প্রযুক্তি

ছায়াপথকে বাইরে রাখা বুদ্‌বুদের মানচিত্র আঁকতে যাত্রা করল নাসার আইম্যাপ—আর সৌরঝড় আঘাত হানার আগে পৃথিবীকে ৩০ মিনিটের সতর্কবার্তা দিতে

ইন্টারস্টেলার ম্যাপিং অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন প্রোব বুধবার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপিত হলো, গন্তব্য সূর্যের দিকে ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরের এল১ বিন্দু। কাজ হেলিওস্ফিয়ারের—বেশির ভাগ মহাজাগতিক বিকিরণ ঠেকানো সৌরবায়ুর ঢালের—মানচিত্র আঁকা, আর রিয়েল-টাইমে সৌরবায়ুর তথ্য পাঠানো, যা ঝড়ের—যে ঝড় স্যাটেলাইট ও বিদ্যুৎ গ্রিড ফেলে দেয়—আধা ঘণ্টা আগে খবর দিতে পারে।

ছায়াপথকে বাইরে রাখা বুদ্‌বুদের মানচিত্র আঁকতে যাত্রা করল নাসার আইম্যাপ—আর সৌরঝড় আঘাত হানার আগে পৃথিবীকে ৩০ মিনিটের সতর্কবার্তা দিতে

সূর্য সৌরজগৎকে শুধু আলো দেয় না। মুড়ে রাখে। চার্জযুক্ত কণার এক অবিরাম বাতাস সূর্য থেকে সব দিকে বয়ে যায়, তারাদের মাঝের পাতলা গ্যাস ও ধুলাকে ঠেলে, যতক্ষণ না দুই পক্ষ থমকে দাঁড়ায়—কয়েক হাজার কোটি কিলোমিটার দূরে। ভেতরের অঞ্চলটি হেলিওস্ফিয়ার, আর এ কারণেই পৃথিবীতে প্রাণ সম্ভব: বুদ্‌বুদটি সেই উচ্চশক্তির মহাজাগতিক রশ্মির বেশির ভাগ ফিরিয়ে দেয়, যা নইলে ছায়াপথ আমাদের ওপর ঢেলে দিত। বুধবার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে এর মানচিত্র আঁকতে একটি মহাকাশযান পাঠাল নাসা: ইন্টারস্টেলার ম্যাপিং অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন প্রোব, বা আইম্যাপ।

আইম্যাপ যা করবে

প্রোবটিতে কণা ও বিকিরণ শনাক্ত আর চৌম্বকক্ষেত্র মাপার যন্ত্র আছে। নিজের অবস্থান থেকে এটি রিয়েল-টাইমে সৌরবায়ু দেখবে, আর ধরবে বুদ্‌বুদের প্রান্ত থেকে ফিরে আসা কণা—শক্তিশালী নিরপেক্ষ পরমাণু, যা সৌরবায়ু ও আন্তনাক্ষত্রিক মহাকাশের মিলনসীমার তথ্য বহন করে। সেগুলো থেকে বিজ্ঞানীরা গড়তে পারবেন হেলিওস্ফিয়ারের আকৃতির আর সূর্যের কার্যকলাপ—তার ১১ বছরের চক্র, অগ্নিশিখা ও উদ্‌গিরণ—একে কীভাবে ফোলায় ও বিকৃত করে, তার প্রথম বিস্তারিত মানচিত্র। বড় প্রশ্নটি, নাসার ভাষায়, সূর্য আমাদের কীভাবে রক্ষা করে আর আমাদের সৌরজগৎ ছায়াপথের বাকি অংশের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত।

কোথায় যাচ্ছে

আইম্যাপের গন্তব্য এল১, সূর্যের দিকে পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরের সূর্য–পৃথিবী ল্যাগ্রেঞ্জ বিন্দু, যেখানে দুই বস্তুর মহাকর্ষ সমতায় থাকে আর একটি মহাকাশযান সূর্যের স্থায়ী, বাধাহীন দৃশ্য নিয়ে অনির্দিষ্টকাল ভেসে থাকতে পারে। কয়েকটি সৌর মানমন্দির ইতিমধ্যে সেখানে। আইম্যাপ তাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে একটি নির্দিষ্ট ব্যবহারিক কাজ নিয়ে।

৩০ মিনিটের সতর্কবার্তা

সৌরঝড়—সূর্য থেকে প্লাজমা ও বিকিরণের বিস্ফোরণ—পৃথিবীতে পৌঁছাতে এক দিন বা বেশি নেয়, কিন্তু বিপজ্জনক দ্রুত কণা আসে অনেক আগে, আর ঝড়ের সঠিক শক্তি জানা যায় কেবল উজানে কোনো মহাকাশযান পেরোলে। আইম্যাপের তথ্য অবিরাম স্ট্রিম হবে আইম্যাপ অ্যাকটিভ লিংক ইন রিয়েল-টাইম নামের ব্যবস্থায়, যা পূর্বাভাসকারীদের ঝড় পৃথিবীতে পৌঁছানোর প্রায় ৩০ মিনিট আগে খবর দেবে। স্যাটেলাইটকে সেফ মোডে নিতে, মেরু-পথ থেকে উড়োজাহাজ সরাতে আর বিদ্যুৎ গ্রিডের অপারেটরদের সতর্ক করতে তা যথেষ্ট। নিজস্ব স্যাটেলাইট কক্ষপথে, জিপিএস-সময়ে চলা মোবাইল নেটওয়ার্কে ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা আর এমনিতেই ভঙ্গুর গ্রিডের বাংলাদেশের জন্য মহাকাশ আবহাওয়া বিমূর্ত কিছু নয়; আধা ঘণ্টার সতর্কবার্তা সামলানো ঘটনা আর খারাপ রাতের মধ্যের পার্থক্য।

সূত্র: এনডিটিভি, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।