শনিবার প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে যাঁরা সন্তুষ্ট নন, তাঁরা উত্তরপত্র আবার দেখার আবেদন করতে পারবেন। আবেদন শুরু রোববার, ১ নভেম্বর, চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রক্রিয়াটি প্রকাশ করেছে, আর তার প্রথম কথাটিই একটি নিষেধাজ্ঞা: সরাসরি বা ম্যানুয়ালি কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। যাওয়ার মতো কোনো কাউন্টার নেই, কলেজে পূরণ করার মতো কোনো ফরমও নেই। পুরোটাই একটি ওয়েবসাইটে।
সাতটি ধাপ
ঠিকানা rescrutiny.eduboardresults.gov.bd। বোর্ডের বর্ণনা অনুযায়ী ধাপগুলো এই।
- নির্ধারিত ঘরে পরীক্ষার রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখুন।
- ড্রপডাউন মেনু থেকে নিজের শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।
- একটি মোবাইল নম্বর দিন। পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলে এই নম্বরেই এসএমএস যাবে।
- পরের স্ক্রিনে বিষয়ভিত্তিক ফল দেখা যাবে। যে এক বা একাধিক বিষয় আবার দেখাতে চান সেগুলো নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করুন।
- এর পরের স্ক্রিনে মোট প্রদেয় ফির পরিমাণ দেখা যাবে।
- ফি দিন বিকাশ, নগদ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রকেট, উপায় বা সোনালী সেবার মাধ্যমে। বিস্তারিত নিয়ম আছে পোর্টালের ‘হেল্প’ বাটনে।
- ফি পরিশোধের পর আবেদন পোর্টালে ফিরে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করুন। এই ধাপের পরেই কেবল আবেদন সম্পন্ন হয়।

ফি
ফি প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা। এখানে কাজের শব্দটি পত্র, বিষয় নয়। যে বিষয়ে দুটি পত্র আছে, বোর্ড বলছে সেখানে উভয় পত্রের জন্যই আবেদন করতে হবে—অর্থাৎ দ্বিপত্রবিশিষ্ট একটি বিষয়ে খরচ ১৫০ নয়, ৩০০ টাকা।
সিদ্ধান্ত বদলানো, আর যে মুহূর্তের পর আর বদলানো যায় না
এখানে দুটি আলাদা নিয়ম আছে, আর দুটির মাঝখানের রেখাটি হলো ফি পরিশোধ।
ফি দেওয়ার আগে নির্বাচন বদলানো যায়। ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে যেসব বিষয়ের ফি এখনো দেওয়া হয়নি সেগুলো প্রত্যাহার করে নতুন বিষয় বাছাই করা যাবে।
ফি দেওয়ার পর কিছুই আর ফেরানো যায় না। বোর্ড স্পষ্ট করেই বলেছে, ফি জমা দেওয়ার পর আবেদন করা বিষয়গুলো আর বাতিল করা যাবে না, এবং কোনো অবস্থাতেই পরিশোধ করা ফি ফেরত দেওয়া হবে না।
যোগ করা সহজ, বাদ দেওয়া নয়। ফি দিয়ে একবার আবেদন জমা দেওয়ার পর আরও কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একই প্রক্রিয়ায় তা করা যাবে—আর সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার মোবাইল নম্বর দিতে হবে না।
বোর্ড যা বলেনি
বিজ্ঞপ্তিটি ফি দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত, আর কিসের জন্য ফি দিচ্ছেন সে বিষয়ে নীরব। খাতা আবার দেখার সময় ঠিক কী যাচাই করা হয়, তা বলা নেই; পুনঃনিরীক্ষণের ফল কবে প্রকাশ হবে, সে তারিখও নেই—কেবল এটুকু যে, আপনার দেওয়া নম্বরে এসএমএসে তা জানানো হবে। টাকা খরচের আগে এই ফাঁকগুলো জেনে রাখা দরকার, আর সেগুলো নিয়ে আমরা আলাদা করে লিখেছি।
বিজ্ঞপ্তিতে সই করেছেন ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু। অন্য বোর্ডের শিক্ষার্থীদের নিজ বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি দেখে নেওয়া উচিত, কারণ খুঁটিনাটি আলাদা হতে পারে।
আবেদনটি সত্যিই জমা হলো কি না
যে ধাপটি মানুষ এড়িয়ে যান, সেটি শেষ ধাপ। ফি দেওয়া আর আবেদন জমা দেওয়া দুটি আলাদা কাজ, আর আবেদন তৈরি না হয়েও টাকা চলে যেতে পারে। পেমেন্ট নিশ্চিত হওয়ার পর পোর্টালে ফিরে দেখে নিন, ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করা হয়েছে কি না।
পেমেন্ট অ্যাপ যে লেনদেন নম্বরটি দেয় সেটি আর জমা দেওয়া আবেদনের একটি স্ক্রিনশট রেখে দিন। এই প্রক্রিয়ায় ছাপা কোনো রসিদ নেই, জিজ্ঞেস করার মতো কোনো কাউন্টারও নেই। ৭ নভেম্বরের আগে কিছু মেটানোর দরকার হলে আপনার নিজের রাখা প্রমাণটুকুই একমাত্র ভরসা।




