স্বাস্থ্য

মস্তিষ্কের টিউমার শনাক্তে লাগত আট সপ্তাহ পর্যন্ত, এনএইচএসের নতুন পরীক্ষা করছে দুই ঘণ্টায়—অস্ত্রোপচারের মধ্যেই

অস্ত্রোপচার চলার মধ্যেই টিউমারের জিনগত সংকেত পড়ে ফেলে পরীক্ষাটি, ফলে শেষ করার আগেই শল্যচিকিৎসকেরা জেনে যান কীসের মুখোমুখি। এক রোগী ফল পেয়েছেন অপারেশন টেবিলেই।

মস্তিষ্কের টিউমার শনাক্তে লাগত আট সপ্তাহ পর্যন্ত, এনএইচএসের নতুন পরীক্ষা করছে দুই ঘণ্টায়—অস্ত্রোপচারের মধ্যেই

এনএইচএসে চালু হওয়া নতুন একটি পরীক্ষা মস্তিষ্কের টিউমার নিখুঁতভাবে শনাক্ত করার সময় আট সপ্তাহ পর্যন্ত থেকে কমিয়ে দুই ঘণ্টায় আনতে পারে—আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে উত্তর দিতে পারে রোগী তখনো অপারেশন টেবিলে থাকা অবস্থাতেই।

কাজ করে যেভাবে

বায়োপসি বা অস্ত্রোপচারের সময় নেওয়া টিউমারের ছোট একটি নমুনার জিনগত সংকেত পড়ে পরীক্ষাটি ঠিক করে, এটি কোন ধরনের টিউমার। মস্তিষ্কের টিউমারের ধরন প্রায় ১৫০টি—ধীরে বাড়া থেকে আগ্রাসী ক্যানসার পর্যন্ত—আর প্রত্যেকটি চিকিৎসায় ভিন্নভাবে সাড়া দিতে পারে; অর্থাৎ ধরনটিই পুরো পরিকল্পনা ঠিক করে দেয়।

এনএইচএস ইংল্যান্ড জানিয়েছে, জিনোমিক পরীক্ষাটি বিশেষায়িত কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে। একই কর্মসূচি নিয়ে মেডস্কেপ ও বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রযুক্তিটির আরও বিবরণ দিয়েছে: এটি তৈরি হয়েছে নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় ও নটিংহাম ইউনিভার্সিটি হসপিটালসে, ব্যবহার করে বহনযোগ্য অক্সফোর্ড ন্যানোপোর সিকোয়েন্সিং ও বিশেষ সফটওয়্যার, আর চালু হচ্ছে বার্মিংহাম, গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট, কিংস কলেজ হাসপাতাল ও নিউক্যাসলসহ পাঁচটি বিশেষায়িত কেন্দ্রে। তাদের হিসাবে, চূড়ান্ত রোগনির্ণয়ে এখন গড়ে লাগে ২৬ দিন।

রোগীর জন্য কী বদলায়

নটিংহামের ৫৫ বছর বয়সী স্টিভ পামারের রোগ ধরা পড়ে জিমে অজ্ঞান হয়ে পড়ার পর। পরীক্ষায় বেরোয় গ্রেড ৪ গ্লিওব্লাস্টোমা, আর ফলটি শল্যচিকিৎসকদের কাছে পৌঁছায় অস্ত্রোপচার চলার মধ্যেই।

তিনি বিবিসিকে বলেন, "দ্রুত রোগনির্ণয় হওয়ায় কয়েক সপ্তাহের উৎকণ্ঠা দূর হয়ে গেল।"

আবেগের দিকটি সত্যি হলেও ক্লিনিক্যাল লাভটি আরও বড়। অস্ত্রোপচারের সময়েই টিউমারের ধরন জানা থাকলে শল্যচিকিৎসক ঠিক করতে পারেন কতটা সরাবেন—সুস্থ মস্তিষ্কের টিস্যু ক্ষতির ঝুঁকির বিপরীতে কতটা আগ্রাসী হবেন। এই সিদ্ধান্ত পরে আর বদলানো যায় না। দ্রুত রোগনির্ণয়ের অর্থ রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপি আগেই শুরু করা যায়, যা আগ্রাসী টিউমারের ক্ষেত্রে সুবিধা নয়—ফলাফলের হিসাব।

বাংলাদেশে এর মানে কী

শিরোনামটি এখানে খাটে না—বাংলাদেশের কোনো হাসপাতাল অস্ত্রোপচারের মধ্যে টিউমার সিকোয়েন্স করতে যাচ্ছে না। কিন্তু যে উপাদানটি এটি সম্ভব করেছে, তা খাটে; আর কেন খাটে তা বোঝা দরকার।

এটি সম্ভব হয়েছে কারণ সিকোয়েন্সিং বহনযোগ্য ও সস্তা হয়ে গেছে। এখানে ব্যবহৃত অক্সফোর্ড ন্যানোপোর যন্ত্রগুলো এতই ছোট যে অপারেশন থিয়েটারেই রাখা যায়, আর দাম প্রচলিত সিকোয়েন্সারের ভগ্নাংশ। এই একই বদলের কারণেই মহামারির সময় জাতীয় জিনোমিকস কেন্দ্র ছাড়াই বাংলাদেশের ল্যাবগুলো সার্স-কোভ-২ সিকোয়েন্স করতে পেরেছিল।

এ দেশে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য অপারেশন থিয়েটার নয়, হিস্টোপ্যাথলজির জট। বাংলাদেশে রোগনির্ণয় ধীর একটি সাদামাটা কারণে: প্যাথলজিস্ট খুব কম, তাঁরা ঢাকা ও চট্টগ্রামে কেন্দ্রীভূত, আর নমুনাকে পথ পাড়ি দিতে হয়। জেলার একজন রোগীকে এমন একটি রিপোর্টের জন্য সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়, যা তাঁর পুরো চিকিৎসা ঠিক করে দেয়—এনএইচএস একটি টিউমারের ক্ষেত্রে যে আট সপ্তাহের সমস্যা এইমাত্র মেটাল, সেটিই; তবে এখানে কারণ ভিন্ন, আর সমাধানও ভিন্ন লাগবে।

ফলে এখানে কাজের প্রশ্নটি ‘এই পরীক্ষা আমরা কবে পাব’ নয়, বরং ‘আমাদের সপ্তাহগুলো ঠিক কোথায় যায়’। এর উত্তর এখনই মেলে—জেলা হাসপাতাল থেকে রিপোর্ট পর্যন্ত একটি নমুনার পথটুকুর সময় মেপে দেখতে রাজি যে কারও পক্ষেই; আর কোনো প্রযুক্তি কাজে আসার আগে এই ধাপটিই দরকারি।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।