স্বাস্থ্য

ইংল্যান্ডের প্রতিটি জরুরি বিভাগের দেয়ালে একটি ফোন নম্বর, কারণ একটি পরিবারের উদ্বেগ কেউ শোনেনি

বাবা-মায়ের উদ্বেগ উড়িয়ে দেওয়ার পর ১৩ বছর বয়সে সেপসিসে মারা যায় মার্থা মিলস। তার নামের নিয়মটি রোগী ও স্বজনদের জরুরি দ্বিতীয় পর্যালোচনা চাওয়ার সুযোগ দেয়। এবার তা যাচ্ছে ইংল্যান্ডের প্রতিটি জরুরি বিভাগে।

ইংল্যান্ডের প্রতিটি জরুরি বিভাগের দেয়ালে একটি ফোন নম্বর, কারণ একটি পরিবারের উদ্বেগ কেউ শোনেনি

ইংল্যান্ডের প্রতিটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মার্থাস রুল সম্প্রসারিত করছে এনএইচএস—যাতে রোগী, স্বজন ও কর্মীরা দ্রুত দ্বিতীয় একটি পর্যালোচনা চাইতে পারেন, যখন তাঁদের মনে হয় কারও অবস্থার অবনতি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে না।

নিয়মটি এল কোথা থেকে

নামটি মার্থা মিলসের, যে ২০২১ সালে ১৩ বছর বয়সে সেপসিসে মারা যায়। তার পরিবারের তোলা উদ্বেগ কেউ শোনেনি। ২০২২ সালে করোনার রায় দেন, আগেভাগে নিবিড় পরিচর্যায় নিয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা দিলে মার্থা সম্ভবত বেঁচে যেত। তার বাবা-মা মেরোপি ও পল সেই সংস্কৃতি বদলাতে নামেন, আর তারই ফল এই নিয়ম।

কাজ করে যেভাবে

জরুরি বিভাগে থাকা রোগী, স্বজন ও কর্মীরা একটি নির্দিষ্ট ফোন নম্বরে কল করে আলাদা একটি চিকিৎসক দলের জরুরি পর্যালোচনা চাইতে পারবেন—যদি রোগীর অবস্থার অবনতি হয় আর মনে হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

সাতটি ট্রাস্টে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর এই সম্প্রসারণ; অভ্যন্তরীণ ওয়ার্ডগুলোতে এটি আগে থেকেই চালু। জরুরি বিভাগে দেশব্যাপী সম্প্রসারণ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের মার্চের মধ্যে। একই ঘোষণা নিয়ে নার্সিং টাইমস জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ৬৯টি কল থেকে জরুরি অস্ত্রোপচার বা নিবিড় পরিচর্যায় স্থানান্তর হয়েছে, আর ২০২৬ সালের জুলাইয়ে রেকর্ড ১ হাজার ৬৭৮টি কল এসেছে।

স্কটল্যান্ড মার্থাস রুল ব্যবহার শুরু করছে, উত্তর আয়ারল্যান্ড বিবেচনা করছে, আর ওয়েলসে আছে কল৪কনসার্ন নামে অনুরূপ একটি ব্যবস্থা।

যখন কাজ করে, কেন করে

কৌশলটি সূক্ষ্ম, আর তার নাম নেওয়া দরকার। এটি কর্মীদের অবনতি ধরতে আরও দক্ষ হতে বলে না। বরং হাসপাতালে মানুষ মারা যাওয়ার যে একটি ব্যর্থতা, তাকে পাশ কাটিয়ে যায়: জুনিয়র কোনো চিকিৎসকের মূল্যায়ন অচ্যালেঞ্জড থেকে যাওয়া—কারণ যিনি দ্বিমত করছেন, তিনি ভীত এক স্বজন, যাঁর কোনো অবস্থান নেই।

অথচ পরিবারই সাধারণত একমাত্র পক্ষ, যারা রোগীকে টানা দেখেছে; আর চার্টে ধরা পড়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই তারা বুঝে যায়, ‘ওকে আজ ঠিক লাগছে না’।

বাংলাদেশে এর মানে কী

বাংলাদেশের হাসপাতালে এর সমতুল্য কিছু নেই, আর সাংস্কৃতিক দূরত্বটা কার্যপদ্ধতির দূরত্বের চেয়ে বড়। এখানে চিকিৎসককে প্রশ্ন করার সামাজিক খরচ ইংল্যান্ডের চেয়ে অনেক বেশি; আর ভিড়ে ঠাসা সরকারি হাসপাতালে জেদ ধরা স্বজনকে শোনার বদলে সামলে দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

কিন্তু হস্তক্ষেপটি সত্যিই সস্তা: একটি ফোন নম্বর, তা ধরতে বাধ্য একজন দায়িত্বরত চিকিৎসক, আর লিখিত একটি নিয়ম যে কল করার জন্য কাউকে শাস্তি পেতে হবে না। ঢাকার যেকোনো বেসরকারি হাসপাতাল চেইনের নাগালেই এটি আছে আজ, আর নিয়ন্ত্রণের অপেক্ষা না করে প্রতিযোগিতামূলক মান হিসেবে গ্রহণ করার মতো জিনিস এটিই।

ইতিমধ্যে পরিবারের হাতে ছোট একটি পদক্ষেপও আছে, যা জেনে রাখা ভালো। এসকেলেশন আদায় করে নির্দিষ্টতা। ‘ওর অবস্থা খারাপ’ বললে আশ্বাস আসে; ‘এক ঘণ্টায় শ্বাসের হার ২০ থেকে ৩২ হয়েছে, সকাল থেকে প্রস্রাব হয়নি, আর ও বুঝতে পারছে না কোথায় আছে’—এটি একটি ক্লিনিক্যাল হস্তান্তর, আর এটি উড়িয়ে দেওয়া অনেক কঠিন। সংখ্যাগুলো লিখে রাখুন, সময় টুকে রাখুন, আর সরাসরি সিনিয়র চিকিৎসকের পর্যালোচনা চান—মার্থাস রুল যে অনুরোধটিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে, সেটি করার অধিকার আপনার এমনিতেও আছে।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।