প্রযুক্তি

আপনার রাস্তার নিচের তারের চেয়ে মোটা নয় এমন ফাইবারে সেকেন্ডে ১.০২ পেটাবিট পাঠাল জাপান—রেকর্ডটি, আর বাংলাদেশের পরের সাবমেরিন কেব্‌লের জন্য এর মানে

জাপানের এনআইসিটি সাধারণ কেব্‌লের মতোই ০.১২৫ মিলিমিটার ব্যাসের ১৯ কোরের অপটিক্যাল ফাইবারে ১,৮০৮ কিলোমিটারে সেকেন্ডে ১.০২ পেটাবিট পাঠিয়েছে—এক সেকেন্ডে ইংরেজি উইকিপিডিয়া ১০ হাজার বার নামানোর মতো। গতির চেয়ে প্রস্থ কেন বেশি জরুরি, আর রেকর্ডটি আসলে কেন মাটির নিচে ইতিমধ্যে থাকা কেব্‌লের কথা।

আপনার রাস্তার নিচের তারের চেয়ে মোটা নয় এমন ফাইবারে সেকেন্ডে ১.০২ পেটাবিট পাঠাল জাপান—রেকর্ডটি, আর বাংলাদেশের পরের সাবমেরিন কেব্‌লের জন্য এর মানে

সংখ্যাটি সেকেন্ডে ১.০২ পেটাবিট—১০ লাখ ২০ হাজার গিগাবিট—আর জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস টেকনোলজি (এনআইসিটি) বলছে, দীর্ঘ দূরত্বে রেকর্ড করা এটিই সবচেয়ে দ্রুত তথ্য প্রেরণ। গ্যাজেট সাইটের হিসাব একে জীবন্ত করে: এই হারে ইংরেজি উইকিপিডিয়ার প্রায় ১০০ গিগাবাইট এক সেকেন্ডে দশ হাজার বার নামানো যায়, বা এই বাক্য পড়া শেষ হওয়ার আগে পুরো নেটফ্লিক্স ক্যাটালগ। তবে বেশি জরুরি সংখ্যাটি ০.১২৫ মিলিমিটার

যা করলেন

এনআইসিটির ফটোনিক নেটওয়ার্ক ল্যাবরেটরি জাপানি কেব্‌ল নির্মাতা সুমিতোমো ইলেকট্রিক ও ইউরোপের কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবহার করেছে ১৯টি আলাদা কোরের অপটিক্যাল ফাইবার—একটি তন্তুর ভেতরে ১৯টি আলো-বাহী চ্যানেল—যার ব্যাস বিশ্বজুড়ে বসানো সাধারণ এক-কোর ফাইবারের ঠিক সমান। সংকেত ৮৬.১ কিলোমিটারের একটি লুপে ২১ বার ঘুরেছে, মোট ১,৮০৮ কিলোমিটার, একসঙ্গে ১৮০টি স্বাধীন তথ্যপ্রবাহ বহন করে। প্রতি কিলোমিটারে সেকেন্ডে ১.৮৬ এক্সাবিটের সম্মিলিত হিসাবও রেকর্ড। ফাইবার গড়েছে সুমিতোমো; একে চালানোর ট্রান্সমিটার, রিসিভার ও অ্যামপ্লিফায়ার গড়েছে এনআইসিটি।

ব্যাসই কেন আসল কথা

গবেষণাগারের গতির রেকর্ডে সাধারণত এমন অদ্ভুত কেব্‌ল থাকে, যা কখনো মাঠে বসানো যায় না। এটিতে নেই। সাধারণ বাইরের ব্যাসের ফাইবার বিদ্যমান ডাক্ট, কানেক্টর, স্প্লাইসিং যন্ত্র ও সাবমেরিন কেব্‌লের নকশায় খাপ খায়। ‘আমরা দেখাতে চেয়েছি, আজকের অবকাঠামো দিয়েই দীর্ঘ দূরত্বে আলট্রা-হাই-স্পিড সংযোগ সম্ভব,’ এনআইসিটি বলেছে। অন্য কথায়, ধারণক্ষমতা একশ গুণ বাড়ানোর পথ হয়তো নতুন খাল খোঁড়া বা নতুন সমুদ্র-কেব্‌ল বসানো নয়, বরং ইতিমধ্যে থাকা পথে মাল্টি-কোর ফাইবার টেনে নেওয়া।

বাংলাদেশের দিক

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ নির্ভর করে দুটি সাবমেরিন কেব্‌ল আর আগামী এক-দুই বছরে নামার কথা থাকা তৃতীয়টি সি-মি-উই ৬-এ, সঙ্গে ভারত হয়ে স্থলপথের সংযোগ। প্রতিটি কনসোর্টিয়ামে দর-কষাকষি করা দশকব্যাপী বিনিয়োগ। মাল্টি-কোর ফাইবার সেই হিসাব বদলায়: একই শারীরিক আকারের ভবিষ্যৎ কেব্‌ল দশ গুণ বেশি বহন করতে পারে, আর দেশীয় ব্যাকবোন—মহাসড়ক ও রেললাইন ধরে চলা এনটিটিএন ফাইবার—পথের বদলে তন্তু বদলে আপগ্রেড করা যেতে পারে। চাহিদা নিয়ে সন্দেহ নেই; স্ট্রিমিং, ক্লাউড সেবা ও এআইয়ের কাজ সর্বত্র ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্রুত বাড়ছে। ১৯ কোরের ফাইবার বাণিজ্যিকভাবে কবে মিলবে, এনআইসিটি বলেনি, কিন্তু রেকর্ডটি একে গবেষণাগারের প্রশ্ন থেকে কেনাকাটার প্রশ্নে সরিয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।