স্টারলিংক এখনো বাংলাদেশ কাভার করে না, তবু গত এক মাস ধরে এটি দেশের সবচেয়ে আলোচিত ইন্টারনেট সেবা। স্যাটেলাইট সেবাটি দ্রুত আনতে অন্তর্বর্তী সরকার স্পেসএক্সের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছে—প্রেস সচিব একে ইন্টারনেট শাটডাউন অসম্ভব করার পথ বলে তুলে ধরেছেন—আর প্রধান উপদেষ্টা ইলন মাস্ককে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এর কোনো কিছু রাঙামাটির ছাদে একটি ডিশ হয়ে ওঠার আগে বোঝা দরকার, বাকি বিশ্ব একই কোম্পানিকে কীভাবে সামলেছে।
স্টারলিংক কী
স্পেসএক্স নিম্ন কক্ষপথে হাজার হাজার ছোট স্যাটেলাইট চালায়। ব্যবহারকারী একটি চ্যাপ্টা অ্যানটেনা কেনেন, আকাশের দিকে তাক করেন, আর আকাশ দেখা যায় এমন যেকোনো জায়গায় ব্রডব্যান্ড পান—পাহাড়ি গ্রাম, মাছ ধরার নৌকা, যমুনার চর। কেব্ল নেই, স্থানীয় টাওয়ার নেই। কোম্পানিটি এনক্রিপশন ও ব্যবহারকারীর গোপনীয়তায় জোর দেয়, আর গুরুত্বপূর্ণ কথা, এটি সীমান্ত পেরিয়ে কাজ করে: নিচে কোন দেশ, স্যাটেলাইটের তাতে কিছু যায়-আসে না। সরকারের যায়-আসে।
লাইসেন্স সব সময় আগে
কারিগরিভাবে স্টারলিংক যেকোনো ভূখণ্ডে সেবা দিতে পারে, কিন্তু কোনো দেশ চালু করে কেবল তখনই, যখন জাতীয় টেলিকম নিয়ন্ত্রক লাইসেন্স দিয়েছে আর কোম্পানি স্থানীয় আইন ও করে রাজি হয়েছে। রেকর্ড মিশ্র:
- ভারত ২০২১ সালে প্রি-অর্ডার নিয়েছিল, সরকারের চাপে ফেরত দিতে বাধ্য হয়, আর এখনো অনুমোদন পায়নি; টেলিযোগাযোগ বিভাগের বাণিজ্যিক লাইসেন্স ঝুলে আছে, দেশীয় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে রিলায়েন্সকে।
- চীন স্টারলিংক সরাসরি নিষিদ্ধ করেছে আর নিজের নক্ষত্রপুঞ্জ গড়ছে। রাশিয়ায় আনুষ্ঠানিক ব্যবহার নেই (যদিও ইউক্রেন যুদ্ধে চোরাই টার্মিনাল দেখা গেছে), আর ইরান ও উত্তর কোরিয়ায় কিছুই নেই।
- ফ্রান্স পরিবেশগত পর্যালোচনার মামলায় ২০২২ সালে সেবা স্থগিত করে, পরে ফিরিয়ে দেয়। তুরস্ক দ্বিধা করে, পরে স্বাধীন যোগাযোগের মূল্যে পুনর্বিবেচনা করে। ইতালি এখন বেসরকারি বিদেশি নেটওয়ার্কে নির্ভরতা কমাতে নিজের সরকারি স্যাটেলাইটের পরিকল্পনা করছে।
- ব্রাজিল ও মেক্সিকো অনুমতি দিয়েছে স্টারলিংক জাতীয় ইন্টারনেট নীতি মানতে রাজি হওয়ার পর।
বাংলাদেশের যা দর-কষাকষি করা উচিত
আইবিএমের টমাস জে ওয়াটসন রিসার্চ সেন্টারের তত্ত্বীয় কোয়ান্টাম কম্পিউটার বিজ্ঞানী ওমর শেহাব প্রথম আলোকে বলেছেন, বাংলাদেশের ইন্টারনেট বাজার উন্মুক্ত, স্টারলিংক হবে বেশির ভাগ বাড়ির নির্ভর করা পাড়াভিত্তিক আইএসপির বিকল্প, আর সরকার চাইলে দাম ও সেবার মানে সত্যিকারের প্রভাব খাটাতে পারে। দূরবর্তী জেলাগুলো প্রথমবারের মতো নেটওয়ার্কের ভেতরে আসবে। বিটিআরসি প্রশ্নের উত্তর দেয়নি।
অন্যত্র খরচ কত
দাম দেশভেদে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। আমেরিকার সাধারণ আবাসিক প্যাকেজ মাসে ১২০ ডলার, যন্ত্রের কিট ৩৪৯ ডলার—অ্যানটেনা, স্ট্যান্ড, জেন থ্রি রাউটার, কেব্ল ও পাওয়ার সাপ্লাই, বাক্সে প্রায় ৩.২ কেজি। সমুদ্রে ২২০ এমবিপিএস সেবা মাসে ২৫০ ডলার ও যন্ত্রের খরচ। বাংলাদেশে দাম একই রকম হলে স্টারলিংক মিরপুরের ৫০০ টাকার ব্রডব্যান্ড লাইনের জায়গা নেবে না; যেখানে এখন কিছুই নেই, সেখানে কিছুই না-থাকার জায়গা নেবে—আর সেটাই আসল কথা।




