প্রযুক্তি

রেকর্ডটি ১.০২ পেটাবিট নয়। রেকর্ড এই যে, এটি বয়ে আনা ফাইবারের বেড় মাটির নিচে এখন যা আছে তারই সমান

প্রমিত ০.১২৫ মিলিমিটার ক্ল্যাডিংয়ের ১৯-কোর ফাইবারে ১,৮০৮ কিলোমিটার দূরত্বে সেকেন্ডে ১.০২ পেটাবিট পাঠিয়েছে এনআইসিটি ও সুমিতোমো—আর এই মাপটিই ঠিক করে রেকর্ডটি আদৌ বসানো যাবে কি না।

রেকর্ডটি ১.০২ পেটাবিট নয়। রেকর্ড এই যে, এটি বয়ে আনা ফাইবারের বেড় মাটির নিচে এখন যা আছে তারই সমান

জাপানের এনআইসিটির নেতৃত্বে আর সুমিতোমো ইলেকট্রিক ইন্ডাস্ট্রিজকে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক দল ১,৮০৮ কিলোমিটার দূরত্বে সেকেন্ডে ১.০২ পেটাবিট হারে তথ্য পাঠিয়েছে। এর ধারণক্ষমতা-দূরত্ব গুণফল ১.৮৬ এক্সাবিট/সেকেন্ড × কিমি—এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ, আর যেকোনো অপটিক্যাল ফাইবারে অর্জিত দ্রুততম দূরপাল্লার সঞ্চালন।

এ ক্ষেত্রে ধারণক্ষমতার শিরোনাম-রেকর্ড আসে প্রতি এক-দুই বছরে, আর তার বেশির ভাগেরই কোনো গুরুত্ব নেই। এটির আছে, আর কারণটি লুকিয়ে আছে স্পেসিফিকেশনের ভেতরে।

শিরোনামে নেই যে সংখ্যাটি

ফাইবারটিতে আছে ১৯টি কোর—একটিমাত্র সুতোয় উনিশটি আলাদা আলোর পথ, সাধারণ ফাইবারের একটিমাত্র কোরের বদলে। এটুকু প্রত্যাশিত; মাল্টি-কোর ফাইবারেই এসব রেকর্ড হয়।

গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যাটি হলো ক্ল্যাডিংয়ের বেড়: ০.১২৫ মিলিমিটার। এটিই প্রমিত মাপ—বিশ্বজুড়ে রাস্তার নিচে পোঁতা আর সমুদ্রতলে পাতা একক-কোর ফাইবারের সঙ্গে হুবহু এক।

আগের মাল্টি-কোর রেকর্ডগুলো প্রায়ই হতো মোটা ফাইবারে। মোটা সুতো মানে নতুন কেব্‌ল নকশা, নতুন স্প্লাইসিং যন্ত্র, নতুন কানেক্টর, নতুন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আর নতুন উৎপাদন লাইন—অর্থাৎ রেকর্ডটি গবেষণাগারের ফল, যা গোটা একটি শিল্পের যন্ত্রপাতি বদলানো ছাড়া বসানোই যায় না।

০.১২৫ মিলিমিটারে থেকে যাওয়া মানে ফাইবারটি চলতি কেব্‌ল স্থাপত্য, চলতি নালি আর চলতি স্থাপন-পদ্ধতিতেই খাপ খায়। প্রদর্শনী আর পণ্যের মধ্যে পার্থক্য এটিই।

দূরত্বটি যেভাবে অর্জিত হলো

অল্প দূরত্বে ধারণক্ষমতা তুলনামূলক সহজ। ১,৮০৮ কিলোমিটারে কঠিন, কারণ সংকেত দুর্বল হয়ে পড়ে আর নিয়মিত পরিবর্ধন লাগে—আর উনিশটি কোর আলাদা করে পরিবর্ধন করা অবাস্তব।

কাজ ভাগ হয়েছে সেভাবেই। সুমিতোমো ইলেকট্রিক কাপল্‌ড ১৯-কোর ফাইবারটির নকশা ও উৎপাদন করেছে; কোরগুলোর গঠন ও বিন্যাস সেরা করে সি-ব্যান্ড ও এল-ব্যান্ড দুটিতেই আলোর ক্ষয় কমিয়েছে। এনআইসিটি বানিয়েছে সঞ্চালন ব্যবস্থা আর—কঠিনতর অংশ—এমন একটি অপটিক্যাল পরিবর্ধন রিলে, যা ১৯টি কোরের সংকেত একসঙ্গে পরিবর্ধন করে।

ওই পরিবর্ধকই অল্প দূরত্বের ধারণক্ষমতার হিসাবকে দূরপাল্লার হিসাবে বদলে দেয়, আর এ কারণেই গবেষকেরা স্রেফ গতি নয়, ধারণক্ষমতা-দূরত্ব গুণফলকেই সামনে রাখেন।

এর মানে যা নয়

এর মানে বাড়ির ইন্টারনেট দ্রুততর হওয়া নয়, আর ফারাকটি স্পষ্ট করা দরকার।

সেকেন্ডে এক পেটাবিট ব্যাকবোনের ধারণক্ষমতা—শহর, দেশ ও মহাদেশের মধ্যেকার দূরপাল্লার সংযোগ। ভবনের ভেতরে আসা সংযোগটিতে এর কিছুই বদলায় না; সেটি সীমিত শেষ মাইল, দুই প্রান্তের যন্ত্রপাতি আর সেবাদাতা কী বেচতে রাজি তা দিয়ে।

এটি বসানোর কাছাকাছিও নয়। এটি গবেষণার প্রদর্শনী, যাতে ব্যবহৃত হয়েছে গবেষণাগারের সঞ্চালন ও পরিবর্ধন যন্ত্র—কেউ অর্ডার দিতে পারে এমন পণ্য নয়। প্রমিত ক্ল্যাডিংয়ের মানে হলো, শিল্পটিকে নতুন করে না গড়েই একদিন এটি বসানো যেতে পারে—এটি পথের দাবি, সময়সীমার নয়।

তবু ব্যাকবোনের ধারণক্ষমতাই কেন দেখার বিষয়

দূরপাল্লার সংযোগে চাহিদা বাড়ছে ভোক্তা-চাহিদার চেয়ে দ্রুত, আর কারণটির সঙ্গে ভোক্তাদের সম্পর্ক নেই: এআই প্রশিক্ষণ ও ইনফারেন্স ডেটা সেন্টারের মধ্যে বিপুল পরিমাণ তথ্য সরায়। ওই ট্রাফিক যন্ত্র-থেকে-যন্ত্র, গুটিকয় পথে কেন্দ্রীভূত, আর বাড়ছে এমনভাবে—ভিডিও স্ট্রিমিং যেভাবে কখনো বাড়েনি।

চলতি নালিতেই বসানো যায় এমন রেকর্ড ওই সমস্যার সঙ্গে সরাসরি প্রাসঙ্গিক। সবখানে নতুন কেব্‌ল দাবি করা রেকর্ড নয়।

সূত্র: এনআইসিটির ঘোষণা; সুমিতোমো ইলেকট্রিক; ফাইবার ব্রডব্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন; টেকস্পট; আর প্রথম আলোর মূল প্রতিবেদন।

সূত্র: NICT, Sumitomo Electric, Fiber Broadband Association, TechSpot, Prothom Alo

লিখেছেন

Mahbub Rabbani

টেক বিডিতে ভোক্তা প্রযুক্তি নিয়ে লেখেন মাহবুব রব্বানী — ফোন, অ্যাপ, অপারেটিং সিস্টেম আর দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রতিদিনের প্ল্যাটফর্ম। সাইটের কীভাবে-করবেন নির্দেশিকাগুলো তাঁর লেখা; কোনো পণ্যকে তিনি মাপেন কেনার খরচ দিয়ে নয়, ব্যবহারের খরচ দিয়ে।