ঘরের ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত এত যন্ত্রের আদৌ ইন্টারনেটে যুক্ত থাকার দরকার আছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন জার্সি সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের পরিচালক।
মন্তব্যটি এসেছে ইউরোপের কয়েক ডজন সুপারমার্কেটের ফ্রিজারের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তুলে দেওয়ার ঘটনাগুলোর পর—ফ্রান্সের প্রথম ঘটনা থেকে শুরু করে ব্রিটেনের মাংস সরবরাহকারীদের ভোগান্তি পর্যন্ত যে ধারাবাহিকতা এই সাইট অনুসরণ করে এসেছে।
তিনি আসলে যা বলেছেন, শিরোনামের চেয়ে যা সংকীর্ণ
ম্যাট পামার সতর্ক ছিলেন। তিনি বলেছেন, তিনি মানুষকে যন্ত্রের সংযোগ খুলে ফেলতে বলছেন না; তবে তিনি ‘প্রশ্ন তুলবেন, সবার কি সত্যিই একটি সংযুক্ত ফ্রিজ দরকার’।
পার্থক্যটি ধরে রাখা জরুরি, কারণ এ ধরনের হামলার পর সাধারণত যে পরামর্শ আসে তা হয় অকেজো (‘সতর্ক থাকুন’), নয়তো অসম্ভব (‘সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন’)। পামার করছেন আরও সুনির্দিষ্ট কিছু—যন্ত্র ধরে ধরে জিজ্ঞাসা করছেন, সংযোগটি কী কাজে লাগে।

খাতটি যে প্রশ্নের জবাব দেয়নি
স্মার্ট যন্ত্রের তালিকায় এখন আছে ফ্রিজ, সেন্ট্রাল হিটিং, এমনকি টোস্টার ও ওয়াশিং মেশিন। এর কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে সংযোগের উদ্দেশ্য স্পষ্ট। বাড়ি ফেরার আগেই চালু করে রাখা যায় এমন হিটিং টাকা বাঁচায়, আর সে কারণেই মানুষ থার্মোস্ট্যাটটি কেনেন।
অন্যগুলোর উদ্দেশ্য বলা কঠিন। একটি সংযুক্ত ফ্রিজ মূলত দেয় কিছু বিজ্ঞপ্তি, একটি পর্দা, আর দূর থেকে তাপমাত্রা জেনে নেওয়ার সুযোগ। এর বিপরীতে থাকছে আপনার রান্নাঘরে নেটওয়ার্কমুখী একটি স্থায়ী কম্পিউটার—বানিয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান যাদের দক্ষতা হিমায়নে, সহায়তা চলবে তারা যত দিন চায়, আর বদলানো হবে ফোনের তিন বছরের নয়, ফ্রিজের পনেরো বছরের চক্রে।
শেষ কথাটিই সবচেয়ে বেশি চোখ এড়ায়। ভোক্তা ইলেকট্রনিকসের নিরাপত্তা-ভাবনা ধরে নেয় যে জিনিস নিয়মিত বদলানো হবে। গৃহস্থালি যন্ত্র নিয়মিত বদলানো হয় না। আজ কেনা ফ্রিজ ২০৪১ সালেও চলবে—হালনাগাদ দেওয়ার মতো কেউ থাকার অনেক পরেও।
বিক্রেতা যা বলেছে
সিআই কো-অপের প্রধান নির্বাহী মার্ক কক্স বলেছেন, সাইবার হুমকির কথা মাথায় রেখে তাঁদের সুপারমার্কেটগুলোয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।
উত্তরটি প্রত্যাশিত, আর উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়—ইউরোপের হামলা সব চেইনে লাগেনি, আর যাদের নেটওয়ার্ক ভাগ করা ছিল এবং নিয়ন্ত্রক উন্মুক্ত ইন্টারনেটে ছিল না, তারা খবরে আসেনি।
বাংলাদেশের রান্নাঘরেও কেন প্রাসঙ্গিক
সংযুক্ত যন্ত্র এ দেশে আসে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্য দিয়ে নয়, আমদানিকারকের হাত ধরে—আর প্রায়ই আসে সস্তা মডেলগুলো, যেগুলোর নিরাপত্তা হালনাগাদ পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম।
পামারের প্রশ্নটি সব জায়গাতেই খাটে, কারণ জিজ্ঞাসা করতে কিছু খরচ হয় না আর কারিগরি জ্ঞানও লাগে না—কোনো জিনিসের সংযুক্ত সংস্করণ কিনতে বলা হলে ভাবুন, সংযোগটি আপনার কী কাজে আসছে। সৎ উত্তর যদি হয় এমন একটি বিজ্ঞপ্তি যা না পেলেও চলত, তবে বাড়তি টাকা দিয়ে আপনি একটি ঝুঁকিই কিনছেন।
দোকানে দাঁড়িয়েই করা যায় এমন পরীক্ষা
পামারের প্রশ্নটিকে তিনটি প্রশ্নে ভাগ করলে তা কাজের হয়ে ওঠে। সংযোগটি যন্ত্রটিকে এমন কী করতে দিচ্ছে, যা নইলে সে পারত না? সেটি কাল বন্ধ হয়ে গেলে আপনি টের পাবেন? আর নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখলে যন্ত্রটি তার মূল কাজটি করতে পারবে তো?
শেষ প্রশ্নটিই আসল। যে ওয়াশিং মেশিন সার্ভার ছাড়া কাপড় কাচে না, সেটি কেনা আর কেবল একটি অ্যাপ দেয় এমন মেশিন কেনা এক জিনিস নয়। প্রথমটিতে আপনি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন—যন্ত্রটির পনেরো বছরের আয়ুষ্কালজুড়ে কোনো প্রতিষ্ঠান সেবাটি চালু রাখবে কি না তার ওপর। দ্বিতীয়টিকে আপনি নিছক উপেক্ষা করতে পারেন।
প্রথম প্রশ্নের সৎ উত্তর যদি হয় ‘দরজায় লেখা তাপমাত্রাটি আমাকে বলে দেবে’, তবে সেই সুবিধার জন্য ঘরের নেটওয়ার্কে স্থায়ী একটি ফাঁক রাখার মূল্য নেই।




