এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার জন ফেল করেছেন মাত্র এক বা দুই বিষয়ে।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ওই শিক্ষার্থীদের আবার পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হবে, আর মন্ত্রণালয় আগামী এক মাসের মধ্যে সেই পরীক্ষার আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, ওই সময়ের মধ্যে পরীক্ষা নিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
এতে যা বদলায়
পাস না করা শিক্ষার্থীদের প্রতি দশজনের প্রায় সাতজনের জন্য এটি আজকের দিনটির অর্থই বদলে দেয়। যে ফল সবকিছুতে ব্যর্থতার মতো পড়ায়, তা এই দলের বেশির ভাগের জন্য একটি পত্র—প্রায়ই ইংরেজি বা আইসিটি, এবারের ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১টি অকৃতকার্যতার পেছনের দুই বিষয়।
আগামী মাসে এক বিষয়ে আবার বসা আর এক বছর পুনরাবৃত্তি করার মধ্যে পার্থক্যটি স্বল্প দেরি আর লাইনচ্যুতির মধ্যকার পার্থক্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চক্র, শিক্ষার্থী পড়া চালিয়ে যাবেন কি না তা নিয়ে পরিবারের সিদ্ধান্ত, আর বহু ক্ষেত্রে তিনি বদলে চাকরিতে যাবেন কি না—সবই এর ওপর ঘোরে।

ধরে রাখার মতো দুটি তারিখ
১ থেকে ৭ নভেম্বর—পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন। নম্বর ভুল হয়েছে মনে করলে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন নেওয়া হয় অনলাইনে, কেবল এই সময়েই। প্রক্রিয়া ও ফি ঠিক করে বোর্ড।
এক মাসের মধ্যে—ফের পরীক্ষা। কোনো তারিখ ঠিক হয়নি। ফলের দিনে ঘোষিত পরিকল্পনা পরিকল্পনাই, সময়সূচি নয়; আর যে খুঁটিনাটি জরুরি—কোন বিষয়, কোন তারিখ, নিবন্ধন কীভাবে, খরচ কত—তা এখনো প্রকাশ হয়নি। সামাজিক মাধ্যম নয়, বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে চোখ রাখুন।
পুনর্নিরীক্ষণ আর ফের পরীক্ষা এক জিনিস নয়
স্পষ্ট থাকা দরকার, কারণ প্রতিবছরই দুটি গুলিয়ে যায় আর সময়সীমাও আলাদা।
পুনর্নিরীক্ষণে বোর্ডকে বলা হয় আপনার আগেই লেখা খাতার মূল্যায়ন আবার দেখতে। নতুন করে কিছু পরীক্ষা হয় না; নম্বর আবার যোগ করা হয় আর না-দেখা উত্তর আছে কি না মিলিয়ে দেখা হয়। ঐতিহাসিকভাবে এতে মাঝারি সংখ্যক ফল বদলায়—গতবার এতে আরও ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫-এ এসেছিলেন।
ফের পরীক্ষা মানে পত্রটি আবার লেখা। সন্দেহজনক মূল্যায়ন-ভুল নয়, সত্যিকারের অকৃতকার্যতার পথ এটিই—আর মন্ত্রী যা বর্ণনা করছেন তা-ও এটিই।
নম্বর ভুল মনে হলে ১ থেকে ৭ নভেম্বরের মধ্যেই পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করুন—ফের পরীক্ষার সময়সূচি হয় কি না দেখার অপেক্ষায় থাকলে অন্য বিকল্পটির সময়সীমা পেরিয়ে যাবে।
আর একটি কথা সোজা করেই বলা দরকার
পরীক্ষাসংক্রান্ত মানসিক চাপের জন্য বছরের সবচেয়ে খারাপ দিনটিই ফলের দিন, আর আজ খারাপ ফল হাতে থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছয় লাখের কাছাকাছি। আপনি তাঁদের একজন হলে: অকৃতকার্য একটি বিষয় মানে আগামী মাসে আবার দেওয়ার মতো একটি বিষয়, আর এর কিছুই স্থায়ী নয়। কারও সঙ্গে কথা বলা দরকার হলে জাতীয় হেল্পলাইন ৯৯৯ আপনাকে সহায়তার দিকে পাঠাতে পারে, আর কান পেতে রই চালায় মানসিক স্বাস্থ্যের একটি শ্রবণ-লাইন।
সময়সূচির অপেক্ষায় থাকতে একটি ব্যবহারিক কথা: এক বিষয়ে ফেল করলে সেই বিষয়টিই এখন ধরার মতো—ঘোষণার পরে নয়। এক মাস প্রস্তুতির জন্য অল্প সময়, আর ফের পরীক্ষায় তাঁরাই সবচেয়ে ভালো করেন, যাঁরা তারিখ ঠিক হওয়ার আগেই শুরু করেছিলেন।




