স্বাস্থ্য

কেটামিনে ১৩ বছরের শিশুদেরও মূত্রথলি নষ্ট হচ্ছে, প্রথম এনএইচএস ক্লিনিকে রেফারেল একশ ছাড়াল

অ্যাল্ডার হে-র চিকিৎসকেরা বলছেন, রোগীরা বর্ণনা করেন "জেলিফিশ প্রস্রাব"—মূত্রথলির সুরক্ষাস্তর খসে পড়া। দীর্ঘ ক্ষতিতে প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা বা কিডনি বিকল হতে পারে। রোগীদের গড় বয়স ১৪।

কেটামিনে ১৩ বছরের শিশুদেরও মূত্রথলি নষ্ট হচ্ছে, প্রথম এনএইচএস ক্লিনিকে রেফারেল একশ ছাড়াল

কেটামিনজনিত মূত্রথলির ক্ষতির জন্য চালু হওয়া প্রথম এনএইচএস ক্লিনিকের চিকিৎসকেরা বলছেন, তাঁরা ১৩ বছর বয়সী শিশুদেরও চিকিৎসা করছেন। লিভারপুলের অ্যাল্ডার হে চিলড্রেনস হাসপাতালের ওই ক্লিনিকে চালু হওয়ার পর থেকে রেফারেল এসেছে একশর বেশি।

মূত্রথলির যা ক্ষতি করে

চিকিৎসাবিজ্ঞানের নাম কেটামিন-ইনডিউসড ইউরোপ্যাথি। বাস্তবে এর অর্থ, মূত্রথলির সুরক্ষাকারী আবরণ নষ্ট হয়ে খসে পড়া। ক্লিনিকের চিকিৎসকেরা বিবিসিকে বলেছেন, কোনো কোনো রোগী বর্ণনা করেন "জেলিফিশ প্রস্রাব"—ওই আবরণের টুকরো বেরিয়ে আসা।

দীর্ঘ ক্ষতিতে প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা, আর গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনি বিকল হতে পারে। একই ক্লিনিকের তথ্য নিয়ে আইটিভি নিউজ ও বিএমজে লিখেছে, উপসর্গের মধ্যে আছে ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা ও প্রস্রাবে রক্ত; ক্ষতি ছড়ায় মূত্রনালি ও কিডনি পর্যন্ত।

ক্লিনিকে আসা অনেক শিশু এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে কেটামিন নিচ্ছিল—অর্থাৎ কেউ কেউ শুরু করেছে ১২ বা তারও কম বয়সে। প্রথম ৬০ জন রোগীর বিশ্লেষণে গড় বয়স ১৪, আর বেশির ভাগই মেয়ে এবং সুবিধাবঞ্চিত এলাকার।

তারা কেন নিচ্ছে

সাড়া দিতে চাওয়া যে কারও জন্য এই অংশটিই গুরুত্বপূর্ণ। এই শিশুদের কেউ কেউ মানসিক আঘাতের কথা বলে, আর জানায় কেটামিন তাদের মস্তিষ্ককে "চুপ" করিয়ে দিতে সাহায্য করে। ওষুধটি একটি জেনারেল অ্যানেসথেটিক: এটি শরীরের অনুভূতি ভোঁতা করে দেয়—আর ঠিক সেটিই খোঁজা হচ্ছে।

বিবিসির ভাষায়, এটি বিক্রি হয় হাতখরচের দামে। যে মাদক সস্তা, যা যন্ত্রণা অবশ করে, আর যার ক্ষতি ধরা পড়তে এক বছর লাগে—কিশোরের জন্য এর চেয়ে খারাপ সমন্বয় কমই হয়।

বাংলাদেশে এর মানে কী

বাংলাদেশে কেটামিন শিরোনামের মাদক নয়; এখানে আলোচনায় ইয়াবা, আর ক্রমে গাঁজা ও প্রেসক্রিপশন ওপিওয়েড। তবু তিনটি কারণে এটিকে ব্রিটিশ সমস্যা বলে সরিয়ে না রেখে পড়া দরকার।

প্রথমত, কেটামিন একটি হাসপাতালের অ্যানেসথেটিক, ব্যাপকভাবে মজুত থাকে; আর যেসব দেশে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেখানে তরুণদের কাছে এটি পৌঁছায় চিকিৎসা-সরবরাহ থেকে সরে গিয়েই। বাংলাদেশে ওষুধের দোকানের নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট দুর্বল, ফলে এই পথটি খোলা।

দ্বিতীয়ত, প্রথম উপসর্গ মূত্রতন্ত্রের, মানসিক নয়। ঢাকায় ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা বা প্রস্রাবে রক্ত নিয়ে আসা ১৫ বছরের কিশোরের ক্ষেত্রে সংক্রমণ বা পাথরের পরীক্ষা হবে, আর মাদকের ইতিহাস জিজ্ঞেস করা হবে না। ক্ষতিটি শুরুতে সারানো যায়, দেরিতে স্থায়ী—তাই প্রশ্নটি করতেই হবে।

তৃতীয়ত, এই শিশুরা যে কারণ বলে—মস্তিষ্ক চুপ করে যায়—তা আসলে চিকিৎসাহীন মানসিক যন্ত্রণার স্ব-ওষুধ; আর বাংলাদেশে কিশোর মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ভয়াবহ ঘাটতি। সস্তা কোনো অবশকারী যেখানে যন্ত্রণা নিয়ে যাওয়ার জায়গা না পাওয়া কিশোরের সঙ্গে মেলে, সেখানেই এই ছক দেখা দেয়। আগেভাগে ঠেকানোর জায়গা এটিই, আর তার জন্য আগে মাদকের সমস্যা তৈরি হওয়ার দরকার নেই।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।