স্বাস্থ্য

কেন্টের প্রাদুর্ভাবের পর ১০ লাখ তরুণকে বিনা মূল্যে মেনিনজাইটিস বি টিকা দিচ্ছে ইংল্যান্ড

যুক্তরাজ্যের দ্রুততম বেড়ে ওঠা প্রাদুর্ভাবের পর প্রায় ৯০ হাজার ডোজ দেওয়া হয়ে গেছে, আরও ১ লাখ ৩৫ হাজার বুকিং হয়ে আছে। রোগটি আসলে যাদের ধরে, কর্মসূচি সেই বয়সীদেরই লক্ষ্য করছে—বোঝার মতো জায়গা এটিই।

কেন্টের প্রাদুর্ভাবের পর ১০ লাখ তরুণকে বিনা মূল্যে মেনিনজাইটিস বি টিকা দিচ্ছে ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ডে ১০ লাখ কিশোর ও তরুণকে লক্ষ্য করে একটি টিকা কর্মসূচি চলছে, যা শুরু হয়েছে মেনিনজাইটিস বি সংক্রমণ ও এ বছরের শুরুতে কেন্টে হওয়া প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগের পর। কর্মকর্তারা বলছেন, এটি "তাৎক্ষণিকভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে" থাকা মানুষদের সুরক্ষা দেবে।

এ পর্যন্ত পরিসর

কর্মসূচির বিবরণ দেওয়ার সময় প্রায় ৯০ হাজার ডোজ দেওয়া হয়ে গিয়েছিল, পরের সপ্তাহগুলোর জন্য বুকিং ছিল আরও ১ লাখ ৩৫ হাজার। টিকাটি সুরক্ষা দেয় সেই মেনবি স্ট্রেইন থেকে, যা কেন্টের প্রাদুর্ভাব ঘটিয়েছিল—যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় ও দ্রুততম বেড়ে ওঠা প্রাদুর্ভাব।

ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি পরে নিজেদের প্রকাশিত তথ্যে প্রাদুর্ভাবের আকার নিশ্চিত করেছে: মার্চে এক সপ্তাহেই ২১ জনের ইনভেসিভ মেনিনগোকক্কাল রোগ শনাক্ত, সবাইকেই হাসপাতালে নিতে হয়, নয়জন নিবিড় পরিচর্যায়, মৃত্যু দুজনের।

এই বয়সীদেরই কেন

যে রোগ মূলত শিশুদের সঙ্গে জড়িয়ে, তার টিকা কিশোরদের দেওয়াটা অদ্ভুত ঠেকে; যুক্তিটি অনুসরণ করার মতো। মেনিনগোকক্কাল ব্যাকটেরিয়া জনসংখ্যার একটি অংশের গলায় নির্বিঘ্নেই থাকে, আর বহন সবচেয়ে বেশি হয় কৈশোরের শেষ ও বিশের শুরুর বছরগুলোতে—ঠিক যখন মানুষ হলে ওঠে, পানীয় ভাগ করে খায়, ভিড়ে মেলামেশা করে।

অর্থাৎ এই দলটিই একদিকে ব্যাকটেরিয়া বহনের সবচেয়ে সম্ভাব্য দল, অন্যদিকে প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতিতে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতেও সামনের সারিতে। তাঁদের টিকা দিলে তাঁরা সুরক্ষিত হন, আবার ব্যাকটেরিয়ার চলাচলও কমে।

কেন্টের প্রাদুর্ভাব বিষয়টিকে তাত্ত্বিক থেকে বাস্তব করে তুলেছে: এর সূত্র মিলেছে এক সপ্তাহান্তে ক্যান্টারবেরির একটিমাত্র নাইটক্লাবে।

বাংলাদেশে এর মানে কী

বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো কর্মসূচি নেই, আর ১০ লাখ ডোজের মেনিনগোকক্কাল অভিযানের বাস্তব সম্ভাবনাও নেই। কিন্তু যুক্তিটি সরাসরি খাটে, আর নেওয়ার মতো জিনিস সেটিই।

নীতিটি হলো—টিকা দিতে হয় যেখানে সংক্রমণ জমাট বাঁধে, কেবল যেখানে রোগ সবচেয়ে মারাত্মক সেখানে নয়। বাংলাদেশ কোথাও কোথাও এই ভাবনা ভালোভাবেই প্রয়োগ করে, কোথাও করে না। হাম-রুবেলা ও এইচপিভি অভিযান স্কুলের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক শিশুর কাছে পৌঁছেছে। ফাঁকটি ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের নিয়ে—যাঁরা স্কুলব্যবস্থা ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগপর্যন্ত কার্যত জনস্বাস্থ্যের নাগালের বাইরে থাকেন; অথচ এই দলটিই থাকে সেসব হল ও হোস্টেলে, যেখানে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ সবচেয়ে দ্রুত ছড়ায়।

এ দেশের পরিবারের জন্য ব্যবহারিক রূপটি এই: মেনিনগোকক্কাল টিকা বাংলাদেশে বেসরকারিভাবে পাওয়া যায়, আর হজযাত্রীদের যেটি নিতে হয় সেটিই। বাড়ির কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল, ভাগাভাগির মেস বা পোশাকশ্রমিকদের আবাসনে উঠতে যাচ্ছেন হলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে দেখা যেতে পারে এটি দরকার কি না—বিশেষ করে ওই প্রতিষ্ঠানে গুরুতর অসুস্থতার কোনো ঝাঁক দেখা দিয়ে থাকলে। আর প্রথম লক্ষণগুলো আসলে কেমন তা জানা থাকলেই দরকারের সময় সময়টা বাঁচে।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।