হালনাগাদ, অক্টোবর ২০২৬ — এই লেখার সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। আইফোনে ট্রুকলারের কল রেকর্ডিং বন্ধ হয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর, আর তার আগে সরিয়ে না রাখা রেকর্ডিংগুলো মুছে গেছে; নিচের ধাপগুলো আর কার্যকর নয়। এখন পরিস্থিতি কী, আর আইফোনে কল রেকর্ড করাটা কেন আসলে কখনোই ট্রুকলারের সিদ্ধান্ত ছিল না — মূল লেখার পরেই।
অপরিচিত নম্বর থেকে কে ফোন করছে জানতে বেশির ভাগ বাংলাদেশি যে অ্যাপ ব্যবহার করেন, সেই ট্রুকলার আইফোন অ্যাপ থেকে কল রেকর্ডিং সরাচ্ছে। সুবিধাটি ৩০ সেপ্টেম্বরের পর কাজ করা থামায়, আর অ্যাপে তখনো জমা রেকর্ডিং সেই তারিখের পর মুছে যায়। ট্রুকলারের আইওএস পণ্যের প্রধান নকুল কাবরা টেকক্রাঞ্চকে বলেছেন, কোম্পানি বদলে মনোযোগ দেবে লাইভ কলার আইডি ও স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম ব্লকিংয়ে—ট্রুকলার আসলে যার জন্য।
আইফোনে বরাবর আনাড়ি ছিল কেন
অ্যাপল তৃতীয় পক্ষের অ্যাপকে ফোন কল রেকর্ড করতে দেয় না। এর কোনো এপিআই নেই, কখনো ছিল না। ২০২৩ সালের জুনে আইফোনে সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক কল রেকর্ডিং চালুর সময় ট্রুকলারকে নিষেধাজ্ঞা ঘিরে গড়তে হয়েছিল: অ্যাপটি আপনার কলে একটি আলাদা রেকর্ডিং লাইন যুক্ত করত—কার্যত একটি তিনমুখী কল, যার তৃতীয় অংশগ্রহণকারী অডিও ধরে রাখা একটি ট্রুকলার সার্ভার। কাজ করত, কিন্তু প্রতিটি রেকর্ডিংয়ে কোম্পানির সত্যিকারের টেলিফোনি খরচ হতো, এটি কারিগরিভাবে ভঙ্গুর ছিল, আর ব্যবহারকারীকে কলের বিষয়বস্তু নিয়ে দূরের একটি সার্ভারে ভরসা করতে হতো। ট্রুকলার এখন বলছে পদ্ধতিটি ছিল ‘জটিল ও ব্যয়বহুল’, যা শুরু থেকেই সত্যি ছিল। অ্যান্ড্রয়েড অপ্রভাবিত: বেশির ভাগ অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ট্রুকলার স্থানীয়ভাবে রেকর্ড করে।
এখনই রেকর্ডিং বাঁচান
অ্যাপ আইফোন ব্যবহারকারীদের একটি পপআপ সতর্কবার্তা দেখাচ্ছে; কিছু না করে সরিয়ে দেবেন না।
- ট্রুকলার খুলে রেকর্ড ট্যাবে যান।
- ডানের সেটিংস আইকনে ট্যাপ করে স্টোরেজ প্রিফারেন্স খুলে আইক্লাউড স্টোরেজ নির্ধারণ করুন। এতে সব রেকর্ডিং আপনার আইক্লাউডে কপি হয়, যেখানে তা বন্ধের পরও টেকে।
- একটি রেকর্ডিং অন্যত্র রাখতে রেকর্ড ট্যাবে তার ওপর বাঁয়ে সোয়াইপ করে শেয়ার বা এক্সপোর্ট ট্যাপ করে ফাইলস, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমেইলে রাখুন।
৩০ সেপ্টেম্বরের আগে করুন। এরপর রেকর্ডিং চলে যায় আর ট্রুকলার তা ফেরাতে পারে না।
বদলে যা ব্যবহার করবেন
অন্য সবাইকে যা দেয়নি, অ্যাপল নিজে এখন তা দেয়: আইওএস ১৮ থেকে ফোন অ্যাপ কলের পর্দার একটি বোতামে কল রেকর্ড করতে পারে, দুই পক্ষকেই মুখে জানিয়ে যে রেকর্ডিং শুরু হয়েছে, আর নোটসে ট্রান্সক্রিপ্টসহ। কাজ করে আইওএস ১৮ চালানো আইফোন ১২ ও নতুন ফোনে, সমর্থিত ভাষায়—ইংরেজি ও হিন্দি আছে; বাংলা এখনো নেই, যা ট্রান্সক্রিপ্টে প্রভাব ফেলে, অডিওতে নয়। ঘোষণাটি ঐচ্ছিক নয়। যে সম্মতির প্রশ্নে অ্যাপল প্রথমে তৃতীয় পক্ষের রেকর্ডার নিষিদ্ধ করেছিল, এটি তার অ্যাপলের উত্তর, আর বাংলাদেশে, যেখানে অন্য পক্ষকে না জানিয়ে কল রেকর্ড করা আইনত ঘোলাটে, এটি এমনিতেই নিরাপদ নকশা।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, প্রথম আলোর বরাতে।
এখন পরিস্থিতি কী
ঘোষণা অনুযায়ীই ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আইফোনে ট্রুকলারের কল রেকর্ডিং বন্ধ হয়ে যায় — ২০২৩ সালের জুনে গ্রাহকদের জন্য চালু হওয়ার দুই বছর কিছু বেশি সময় পর। ওই তারিখের আগে যেসব রেকর্ডিং ডাউনলোড করা হয়নি, অ্যাপের বাইরে পাঠানো হয়নি বা আইক্লাউডে সরানো হয়নি, সেগুলো মুছে গেছে এবং ফেরানো যাবে না। অ্যান্ড্রয়েডে কিছু বদলায়নি, বদলানোর কথাও ছিল না — অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপকে স্থানীয়ভাবে রেকর্ড করতে দেয়, আইওএস দেয় না।
এটি কখনোই ট্রুকলারের নিয়ন্ত্রণে ছিল না কেন
ট্রুকলার কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর কোন সীমাবদ্ধতায় বরাবরই বাঁধা ছিল, দুটি আলাদা করা দরকার — কারণ দ্বিতীয় অংশটিই আইফোনের প্রতিটি কল রেকর্ডিং অ্যাপের ব্যাখ্যা।
অ্যাপল কখনোই ফোনকল রেকর্ড করার কোনো এপিআই দেয়নি। সীমিত কোনোটিও নয়, আবেদন করে পাওয়া যায় এমন কোনো অনুমতিও নয় — একেবারেই নেই। আইওএসে কোনো অ্যাপ সেলুলার কলের অডিওতে পৌঁছাতেই পারে না। তাই আইফোনে কাজ করেছে এমন প্রতিটি তৃতীয় পক্ষের কল রেকর্ডার একই কাজ করেছে: কলটি রেকর্ড করেনি, বরং কলে আরেকজনকে যুক্ত করেছে। ট্রুকলারের ব্যবস্থায় আপনার কলের সঙ্গে জোড়া লাগত দ্বিতীয় একটি লাইন, যার ওপাশে ছিল ট্রুকলারের সার্ভার — আর সেই সার্ভারই যা শুনত তা রেকর্ড করত।
এই নকশা থেকেই তিনটি ফল আসে, আর সেগুলো পরে যোগ হয়নি, প্রথম দিন থেকেই ছিল।
- প্রতি মিনিটে খরচ হতো। প্রতিটি রেকর্ড করা কল ছিল একটি সত্যিকারের নম্বরে সত্যিকারের একটি টেলিফোন সংযোগ, যার বিল করত অপারেটর। যে সুবিধার প্রান্তিক খরচ ব্যবহারের সঙ্গে বাড়ে, ব্যবহার বাড়লে সেটিই তুলে নেওয়া হয়।
- এটি ভঙ্গুর ছিল। কনফারেন্স কলের আচরণ অপারেটর ও নেটওয়ার্কভেদে বদলায়, আর সফল সংযুক্তির ওপর নির্ভরশীল রেকর্ডিং ঠিক সেই পরিস্থিতিতেই ব্যর্থ হয় — দুর্বল সিগন্যাল, রোমিং — যখন মানুষের তা সবচেয়ে বেশি দরকার।
- অডিও ফোন ছেড়ে যেত। কলের বিষয়বস্তু তৃতীয় একটি পক্ষের অবকাঠামোর ভেতর দিয়ে যেত এবং সেখানেই জমা থাকত। নকশার কারণে এটি অনিবার্য ছিল, আর ব্যবহারকারীরা সবচেয়ে কম বুঝতেন ঠিক এই অংশটিই।
পদ্ধতিটিকে ট্রুকলার নিজে যে জটিল ও ব্যয়বহুল বলেছে, তা সঠিক। আর তা ২০২৩ সালেও সমান সত্য ছিল।
অ্যাপল বদলে যা এনেছে
সুবিধাটি অপ্রয়োজনীয় হয়ে গেছে, কারণ অ্যাপল নিজেই এটি বানিয়ে দিয়েছে। আইওএস ১৮.১ থেকে ফোন অ্যাপেই কল স্ক্রিনের একটি নিয়ন্ত্রণ থেকে কল রেকর্ড করা যায়, অডিও জমা থাকে, আর নোটসে প্রতিলিপি তৈরি হয়। এটি চলে আইফোন ১২ ও তার পরের মডেলে।
নকশার পার্থক্যটিই পুরো যুক্তি। অ্যাপলের রেকর্ডার শুরু হওয়ার সময় দুই পক্ষকেই মুখে ঘোষণা শোনায়, আর সেই ঘোষণা বন্ধ করা যায় না। তৃতীয় পক্ষের রেকর্ডার নিষিদ্ধ করার পেছনে যে সম্মতির প্রশ্নটি ছিল, অ্যাপল এভাবেই তার উত্তর দিয়েছে: রেকর্ডিং চলবে, গোপন রেকর্ডিং নয়।
প্রতিলিপি কেবল সমর্থিত ভাষাগুলোতেই হয়, আর এখানেই ভাগটা অসম। ইংরেজি ও হিন্দি সমর্থিত; বাংলা নয়। কাজেই বাংলায় হওয়া কল অডিও হিসেবে রেকর্ড হয়, কিন্তু কাজে লাগার মতো কোনো প্রতিলিপি পাওয়া যায় না।
সুবিধার চেয়ে যে নিয়মটি বেশি জরুরি
কল রেকর্ড করার অধিকার আপনার আছে কি না, সেটি আইনি প্রশ্ন, কারিগরি নয় — আর বেশির ভাগ মানুষের ধারণার চেয়ে এটি অনেক বেশি জায়গাভেদে বদলায়। কোথাও কেবল এক পক্ষের সম্মতিই যথেষ্ট, অর্থাৎ নিজের কল নিজে রেকর্ড করা যায়। কোথাও সব পক্ষের সম্মতি লাগে, আর অন্যজনকে না জানিয়ে রেকর্ড করা অপরাধ — কোন অ্যাপ দিয়ে করা হলো তাতে কিছু যায়-আসে না। কয়েকটি দেশে সম্মতি ছাড়া করা রেকর্ডিং আদালতে গ্রহণযোগ্যই নয়, যা নীরবে সেই কারণটিকেই ব্যর্থ করে দেয় যার জন্য মানুষ সাধারণত কল রেকর্ড করেন — প্রমাণ রাখার জন্য।
অ্যাপলের না-থামানো-যাওয়া ঘোষণাটি গোপন রেকর্ডিংকে অসম্ভব করে গোটা প্রশ্নটিই এড়িয়ে যায়, আর এ কারণেই আইন অমীমাংসিত থাকা জায়গাতেও এটিই নিরাপদ নকশা। কোনো আলাপের নথি দরকার অথচ নিজের অবস্থান নিয়ে নিশ্চিত না হলে, মজবুত উপায়গুলো আগের মতোই আছে: রেকর্ডিংয়ের ভেতরেই অন্য পক্ষকে জিজ্ঞেস করে নেওয়া, কিংবা পরে বিষয়বস্তুটি লিখিতভাবে তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া।




