মেনিনজাইটিস হলো মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জুকে ঘিরে থাকা সুরক্ষাকারী পর্দার সংক্রমণ। এটি যে কারও হতে পারে, তবে সবচেয়ে বেশি হয় শিশু, ছোট বাচ্চা, কিশোর ও তরুণদের—আর চিকিৎসা না হলে খুব দ্রুত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
র্যাশের আগে যে লক্ষণগুলো আসে
গ্লাস টেস্টের কথা প্রায় সবাই শুনেছেন: র্যাশের ওপর স্বচ্ছ গ্লাস চেপে দেখা দাগ মিলিয়ে যায় কি না। পরীক্ষাটি সত্যিই কাজের। আবার এই রোগে মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুল করে এখানেই—কারণ র্যাশ দেরিতে আসা লক্ষণ, আর কখনো কখনো আসেই না। এর অপেক্ষা করাটাই ভুল।
আগের লক্ষণগুলো অস্বস্তিকরভাবে সাধারণ অসুখেরই লক্ষণ: জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ব্যথা, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসা, ঝিমুনি বা ঘুম থেকে তুলতে অসুবিধা। সতর্ক করা উচিত এগুলোর সমষ্টি আর গতি—কেউ দিনের পর দিন নয়, কয়েক ঘণ্টায় দ্রুত ও অস্বাভাবিকভাবে খারাপ হয়ে পড়লে।
দুটি লক্ষণ বেশি নির্দিষ্ট এবং জেনে রাখার মতো: ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া এবং উজ্জ্বল আলোয় অস্বস্তি। শিশুদের ক্ষেত্রে দেখুন তীক্ষ্ণ বা গোঙানির মতো কান্না, মাথার নরম জায়গা ফুলে ওঠা, নেতিয়ে পড়া বা অস্বাভাবিক শক্ত হয়ে যাওয়া, আর খেতে না চাওয়া।
মেনিনজাইটিসের সঙ্গে সেপ্টিসেমিয়া বা রক্তে বিষক্রিয়াও হতে পারে, আর র্যাশের প্রসঙ্গ আসে সেখানেই। শুরু হয় ছোট লাল বিন্দু দিয়ে, তারপর ছড়িয়ে দাগ হয়ে যায়—যা চাপ দিলে মিলিয়ে যায় না।
ছড়ায় কীভাবে
মেনিনগোকক্কাল ব্যাকটেরিয়া সুস্থ মানুষের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের নাক ও গলায় নির্বিঘ্নেই থাকে। এক জন থেকে আরেক জনে যায় ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘ সংস্পর্শে—কাশি, হাঁচি, চুম্বন, এক কাপ, চামচ, পানির বোতল বা সিগারেট ভাগ করে নেওয়ায়। এ কারণেই প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় সেখানে, যেখানে তরুণেরা গায়ে গায়ে থাকেন ও মেলামেশা করেন।
মূল সুরক্ষা টিকা। যুক্তরাজ্যে শিশুদের জন্য মেনবি ও কিশোরদের জন্য মেনএসিডব্লিউওয়াই কর্মসূচি আছে; তবে এনএইচএস ও ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি দুই পক্ষই মনে করিয়ে দেয়, টিকা সব স্ট্রেইন থেকে রক্ষা করে না—তাই পূর্ণ টিকা নেওয়া থাকলেও লক্ষণ জানা জরুরি।
বাংলাদেশে এর মানে কী
বাংলাদেশে নিয়মিত মেনিনগোকক্কাল টিকা কর্মসূচি নেই; এখানে বেশির ভাগ মানুষ যে টিকার সঙ্গে পরিচিত, তা হজ ও ওমরাহযাত্রীদের জন্য বাধ্যতামূলক টিকাটি, যা সৌদি আরব চায়। এই একটি তথ্যই ঝুঁকির ছবিটা বদলে দেয়: টিকা জমে আছে ভ্রমণকারীদের মধ্যে, রোগটি আসলে যে বয়সীদের ধরে তাঁদের মধ্যে নয়।
এ থেকে দুটি ব্যবহারিক কথা। প্রথমত, যে দেশে জ্বর সাধারণ ব্যাপার আর সাধারণত অন্য কিছুর লক্ষণ, সেখানে খেয়াল রাখতে হবে গতিপথে—যে শিশু ঘণ্টায় ঘণ্টায় নাটকীয়ভাবে খারাপ হচ্ছে, তাকে এখনই হাসপাতালে নিতে হবে, দেখি কী হয় বলে অপেক্ষা নয়। র্যাশের অপেক্ষা করবেন না, আর র্যাশ নেই বলে আশ্বস্ত হবেন না।
দ্বিতীয়ত, সতর্ক থাকতে হবে হোস্টেল ও আবাসিক হলের ক্ষেত্রে। বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ছাত্রাবাস, পোশাকশ্রমিকদের ভাগাভাগির বাসা আর কোচিং সেন্টারের হোস্টেল ঠিক সেই পরিস্থিতিই তৈরি করে—তরুণ মানুষ, ঠাসাঠাসি জায়গা, ভাগ করা কাপ ও সিগারেট—যেখানে এই ব্যাকটেরিয়া এক জন থেকে আরেক জনে যায়। একই হোস্টেলের দুজন কয়েক দিনের ব্যবধানে গুরুতর অসুস্থ হলে সেটিকে কাকতালীয় না ভেবে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জানানো উচিত।




