এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা হয় ১১টি বোর্ডের অধীনে: নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। জাতীয় গড় ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, আর এ পর্যন্ত জানানো বোর্ডগুলো জমে আছে তার ঠিক নিচেই।
যা জানানো হয়েছে
কুমিল্লা—৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, ঘোষিতগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। বোর্ডটিতে ছাত্রী পরীক্ষার্থী ছিলেন ছাত্রদের দেড় গুণেরও বেশি, আর পাসের সংখ্যাতেও তাঁরা প্রায় দ্বিগুণ এগিয়ে।
কারিগরি বোর্ড—৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৮৬ জন।
সিলেট—৫০ দশমিক ৯ শতাংশ, বোর্ডটির ১৩ বছরের সর্বনিম্ন।
চট্টগ্রাম—৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ, ১৫ বছরের সর্বনিম্ন, জিপিএ-৫ ২ হাজার ৯২৯।
যশোর জানিয়েছে, তাদের পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুটিই গতবারের চেয়ে কমেছে।
সরাসরি পাসের হিসাবে ঢাকার পরেই আছে মাদ্রাসা বোর্ড—এই সারিতে একমাত্র বোর্ড, যা নিছক জাতীয় পতনের সঙ্গে চলছে না।

একসঙ্গে জমে থাকাটি যা বলে
এখানে সবচেয়ে তথ্যবহুল জিনিসটি কোনো একটি বোর্ডের অঙ্ক নয়। তা হলো, কয়েকটি বোর্ড একই বছরে বহু বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে, আর একে অন্যের কয়েক পয়েন্টের মধ্যে।
শিক্ষা বোর্ড স্বতন্ত্র প্রশাসন—আলাদা প্রতিষ্ঠান, আলাদা শিক্ষক-জোগান, আলাদা আঞ্চলিক অর্থনীতি নিয়ে। এদের ফল যখন আলাদা দিকে যায়, ব্যাখ্যা সাধারণত স্থানীয়। আর এরা যখন একসঙ্গে, কাছাকাছি পরিমাণে, এক বছরেই নিচে নামে, তখন ব্যাখ্যা প্রায় নিশ্চিতভাবেই স্থানীয় নয়—তা এমন কিছু, যা একসঙ্গে সবার ওপর প্রয়োগ হয়েছে।
সম্ভাব্য ব্যাখ্যা পরীক্ষায় বা মূল্যায়ননীতিতে অভিন্ন কোনো বদল। বোর্ডগুলো কোনোটিই প্রকাশ করেনি, আর সে কারণেই এই ফলের প্রতিটি বিশ্লেষণ—এটিসহ—ঘোষিত কারণ নয়, সংখ্যার চেহারা থেকে যুক্তি সাজাচ্ছে।
আলাদা করে দেখার মতো দুটি বোর্ড
৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ পাস আর মাত্র ৮৮৬টি জিপিএ-৫ নিয়ে কারিগরি বোর্ড সাধারণ কলেজ থেকে আলাদা ধরনের প্রতিষ্ঠান, আর দক্ষ পেশা ও ডিপ্লোমার সরবরাহ-শৃঙ্খলে জোগান দেয় এটিই। সেখানে কম পাসের হার টেকনিশিয়ানের জোগানে সরাসরি প্রভাব ফেলে, আর ফলের দিনে এটি আলাদা মনোযোগ কমই পায়।
সরাসরি পাসে মাদ্রাসা বোর্ডের দ্বিতীয় হওয়া তুলনামূলক ফল নিয়ে প্রচলিত ধারণার বিপরীতে যায়; আর এটি মনে করায় যে মাদ্রাসা ধারা বসে আছে বাকি প্রতিটি বোর্ডের মতো একই পরীক্ষাব্যবস্থা ও একই জাতীয় পরিসংখ্যানের ভেতরেই।
বোর্ডের গড় যা বলে, আর যা বলে না
বোর্ড প্রশাসনিক একক, শিক্ষাগত নয়। কুমিল্লার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ হলো কুমিল্লা শহরের কলেজ আর কয়েকটি জেলার গ্রামীণ কলেজের গড়; আর আজ প্রকাশিত চট্টগ্রামের অঙ্কই দেখায় ভেতরের বিস্তার কত চওড়া হতে পারে—এক বোর্ডের ভেতরেই নগরে ৬৬ দশমিক ২০ আর খাগড়াছড়িতে ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
তাই সবচেয়ে নিচু আর সবচেয়ে উঁচু বোর্ডের ব্যবধান প্রায় নিশ্চিতভাবেই যেকোনো একটি বোর্ডের ভেতরের ব্যবধানের চেয়ে ছোট। এই সংখ্যাগুলো দিয়ে করা যায় এমন সবচেয়ে কম তথ্যবহুল কাজটিই বোর্ডগুলোকে পরস্পরের বিপরীতে সাজানো—আর ফলের দিন মূলত তা-ই নিয়ে গড়া।
এখনো জানানো বাকি
লেখার সময় পর্যন্ত কয়েকটি বোর্ড বিস্তারিত অঙ্ক প্রকাশ করেনি। সবচেয়ে বড় বোর্ড ঢাকা সরাসরি পাসে এগিয়ে, দ্বিতীয় মাদ্রাসা বোর্ড; রাজশাহী, বরিশাল, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহের অঙ্ক দিনভর যোগ হবে, আর তাতে জাতীয় চিত্র উল্লেখযোগ্যভাবে বদলাবে না—গড় ইতিমধ্যেই ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে স্থির।




