কোভিড ও অন্যান্য টিকায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে ব্রিটিশ সরকারের যে প্রকল্প, তা ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে চালাতে খরচ হয়েছে ৮৩ মিলিয়ন পাউন্ড। একই সময়ে যাঁদের জন্য প্রকল্পটি, তাঁদের দেওয়া হয়েছে ৩২ মিলিয়ন পাউন্ড।
অর্থাৎ প্রশাসন ও চিকিৎসা মূল্যায়নেই খরচ হয়েছে সহায়তার দ্বিগুণেরও বেশি।
সংখ্যাগুলো
২০২১ সালের নভেম্বর থেকে আবেদন জমা পড়েছে ২৪ হাজার ২৬০টি। সফল হয়েছে ২৬৪টি—মোটামুটি ৯২টিতে একটি।
৮৩ মিলিয়ন পাউন্ডের মধ্যে আছে জনবল, প্রশাসন ও চিকিৎসা পর্যালোচনার খরচ। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডেম ডায়ানা জনসনের দেওয়া এবং বিবিসির বিবরণের পাশাপাশি প্রকাশিত হিসাব বলছে, শুধু চিকিৎসা মূল্যায়নের খরচই ২০২২-২৩ সালের ৪৩ লাখ পাউন্ড থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে ১ কোটি ৯৩ লাখ পাউন্ড—চার গুণেরও বেশি। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তথ্যে মোট পরিশোধ প্রায় ৩ কোটি ১৬ লাখ পাউন্ড।
প্রকল্পটি পরিচালনাকারী এনএইচএস বিজনেস সার্ভিসেস অথরিটি বাড়তি প্রশাসনিক ও মূল্যায়ন খরচের কারণ হিসেবে দেখাচ্ছে আবেদনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াকে। ট্যাক্সপেয়ার্স অ্যালায়েন্স বলেছে, জনগণ এই খরচে "হতবাক" হবে; তারা জরুরি পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে।
সংখ্যাগুলো যা দেখায়, আর যা দেখায় না
এখানে সতর্ক থাকা দরকার, কারণ এই পরিসংখ্যান দুই দিকেই টানা যায়।
অনুমোদনের হার কম হওয়া নিজে থেকেই প্রমাণ করে না যে প্রকল্পটি আবেদনকারীদের বঞ্চিত করছে; আবার এ-ও প্রমাণ করে না যে টিকা ধারণার চেয়ে বেশি ক্ষতিকর। প্রকল্পটির আইনি মানদণ্ড উঁচু—গুরুতর অক্ষমতা ও কার্যকারণ সম্পর্ক লাগে—তাই বেশির ভাগ আবেদন আটকে যায় ওই সীমায়, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নয়। তবু প্রতিটি আবেদনই একজন চিকিৎসককে দিয়ে মূল্যায়ন করাতে হয়, আর ঠিক এ কারণেই ২৪ হাজার ২৬০টি আবেদন যাচাইয়ে খরচ ২৬৪টির পরিশোধের চেয়ে বেশি।
সংখ্যাগুলো যা দেখায় তা হলো—এমন একটি প্রকল্প, যার নকশা তার কাজের চাপের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি: বছরে গুটিকয় আবেদনের জন্য বানানো, এখন সামলাচ্ছে হাজার হাজার।
বাংলাদেশে এর মানে কী
বাংলাদেশে টিকাজনিত ক্ষতির কোনো ক্ষতিপূরণ প্রকল্পই নেই। দেশটি বিশ্বের অন্যতম বড় কোভিড টিকা অভিযান চালিয়েছে—৩০ কোটির বেশি ডোজ—আর কেউ যদি মনে করেন টিকায় তাঁর ক্ষতি হয়েছে, তবে সাধারণ মামলা ছাড়া মূল্যায়ন, স্বীকৃতি বা প্রতিকারের কোনো পথ তাঁর নেই; আর সেই মামলার খরচ বেশির ভাগ পরিবারের সাধ্যের বাইরে।
এই অনুপস্থিতির কথা বলা দরকার ঠিক এ কারণেই যে টিকা বিপুলভাবে উপকারী। পঁচিশটির বেশি দেশে দোষারোপহীন ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা আছে একটি বাস্তব কারণে: এই ব্যবস্থাই রাষ্ট্রকে একসঙ্গে দুটি কথা বলতে দেয়—টিকা নিরাপদ ও সুপারিশযোগ্য, এবং বিরল ক্ষেত্রে কারও ক্ষতি হলে তাঁকে দেখা হবে। যেখানে এমন ব্যবস্থা নেই, সেখানে ক্ষতির প্রতিটি দাবি লড়াই হয়ে ওঠে—আর টিকাবিরোধী প্রচার ঠিক এই লড়াইগুলোর ওপরই বাঁচে।
ব্রিটিশ অভিজ্ঞতায় নকশা নিয়ে একটি সতর্কবার্তাও আছে, যা কিছু বানানোর আগেই জানা ভালো। কোনো প্রকল্পের সীমা এত উঁচুতে বাঁধা হলে যে ৯২টির একটি সফল হয়, আর বাকি ৯১টিরও পূর্ণ চিকিৎসা মূল্যায়ন লাগে, তখন খরচটা প্রায় পুরোটাই গিয়ে পড়ে প্রক্রিয়ার ঘাড়ে। যে ব্যবস্থা বছরে ১ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড যাচাইয়ে খরচ করে আর ৮০ লাখ পরিশোধে, তা স্পষ্টতই কারও কাজে আসছে বলে মনে হয় না।




