সতর্কতা: এই প্রতিবেদনে অস্ত্রোপচারের জটিলতার বর্ণনা আছে।
সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও দেখে ব্লেফারোপ্লাস্টি করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিকিতা মরগান—চোখের ঠিক ওপরের চামড়া সরিয়ে ফেলার অস্ত্রোপচার, চলতি ভাষায় ‘ব্লেফ’। স্থানীয় অবেদন দেওয়ার পরও তিনি তীব্র ব্যথা পেয়েছেন।
তাঁর ভাষায়, "সবাই এমনভাবে বলেছিল যেন খুব সহজ, কিন্তু মনে হচ্ছিল মুখে আগুন ধরে গেছে আর চামড়া পোড়ার বিচ্ছিরি গন্ধ আসছিল।"
শল্যচিকিৎসকেরা যা দেখছেন
চোখের চারপাশের অস্ত্রোপচারে বিশেষজ্ঞ অকুলোপ্লাস্টিক শল্যচিকিৎসকেরা বিবিসিকে বলেছেন, সাধারণত বিদেশে করা সস্তা ব্লেফ অস্ত্রোপচারের পর উদ্বেগজনক সংখ্যক রোগী সমস্যার কথা জানাচ্ছেন।
তাঁদের বর্ণনা করা জটিলতাগুলো গুরুতর: খোলা ক্ষত, আর এমন চোখের পাতা যা বন্ধ হয় না। বন্ধ না হওয়া চোখের পাতা প্রসাধনগত সমস্যা নয়। চোখের উপরিভাগ ঢাকা ও সিক্ত থাকার ওপর নির্ভর করে; উন্মুক্ত থাকলে তা শুকিয়ে যায়, ঘা হয়, দাগ পড়তে পারে—আর ঝুঁকিতে পড়ে দৃষ্টিই।
মুখ টানটান, মসৃণ ও উঁচু করার বড় একটি প্রবণতার অংশ হিসেবেই চাহিদা বেড়েছে। যুক্তরাজ্যে এই অস্ত্রোপচারে সাধারণত হাজার হাজার পাউন্ড লাগে—আর সেটিই মানুষকে বিদেশে ঠেলে দেয়। শল্যচিকিৎসকেরা বলছেন, জটিলতার সূত্র মিলেছে ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার ক্লিনিকগুলোতে; আর গোলমাল হলে পরবর্তী সেবার অভাবে বোঝা গিয়ে পড়ে এনএইচএসের ওপর।
কাঠামোগত সমস্যাটি
বিদেশে করা কসমেটিক সার্জারিকে অন্য অস্ত্রোপচার থেকে আলাদা করে যে জিনিসটি, তা শল্যচিকিৎসকের দক্ষতা নয়—তা চমৎকারও হতে পারে। আলাদা করে ব্যবসার ধরনটি: এখানে বিক্রি হয় অস্ত্রোপচার, ফলো-আপ নয়। চোখের পাতার অস্ত্রোপচারের জটিলতা সাধারণত দেখা দেয় দিন ও সপ্তাহ পেরিয়ে—রোগী তখন উড়ে দেশে ফিরে গেছেন, আর যিনি অস্ত্রোপচার করেছেন তাঁর নাগালের বাইরে।
বাংলাদেশে এর মানে কী
বাংলাদেশ এই বিষয়ের দুই দিকেই আছে। বাংলাদেশিরা কসমেটিক প্রক্রিয়ার জন্য যান ভারত, থাইল্যান্ড ও তুরস্কে; আবার ঢাকাতেও দ্রুত বাড়ছে অ্যাসথেটিক ক্লিনিকের খাত, যারা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে জোরেশোরে বিজ্ঞাপন দেয়—একই প্রক্রিয়া, একই আগে-পরের রিল।
মুখে কোনো প্রক্রিয়া করানোর আগে—দেশে হোক বা বিদেশে—তিনটি প্রশ্ন করার মতো, আর এগুলোই ক্লিনিক আর দোকানের পার্থক্য বুঝিয়ে দেয়। ঠিক কে অস্ত্রোপচার করছেন, আর তাঁর নিবন্ধন কী? বাংলাদেশে এর মানে যাচাই করা যায় এমন বিএমডিসি নিবন্ধন, আর সপ্তাহান্তের কোর্স নয়—অকুলোপ্লাস্টিক বা প্লাস্টিক সার্জারিতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ। তৃতীয় দিন, দশম দিন আর ষষ্ঠ সপ্তাহে কী হবে? যে দামে ফলো-আপ নেই, তা অস্ত্রোপচারের দাম নয়। জটিলতা হলে কে, কোথায় চিকিৎসা দেবেন? উত্তরে যদি উড়োজাহাজ থাকে, তবে উত্তর নেই।
বড় কথাটি হলো—চোখের পাতার অস্ত্রোপচার আকারে ছোট, পরিণামে নয়। ভুলের সীমা কয়েক মিলিমিটার চামড়া, আর বেশি কেটে ফেললে তা আর ফেরানো যায় না। কোনো প্রক্রিয়া দ্রুত ও সস্তা হওয়া তার ফেরানো যায় কি না সে বিষয়ে কিছুই বলে না।




