বাংলাদেশ জনপ্রিয়

পুনঃনিরীক্ষণ না পুনর্মূল্যায়ন? পোর্টাল আর বিজ্ঞপ্তি একই শব্দ ব্যবহার করছে না

দুটি বাংলা শব্দ দুটি আলাদা জিনিস বোঝায়। পত্রপ্রতি ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, অথচ কোন সেবাটি কিনছেন তা কোনো নথিই বলছে না।

পুনঃনিরীক্ষণ না পুনর্মূল্যায়ন? পোর্টাল আর বিজ্ঞপ্তি একই শব্দ ব্যবহার করছে না

এ সপ্তাহে দুটি বাংলা শব্দ ঘুরছে, আর দুটির অর্থ এক নয়।

পুনঃনিরীক্ষণ হলো কেরানির কাজের মতো আবার মিলিয়ে দেখা। কেউ একজন যোগফল আর নম্বর তোলার কাজটি যাচাই করেন।

পুনর্মূল্যায়ন হলো নতুন করে বিচার। কেউ একজন উত্তরগুলো আবার পড়ে ঠিক করেন, সেগুলোর মূল্য কত।

যে শিক্ষার্থী মনে করছেন তাঁর ফলটি ভুল, তাঁর কাছে এই পার্থক্যটিই পুরো প্রশ্ন। যোগে ভুল খুঁজে বের করার জন্য ১৫০ টাকা সার্থক। কিন্তু রচনামূলক উত্তরের মূল্যায়ন নিয়ে দ্বিমত থাকলে ১৫০ টাকা তখনই সার্থক, যখন কোনো মানুষ সেই উত্তরটি আবার পড়বেন।

নথি দুটি একমত নয়

rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ঠিকানার সরকারি আবেদন পোর্টালটির নিজের শিরোনামেই লেখা আছে: ২০২৬ এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণসহ পুনর্মূল্যায়ন। অর্থাৎ পুনঃনিরীক্ষণ সহ পুনর্মূল্যায়ন—দুটি শব্দই, আর দ্বিতীয়টি প্রথমটির সঙ্গে স্পষ্ট করে যোগ করা।

৩০ ও ৩১ অক্টোবর সংবাদমাধ্যমে আসা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে আছে কেবল প্রথমটি। যুগান্তর, বাংলা ট্রিবিউন ও দেশ টিভির প্রতিবেদনে প্রক্রিয়া, ফি, পেমেন্টের মাধ্যম ও ফেরত না দেওয়ার নিয়ম—সবই আছে, আর সেবাটিকে সর্বত্র বলা হয়েছে পুনঃনিরীক্ষণ বা পুনর্নিরীক্ষণ।

পুনঃনিরীক্ষণসহ পুনর্মূল্যায়ন
পোর্টালের নিজের শিরোনামে আছে দুটি শব্দই। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আছে কেবল পুনঃনিরীক্ষণ। কোথাওই বলা নেই, খাতায় ঠিক কী দেখা হয়। গ্রাফিক: টেক বিডি।

আসলে কী যাচাই করা হয়

কোনো নথিই তা বলে না।

এই ফাঁকটির নাম ধরে বলা দরকার। বিজ্ঞপ্তিটি সেসব বিষয়ে নিখুঁত, যেগুলো বোর্ডকে সুরক্ষা দেয়—আবেদন অনলাইনেই করতে হবে, ফি পত্রপ্রতি, ফি দেওয়া আবেদন বাতিল হবে না, কোনো অবস্থাতেই ফি ফেরত আসবে না। আর যে একটিমাত্র তথ্য থাকলে শিক্ষার্থী বুঝতে পারতেন আবেদন করা যুক্তিযুক্ত কি না—১৫০ টাকা দেওয়ার পর কোনো মানুষ খাতাটি নিয়ে ঠিক কী করবেন—সে বিষয়ে এটি নীরব।

এ বছরের কোনো সরকারি বক্তব্য আমরা পাইনি যেখানে কাজের পরিধি সংজ্ঞায়িত করা আছে, আর স্মৃতি থেকে আমরা সেটি বানিয়ে দেব না। যা বলা যায় তা হলো, দুটি বর্ণনার মধ্যে পোর্টালের নিজের শিরোনামটিই বেশি ব্যাপক—আর সেটি লিখেছে সেই কর্তৃপক্ষই, যারা সংকীর্ণ বিজ্ঞপ্তিটি জারি করেছে।

এই অস্পষ্টতা নিয়ে কী করবেন

সংকীর্ণ অর্থটিকেই নিরাপদ ধরে নিয়ে সেই অনুযায়ী আবেদন করুন। আপনার অভিযোগ যদি হয় যোগফলটি ভুল মনে হচ্ছে, কোনো প্রশ্ন অমূল্যায়িত থেকে গেছে বলে মনে হচ্ছে, কিংবা পাশে লেখা নম্বরের সঙ্গে গ্রেডটি মিলছে না—তাহলে সেটি ঠিক সেই ধরনের ভুল, যা ধরার জন্যই কেরানি-পর্যায়ের যাচাই তৈরি। আবেদনটি তখন যুক্তিসঙ্গত বাজি।

আর আপনার অভিযোগ যদি হয় যে লেখা উত্তরটির জন্য আরও নম্বর প্রাপ্য ছিল, তাহলে আপনি ভরসা করছেন এমন একটি শব্দের ব্যাপক অর্থের ওপর, যা আছে কেবল একটি পাতার শিরোনামে, আর কোথাও নয়। হয়তো তা রক্ষা করা হবেও। কিন্তু আপনি টাকা দিচ্ছেন আগেই, আর বাতিল করার সুযোগ নেই।

একটি তারিখও অনুপস্থিত। বোর্ড বলছে, আপনার দেওয়া নম্বরে এসএমএসে ফল পৌঁছে যাবে—কবে, তা বলছে না। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির সময়সূচি সামলাতে হবে যাঁদের, তাঁদের ধরে নিয়েই এগোনো ভালো যে উত্তরটি প্রয়োজনের আগে না-ও আসতে পারে।

জিজ্ঞেস করুন, আর উত্তরটি লিখে রাখুন

কলেজগুলো প্রতি বছরই এই কাজ সামলায়, আর অফিসের কর্মীরা দেখেছেন আগের ব্যাচগুলোয় পুনঃনিরীক্ষণের ফল আসলে কেমন হয়—কতজনের বদলেছে, আর সেই বদলগুলোর কোনোটি যোগফল নয়, লিখিত উত্তরের নম্বর নিয়ে ছিল কি না। এটি সরকারি সংজ্ঞা নয়, তবে একটি পাতার শিরোনামের চেয়ে প্রমাণের কাছাকাছি।

জিজ্ঞেস করলে সাধারণ আশ্বাস নয়, নির্দিষ্ট ঘটনাটি জানতে চান। কাজের প্রশ্নটি এই নয় যে পুনঃনিরীক্ষণে কখনো কাজ হয় কি না। প্রশ্নটি হলো—ওই কলেজে, ঠিক যে কারণে আপনি টাকা দিতে যাচ্ছেন, সেই কারণে কখনো কারও গ্রেড বদলেছে কি না।

সূত্র: যুগান্তর, বাংলা ট্রিবিউন, দেশ টিভি, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।