স্লিপ স্কোর, ম্যাগনেসিয়াম, হোয়াইট নয়েজ মেশিন, মুখে টেপ। বিছানায় যাওয়ার সহজ কাজটি এখন হয়ে উঠেছে উন্নত করার এক গোলকধাঁধা, আর চর্চাটির নামও আছে: স্লিপম্যাক্সিং।
শেষ মাথায় যে অবস্থা
যথেষ্ট দূর নিয়ে গেলে এর থেকে যা তৈরি হয়, চিকিৎসকদের কাছে তার নাম আছে—অর্থোসমনিয়া, নিখুঁত ঘুম পাওয়ার আচ্ছন্নতা। যুক্তরাজ্যে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত কোনো রোগ নয়। তবে চিকিৎসকেরা বিবিসিকে বলেছেন, রোগীদের মধ্যে এর লক্ষণ তাঁরা দেখছেন; কেউ কেউ ঘুমের ট্র্যাকারের তথ্য নিয়ে আসছেন এই নিশ্চয়তা নিয়ে যে তাঁদের ঘুমের রোগ আছে—যা আসলে নেই।
ওই চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, এই আচ্ছন্নতাই মানুষের ঘুম আরও খারাপ করছে।
উল্টো ফল দেয় কেন
কৌশলটি রহস্যময় নয়, আর তা জানা থাকলে কাজে লাগে। ঘুম শরীরের সেই গুটিকয় প্রক্রিয়ার একটি, যা চেষ্টা দিয়ে আদায় করা যায় না—ইচ্ছে করে ঢোক গেলার মতো, কিংবা কোনো কিছু নিয়ে না ভাবার মতো। বেশি চেষ্টা করলে ঠিক সেই সজাগ ভাবটিই জেগে ওঠে, যা ঘুম আটকায়।
ট্র্যাকার এর ওপর দ্বিতীয় একটি সমস্যা যোগ করে। ভোগ্যপণ্যের যন্ত্রগুলো নড়াচড়া আর হৃৎস্পন্দন থেকে ঘুমের ধাপ আন্দাজ করে; আপনি কত সময় বিছানায় ছিলেন তা মোটামুটি বলতে পারে, আর গভীর ঘুম কতটা হলো তা বলতে পারে খারাপভাবে। ঘুম নিয়ে উদ্বিগ্ন কাউকে প্রতি সকালে দেওয়া একটি ভুল সংখ্যা নিজেই উদ্বেগের উৎস হয়ে ওঠে—আর ঘুমের আগে উদ্বেগই না ঘুমানোর সবচেয়ে প্রমাণিত কারণ।
যেসব সাদামাটা জিনিস আসলে কাজ করে, সেগুলো জানা ও একঘেয়ে: ঘুম থেকে ওঠার সময় এক রাখা, সকালে দিনের আলো, দীর্ঘ ভাতঘুম না দেওয়া, ঠান্ডা অন্ধকার ঘর, আর অনেকক্ষণ জেগে শুয়ে থাকলে বিছানা ছেড়ে ওঠা।
বাংলাদেশে এর মানে কী
ভোগ্যসংস্কৃতি হিসেবে স্লিপম্যাক্সিং এ দেশে বড় পরিসরে আসেনি—যন্ত্রগুলো দামি, আর সাপ্লিমেন্টের বাজার অন্য দিকে। কিন্তু মূল সমস্যাটি ঠিকই এসেছে, আর আরও কঠিন রূপে।
ঢাকা এমন এক শহর, যা ঘুমের বিরুদ্ধে বানানো। রাতের বেশির ভাগ সময় যান চলাচলের শব্দ, ভোরে শুরু হওয়া নির্মাণকাজ, লোডশেডিংয়ে ৩০ ডিগ্রির ঘরে ফ্যান বন্ধ, আর বিপুলসংখ্যক পরিবারে এক ঘরে কয়েকজনের ঘুম—যেখানে অন্ধকার, নিরিবিলি, ঠান্ডা জায়গার প্রশ্নই ওঠে না। এই পরিস্থিতিতে ব্যক্তির অভ্যাসকে দোষ দেওয়া প্রায় অর্থহীন।
যা হাতে আছে, তা সংকীর্ণ কিন্তু করার মতো। ওঠার সময় এক রাখা সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার, আর খরচ শূন্য—শরীর কখন শুতে গেলেন তার চেয়ে অনেক বেশি ধরে কখন উঠলেন তার ওপর। সকালের আলো, বারান্দায় দশ মিনিট হলেও, যেকোনো সাপ্লিমেন্টের চেয়ে বেশি কাজে দেয়। আর ঘর যদি ঠান্ডা বা নিরিবিলি করা না যায়, বাস্তব লক্ষ্য হলো যে ঘণ্টাগুলো পাচ্ছেন সেগুলো রক্ষা করা—যেগুলো পাচ্ছেন না, সেগুলো যোগ করার চেষ্টা নয়।
ব্রিটিশ গল্পটি থেকে সত্যিই কাজের আমদানিটি সতর্কবার্তা: ট্র্যাকার কিনলে তার সংখ্যাগুলোকে মোটা দাগের ডায়েরি ভাবুন, রোগনির্ণয় নয়। যেদিন আপনার ভালো লাগছে, সেদিন সকালে যন্ত্র যদি বলে আপনি খারাপ ঘুমিয়েছেন—সেই তথ্য উপেক্ষা করার অধিকার আপনার আছে।




