কভেন্ট্রির তিন সন্তানের মা, ৪৭ বছর বয়সী লিসা ক্যারল ২০২১ সালের আগস্টে পারিবারিক ছুটি থেকে ব্যথা নিয়ে ফেরার পর ভেবেছিলেন সাধারণ কিছু—হয়তো আইবিএস, কিংবা কিডনির সংক্রমণ।
তাঁর কথায়, "ভেবেছিলাম হয়তো একটু আইবিএস বা কিডনির সমস্যা, এ রকম কিছু। বেশ ব্যথা হচ্ছিল।"
আসলে সেটি ছিল মিউসিনাস ওভারিয়ান ক্যানসার (এমওসি)—যুক্তরাজ্যে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের বিরলতম ধরনগুলোর একটি।
এরপর যা হলো
এনএইচএস ১১১-এ ফোন করার পর তাঁকে কভেন্ট্রির হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে ডান ডিম্বাশয়ে ১২ সেন্টিমিটারের একটি সিস্ট ধরা পড়ে। তাঁকে বলা হয়, এটি খুব একটা আশঙ্কাজনক মনে হচ্ছে না; অস্ত্রোপচারের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয় তাঁকে।
তাঁর ভাষায়, "এক মাসের মধ্যেই মুঠোর সমান সিস্টটি এমন হলো যে পেটে ফুটবলের মতো টের পাচ্ছিলাম।" তিনি বলেন, "ব্যথা ও অস্বস্তি বাড়তে থাকে, আর মানসিক-শারীরিকভাবে ভেঙে পড়ি।"
এখন তিনি অন্য নারীদের অনুরোধ করছেন, নিজেদের উপসর্গ যেন উড়িয়ে না দেন।
ডিম্বাশয়ের ক্যানসার এত ধরা পড়ে না কেন
এই ছক বারবার ফিরে আসার কারণ আছে, আর তা অসাবধানতা নয়। ডিম্বাশয়ের উপসর্গগুলো সত্যিই সাধারণ সমস্যার থেকে আলাদা করা যায় না: পেট ফাঁপা, তলপেট বা শ্রোণিতে ব্যথা, অল্প খেয়েই পেট ভরে যাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব, মলত্যাগের অভ্যাস বদলে যাওয়া। এর প্রতিটিই ক্যানসারের চেয়ে বহু গুণ বেশিবার আইবিএস—আর এমন প্রত্যেক রোগীকে ইমেজিংয়ে পাঠালে চিকিৎসক বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভুল করতেন।
দুটিকে আলাদা করে স্থায়িত্ব ও পরিবর্তন। আইবিএস ওঠানামা করে আর সাধারণত বছরের পর বছর থাকে। ডিম্বাশয়ের উপসর্গ সাধারণত নতুন, বেশির ভাগ দিনেই থাকে, আর চলতেই থাকে। চিকিৎসকেরা মোটামুটি যে নিয়ম মানেন: নতুন, ঘন ঘন—মাসে ১২ বারের বেশি—এবং তিন সপ্তাহ বা তার বেশি স্থায়ী হলে পরীক্ষা করানো দরকার।
বাংলাদেশে এর মানে কী
বাংলাদেশে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের কোনো স্ক্রিনিং কর্মসূচি নেই; আর পৃথিবীর কোথাওই এমন কোনো স্ক্রিনিং পরীক্ষা নেই যা কর্মসূচি চালুর মতো যথেষ্ট ভালো—ফলে উপসর্গ সম্পর্কে সচেতনতাই পুরো প্রতিরক্ষা।
এখানকার বাধাটি নির্দিষ্ট, আর তার নাম নেওয়া দরকার। মধ্যবয়সী নারীর পেট ফুলে থাকা বা ফাঁপা বাংলাদেশের বহু পরিবারে চিকিৎসার বিষয় বলেই গণ্য হয় না। এর দায় চাপানো হয় ওজনে, বয়সে, সন্তান হওয়ায়, গ্যাসে। স্ত্রীরোগ-সংক্রান্ত যেকোনো কিছুতে নারীরা দেরিতে চিকিৎসকের কাছে যান, আর গ্রামের নারীরা আরও দেরিতে।
ব্যবহারিক রূপটি এমন একটি নিয়ম, যা চিকিৎসক ছাড়াই যেকোনো পরিবার মানতে পারে: যে পেট ফাঁপা আসে-যায় না, তা গ্যাস নয়। কোনো নারীর পেট যদি টানা ফুলে থাকে, দু-তিন গ্রাস খেয়েই যদি পেট ভরে যায়, আর তিন সপ্তাহ ধরে বেশির ভাগ দিনই যদি এমন চলে, তবে সেটি আলট্রাসনোগ্রাম ও সিএ-১২৫ রক্ত পরীক্ষার কারণ—দুটিই বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা শহরে পাওয়া যায় ও সাধ্যের মধ্যে, আর কোনোটির জন্যই রেফারেল লাগে না।
শেষ কথাটি লিসা ক্যারলের, কারণ তা স্বাস্থ্যব্যবস্থা নির্বিশেষে খাটে: তাঁকে বলা হয়েছিল খুব একটা আশঙ্কাজনক মনে হচ্ছে না, আর এক মাস পর সেটি ফুটবলের আকার। অপেক্ষা করতে করতে উপসর্গ যদি খারাপ হতে থাকে, সেটি নতুন তথ্য—আর তা নিয়ে আবার যাওয়া উচিত।




