলো সুপারিশ ভরে যাবে এমন সস্তা কৃত্রিম উপকরণে যা দর্শক চান না — তাতে পণ্য ও বিজ্ঞাপনের জায়গা দুটিরই মান পড়ে। তাই ইউটিউব সীমিত করে।

মেটা সিদ্ধান্তে এসেছে, ছোট ভিডিও যদি এমনিতেই কৃত্রিম কনটেন্টে ভেসে যায়, তবে বানের মালিকানা তারই থাকা ভালো — আর একে সহনীয় করার উপায় হলো আলাদা একটি ফিডে রাখা, যা গঠনগতভাবেই চিহ্নিত আর যাতে মানুষ ইচ্ছে করে ঢোকেন। নিষেধ নয়, পৃথকীকরণ।

কোনটি সঠিক তা নির্ভর করে এমন একটি তথ্যগত প্রশ্নের ওপর, যার উত্তর কেউ দেয়নি: মানুষ আদৌ এটি চান কি না। মেটার পক্ষে সৎ যুক্তি হলো, গত দশকের বিপুল জনপ্রিয় ধাঁচগুলো — কোনো সুর রিমিক্স করা, ভিডিওর জবাবে ভিডিও, মিম সম্পাদনা — ইঙ্গিত দেয় যে নিষ্ক্রিয় দেখার চেয়ে অংশগ্রহণই জেতে; আর দেখার বদলে বানানোর জন্য গড়া ফিড অন্তত বাস্তব কিছুর দিকেই তাক করা। বিপক্ষের যুক্তি হলো, উৎপাদনটি স্বভাবতই বিনিময়যোগ্য — আর বিনিময়যোগ্য জিনিসের ফিড এমন ফিড, যা খোলা বন্ধ করে দিলে কারও মনে পড়ে না।

লেবেল, আর তা ফাঁস হয় কেন

মেটার যুক্তি হলো, ভাইবসে বানানো কনটেন্টে জলছাপ থাকে আর মূল ফিডে পৌঁছালে তা চিহ্নিত করা যায়। এটি আসলে কীভাবে কাজ করে তা বোঝা দরকার, কারণ দুটি ব্যবস্থা আছে আর দুটি ভিন্নভাবে ব্যর্থ হয়।

শিল্পের কারিগরি পদ্ধতিটি ফাইলের সঙ্গে জুড়ে দেয় প্রোভেন্যান্স মেটাডেটা: কী দিয়ে বানানো আর পরে কী করা হয়েছে, তার স্বাক্ষরিত একটি নথি। ফাইলটি ফাইল থাকা পর্যন্ত এটি মজবুত — আর যেকোনো কৌতূহলোদ্দীপক ভিডিওর সঙ্গে সবচেয়ে সাধারণ যা ঘটে, তাতেই এটি ধ্বংস হয়ে যায়। স্ক্রিনশট নিন, স্ক্রিন রেকর্ড করুন, কিংবা এমন অন্য প্ল্যাটফর্মে আবার আপলোড করুন যা ফাইলটি নতুন করে এনকোড করে — মেটাডেটা নেই। টিকে থাকে পিক্সেলগুলো।

এ কারণেই পরিশীলিত অদৃশ্য জলছাপের চেয়ে দৃশ্যমান জলছাপ বেশি কাজ করে। আর সেটি কেটে ফেলাও যায়, আর নিয়মিতই কাটা হয়।

কাজেই লেবেল কাজে লাগে তখনই, যখন কনটেন্ট সহযোগিতাকারী ব্যবস্থাগুলোর মধ্য দিয়ে চলে — আর যে ক্ষেত্রটি গুরুত্বপূর্ণ সেখানে প্রায় কিছুই করে না: উৎস মুছে ফেলে সত্যি বলে চালিয়ে দেওয়া একটি ক্লিপ। কৃত্রিম মাধ্যম আসার পর থেকেই প্রশ্নটি খোলা, আর কোনো ঘোষণাই তা বন্ধ করেনি।

যে অংশটি আগে থেকেই সমস্যা

বহু দেশের ফিড আগে থেকেই এআইয়ের বানানো ক্লিপে ঠাসা — ক্যাপশন দেওয়া “ঐতিহাসিক” দৃশ্য, বানানো পণ্য প্রদর্শনী, তৈরি করা দৃশ্যের ওপর ওয়াজ — বেশির ভাগই লেবেলহীন, আর কিছু কিছু দিয়ে বিক্রি করা হয় এমন জিনিস যার অস্তিত্বই নেই। এমন ক্লিপ বানানো সহজ করে দেওয়া সরঞ্জাম কোনো লেবেল পরিস্থিতি ভালো করার আগেই তা খারাপ করে — কারণ যাঁরা প্রতারণার জন্য এগুলো বানান, লেবেলটি ঠিক তাঁরাই মুছে দেবেন।

দর্শক আসলে যা করতে পারেন তা জৌলুসহীন, আর কোনো প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতা ছাড়াই কাজ করে। যে ভিডিওতে কোনো পণ্যকে অসাধারণ কিছু করতে দেখা যায়, প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত তাকে বিজ্ঞাপন ধরুন। দেখুন, যে অ্যাকাউন্ট পোস্ট করেছে তার বাইরে আর কেউ একই কথা জানিয়েছে কি না। সবচেয়ে বেশি সন্দেহ করুন সেই ফুটেজকে, যা আবেগে কার্যকর অথচ যার কোনো শনাক্তযোগ্য উৎস নেই — যেকোনো দৃশ্যগত ত্রুটির চেয়ে এই সমন্বয়টিই আসল স্বাক্ষর, কারণ ত্রুটিগুলো প্রতি বছর কমে আর উৎসের অভাবটি কমে না।

আপাতত ফিডটি ছাড়া হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও আরও কয়েকটি দেশে; মেটা এআই অ্যাপ যেখানে পৌঁছাবে, সেখানেই এটি আসবে।

সূত্র: Meta, YouTube monetisation policy, content provenance standards, Techlusive

লিখেছেন

Mahbub Rabbani

টেক বিডিতে ভোক্তা প্রযুক্তি নিয়ে লেখেন মাহবুব রব্বানী — ফোন, অ্যাপ, অপারেটিং সিস্টেম আর দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রতিদিনের প্ল্যাটফর্ম। সাইটের কীভাবে-করবেন নির্দেশিকাগুলো তাঁর লেখা; কোনো পণ্যকে তিনি মাপেন কেনার খরচ দিয়ে নয়, ব্যবহারের খরচ দিয়ে।