ব্রিটেনের সবচেয়ে ভয়াবহ মেনিনজাইটিস বি প্রাদুর্ভাবের পেছনের ব্যাকটেরিয়া কেন এত বিপজ্জনক ছিল, বিজ্ঞানীরা বলছেন তাঁরা তা বের করেছেন: সেটি মানুষের গলায় নির্বিঘ্নে বাস করা অন্য ব্যাকটেরিয়ার কাছ থেকে জিনগত উপাদান নিয়েছিল।
কেন্টে যা ঘটেছিল
প্রাদুর্ভাবটি হয় মার্চে। ক্যান্টারবেরির একটি নাইটক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ওই প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত হন ২০ জনের বেশি তরুণ, যাঁদের বেশির ভাগই শিক্ষার্থী। সবাইকেই হাসপাতালে নিতে হয়, নয়জনকে যেতে হয় নিবিড় পরিচর্যায়, আর মারা যান দুজন।
ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির নিজস্ব বিবরণে সংখ্যাটি এক সপ্তাহে শনাক্ত ২১ জন, আর সূত্র এক সপ্তাহান্তে একটিমাত্র নাইটক্লাব।
জিনোম পড়ে যা মিলল
ইউকেএইচএসএ ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ব্যাকটেরিয়াটির ডিএনএ পড়েছেন। তাঁরা দেখেছেন, সেটি জিন নিয়েছে সম্পর্কিত মেনবি ব্যাকটেরিয়া থেকে, আবার এমন দূরসম্পর্কের আত্মীয়দের থেকেও—যারা সাধারণত রোগই ঘটায় না। এতে তৈরি হয় নতুন একটি ধরন, যা পরে ক্লাবে আসা তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে গুরুতর অসুস্থতা ঘটায়।
গবেষণাটি প্রিপ্রিন্ট আকারে প্রকাশিত হয়েছে বায়োআরকাইভে এবং উপস্থাপন করা হয়েছে ইউকেএইচএসএ কনফারেন্স ২০২৬-এ; অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগ ও যুক্তরাজ্য সরকার—দুই পক্ষই এ নিয়ে বিবরণ প্রকাশ করেছে। গবেষকেরা একাধিক জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত করেছেন, যা স্ট্রেইনটির বাড়তি রোগ ঘটানোর সক্ষমতা ব্যাখ্যা করতে পারে।
দ্বিতীয় একটি পর্যবেক্ষণ কম আলোচিত হলেও সমান কৌতূহলোদ্দীপক: যে পরিবর্তনগুলো স্ট্রেইনটিকে এত বিপজ্জনক করেছিল, সেগুলোই হয়তো ব্যাখ্যা করে কেন তা পরে ব্যাপকভাবে ছড়ায়নি। রোগ ঘটাতে ভালো হয়ে ওঠা আর ছড়াতে ভালো হয়ে ওঠা এক কথা নয়; এই স্ট্রেইন একটির বদলে আরেকটি পেয়েছে বলেই মনে হয়।
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুরু করা ১০ লাখের বেশি তরুণকে এখন যে টিকা দেওয়া হচ্ছে, তা এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।
বাংলাদেশে এর মানে কী
নেওয়ার মতো জিনিস ব্যাকটেরিয়াটি নয়। বরং এই যে, একটি জনস্বাস্থ্য সংস্থা ছয় মাসের মধ্যে ‘এই প্রাদুর্ভাব এত খারাপ হলো কেন’ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারল—কারণ তাদের সিকোয়েন্সিং সক্ষমতা ছিল, আর দেখার মতো সংরক্ষিত নমুনা ছিল।
কোভিডের সময় বাংলাদেশ সত্যিকারের জিনোমিক সক্ষমতা গড়েছিল—আইসিডিডিআরবি, আইইডিসিআর ও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব সার্স-কোভ-২ সিকোয়েন্স করে প্রকাশও করেছে। প্রশ্ন হলো, জরুরি অবস্থা শেষ হওয়ার পর সেই সক্ষমতার কী হলো। সিকোয়েন্সিং কোভিডের সরঞ্জাম নয়; এটি সেই যন্ত্র, যা ব্যাখ্যাহীন মৃত্যুর ঝাঁককে পর্যবেক্ষণে বদলে দেয়—আর তা কাজ করে কেবল তখনই, যখন ল্যাবগুলো নমুনা রাখে, জনবল রাখে, আর চালু থাকে।
দেশের নিজের প্রাদুর্ভাবগুলোর জন্য—টাইফয়েড, কলেরা, ডেঙ্গুর সেরোটাইপ, হাসপাতালের ওষুধ-প্রতিরোধী সংক্রমণ—নির্দিষ্ট শিক্ষাটি এই যে, ‘এটি কি নতুন কোনো ধরন, নাকি স্রেফ দুর্ভাগ্য’ প্রশ্নের উত্তর সস্তায়ই দেওয়া যায়, যদি কেউ নমুনাগুলো রেখে দিয়ে থাকেন। দক্ষিণ এশিয়ায় এই সমস্যার সবচেয়ে কঠিন রূপটি বাংলাদেশেরই, আর ব্যতিক্রমীভাবে এ অঞ্চলের ভালো ল্যাবগুলোর কয়েকটিও এখানেই। দুটিকে জোড়া লাগবে কি না, তা অর্থায়নের সিদ্ধান্ত—বৈজ্ঞানিক নয়।




