এ বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে শনিবার, ৩১ অক্টোবর বেলা ১১টায়; দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।
এটি ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গতবার হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ; অর্থাৎ এক বছরে তা কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশীয় পয়েন্ট।
সংখ্যাগুলো
পরীক্ষায় বসেছিলেন মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন, আর অকৃতকার্য ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
কেবল নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ধরলে এইচএসসিতে পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ, পাস করেছেন ৫ লাখ ৪১ হাজার ২৪৯ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন। সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন; অনলাইনে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফল আসে একযোগে। তারিখ প্রথমে ২৯ অক্টোবর ঠিক ছিল, পরে তা শনিবারে সরানো হয়।

নথিতে এর অবস্থান
নথিতে এর চেয়ে কম পাসের হার কেবল ২০০৪ সালে—৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৩৬ জন। তবে সে বছর পরীক্ষা হয়েছিল আজকের এগারোটি নয়, সাতটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে; তাই দুটি সংখ্যা আলাদা জনগোষ্ঠীর কথা বলে।
এরপরের সারি ক্রমেই উঠেছে: ২০০৫ সালে প্রায় ৫৯, ২০০৬ সালে ৬৫ দশমিক ৬৫, ২০০৭ সালে ৬৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। ২০০৮ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত হার ওঠানামা করেছে, সর্বোচ্চ ২০১২ সালে ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৮ সালে তা নামে ৬৪ দশমিক ৫৫ শতাংশে—তখনকার হিসাবে বারো বছরের সর্বনিম্ন—আর ২০১৯ সালে ওঠে ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশে। মহামারির কারণে ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষা হয়নি।
পাসের হার সৎভাবে পড়া
আজ প্রকাশিত প্রতিটি খবরের সঙ্গে বয়ে নেওয়ার মতো একটি সতর্কতা। পাসের হার শিক্ষার্থীরা কতটা জানেন তার সরাসরি মাপ নয়; এটি কী পড়ানো হয়েছে, কী পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে আর খাতা কীভাবে দেখা হয়েছে—এই তিনটির ফল; আর তিনটির যেকোনো একটিতে বদল এলে সংখ্যাটি নড়ে।
এই মাপের পতন সাধারণত শেখার বদলের মতোই মূল্যায়ন বা পরীক্ষানীতির বদলও প্রকাশ করে, আর বোর্ডগুলো কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তা না দেওয়া পর্যন্ত সৎ বর্ণনাটি হলো—এ বছর কম শিক্ষার্থী নির্ধারিত সীমা পেরিয়েছেন; এই দলটি আগেরটির চেয়ে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ কম জানে, তা নয়।
সংখ্যাটি যা প্রতিষ্ঠিত করে, তা মাত্রা। প্রায় ছয় লাখ তরুণ এখন ঠিক করছেন এরপর কী করবেন, আর তাঁদের বড় একটি অংশ ফেল করেছেন মাত্র এক বা দুই বিষয়ে। পরিণতি আছে সেই অংশটিতেই, আর তা নিয়ে আলাদা লেখা আছে।
আলাদা রাখার মতো তিনটি সংখ্যা
আজকের খবরে তিনটি আলাদা সংখ্যা মিশে যাবে, আর এরা আলাদা জিনিস বর্ণনা করে।
৫২ দশমিক ১২ শতাংশ হলো মাদ্রাসা ও কারিগরিসহ ১১টি বোর্ডের পাসের হার। ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ কেবল এইচএসসি, নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডজুড়ে। আর বোর্ডভিত্তিক অঙ্ক—কুমিল্লায় ৪৮ দশমিক ০৪, চট্টগ্রামে ৫২ দশমিক ০৭—আরও সরু।
একটি শিরোনাম একটি সংখ্যা উদ্ধৃত করে আর তুলনা আরেকটি—তাতে এমন পার্থক্য তৈরি হয়, যা সত্যি নয়। এই ফল নিয়ে যেকোনো দাবি পড়ার সময় দেখে নিন সংখ্যাটি কোন জনগোষ্ঠীর, তারপর মানুন এটি কী প্রমাণ করছে বলা হচ্ছে।
যা প্রকাশ করা হয়নি
তিনটি জিনিস এই ফলকে ব্যাখ্যাযোগ্য করত, আর এর একটিও এখনো আসেনি: গ্রেডের সংখ্যা নয়—নম্বরের বণ্টন, পরীক্ষা বা মূল্যায়ননীতিতে কী বদলেছে তার কোনো বিবৃতি, আর শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর আকার।
এগুলো না আসা পর্যন্ত আজ দেওয়া প্রতিটি ব্যাখ্যা—এই লেখার ব্যাখ্যাগুলোসহ—সংখ্যার চেহারা থেকে করা অনুমান।




