এ বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জনের মধ্যে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন পাস করেননি। তাঁদের প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার ফেল করেছেন কেবল এক বা দুই বিষয়ে।
দুই দলই আজ শুরু হওয়া সাত দিনের পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ নিয়ে পড়ছেন। তাঁদের বড় একটি অংশের জন্য এটি ভুল দরজা, আর ফি ফেরতযোগ্য নয়—তাই কোন পথ কোন সমস্যার সমাধান, সেটি পরিষ্কার থাকা দরকার।
খাতা আবার দেখানোয় যা হয়, যা হয় না
পুনঃনিরীক্ষণ প্রশ্ন তোলে আপনার ইতিমধ্যে লেখা খাতাটি কীভাবে সামলানো হয়েছে তা নিয়ে। ফলের গায়ে প্রক্রিয়াগত গোলমালের দৃশ্যমান চিহ্ন থাকলে—এমন অসংগতি, যেটি কাগজে আঙুল দিয়ে দেখানো যায় আর এক বাক্যে বলা যায়—তখনই এটি সঠিক পথ; কেবল ফলটি হতাশ করেছে বলে নয়।
আর সৎ উত্তরটি যদি হয় পরীক্ষাটি খারাপ হয়েছে, তাহলে এটি ভুল পথ। সেদিন যে নম্বর অর্জিত হয়নি, এই প্রক্রিয়ার কিছুই তা যোগ করে না; ফল অপরিবর্তিত থাকা স্বাভাবিক পরিণতি—আর তাতেও পত্রপ্রতি ১৫০ টাকা খরচ হয়ে যায়।

অন্য দরজাটি
দ্বিতীয় দলটির যাওয়ার মতো আলাদা জায়গা আছে। ফল প্রকাশের দিন শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষার সুযোগ—যা নিয়ে আমরা আলাদা করে লিখেছি—সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি উপায়। এটি মূল্যায়ন নিয়ে তর্ক করে না। এটি চেষ্টাটিকেই বদলে দেয়।
কাগজে-কলমে দুটি পরস্পরবিরোধী নয়। বাস্তবে প্রায় তা-ই, সময় আর টাকার কারণে। পুনঃনিরীক্ষণের সময়সীমা শেষ ৭ নভেম্বর, আর তার ফল কবে দেওয়া হবে সে তারিখ বোর্ড জানায়নি। পুনঃপরীক্ষা যদি এক মাস দূরে হয়, একজন শিক্ষার্থী দ্বিতীয় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারেন প্রথমটির চ্যালেঞ্জের ফল না জেনেই।
বাছাই করার একটি উপায়
নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, আপনি আসলে কী দাবি করছেন।
যদি দাবি হয় বোর্ড ভুল করেছে—আর ফলের পাতায় সেই ভুলটি দেখতে কেমন তা আপনি দেখিয়ে দিতে পারেন—তাহলে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করুন, ঠিক যেসব পত্রে প্রমাণটি আছে সেগুলোর জন্য।
যদি দাবি হয় আপনি আরও ভালো করতে পারেন, তাহলে সেটি পুনঃপরীক্ষার বিষয়, আর পত্রপ্রতি ১৫০ টাকা প্রস্তুতির জন্য রেখে দেওয়াই ভালো।
যদি অল্পের জন্য এক বিষয়ে ফেল করে থাকেন আর বুঝতে না পারেন কোন দলে পড়ছেন, তাহলে ব্যবধানটিই কাজের সংকেত। এক-দুই নম্বরের ব্যবধানে ফেল এমন ফল, যা কেরানি-পর্যায়ের ভুলেও হতে পারে। বিশ নম্বরের ব্যবধানে নয়।
যে জিনিসটি সিদ্ধান্ত চালানো উচিত নয়, তা হলো সাত দিনের সময়সীমা। এটি আবেদন নিয়ে এমন তাড়া তৈরি করে, যা সমস্যাটি নিয়ে নেই—আর তাড়াহুড়ো করেই ফেরতহীন টাকা খরচ হয়ে যায়।
ভর্তির ঘড়ি
এই দুটির পাশাপাশি তৃতীয় একটি সময়সূচিও চলছে, আর সেটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর। পুনঃনিরীক্ষণের ফলের তারিখও প্রকাশ হয়নি, পুনঃপরীক্ষার তারিখও নয়—ফলে সামনে ভর্তি পরীক্ষা আছে যাঁদের, তাঁরা এমন একটি সূচির বিপরীতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন যা ঘোষণাই হয়নি।
বাস্তব করণীয় হলো, যে নিশ্চয়তা আসছে না তার জন্য অপেক্ষা না করা। হাতে থাকা ফলের ভিত্তিতেই প্রস্তুতি নিন, আর চ্যালেঞ্জে জিতে গেলে সেটিকে পরিকল্পনার শর্ত নয়—অবস্থান ভালো হওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে ধরুন।
আজকের দিনটি যদি এর চেয়েও কঠিন হয়
অনেক পরিবারের কাছে এটি কোনো প্রক্রিয়াগত প্রশ্ন নয়। প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থী পাস করেননি, আর ফলের দিনে শিক্ষার্থীদের গভীর বিপর্যয়ে পড়ার খবরও এসেছে।
একটি ফল কয়েক দিনের কয়েকটি পরীক্ষার মাপ। এটি কোনো মানুষের বিচার নয়, আর ওপরে বলা দুটি পথই খোলা আছে।
আজ রাতে আপনার বা আপনার কাছের কারও যদি কারও সঙ্গে কথা বলা দরকার হয়—বাংলাদেশের আবেগীয় সহায়তা ও আত্মহত্যা প্রতিরোধ হেল্পলাইন কান পেতে রই-এ কল করা যায় ০৯৬১২-১১৯৯১১ নম্বরে, প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় নম্বর ৯৯৯।




