ক্যালিফোর্নিয়ায় ওপেনএআইয়ের একটি কার্যালয়ে গোপনে রেকর্ডিং যন্ত্র বসানোর অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করা এক সৌদি নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন মার্কিন কৌঁসুলিরা।
২০২৫ সালের জুলাই থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত প্রকৌশলী আবদুলরহমান আলফোজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মৌখিক যোগাযোগ আড়ি পাততে যন্ত্র ব্যবহার করেছেন বা করার চেষ্টা করেছেন। ওপেনএআই বলছে, তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
কোথায় ছিল, আর কীভাবে ধরা পড়ল
সান ফ্রান্সিসকোর কার্যালয়ের নির্বাহী সভাকক্ষে টেলিভিশনের পেছনের একটি ইউএসবি পোর্টে টয়লেট পেপারে মোড়ানো অবস্থায় যন্ত্রটি ঢোকানো ছিল। এটি ছিল এনক্রিপ্ট করা।
কৌঁসুলিরা বলছেন, যন্ত্রটি বসানো হয় ২৮ সেপ্টেম্বর, আর কর্মীরা সেটি খুঁজে পান দুদিন পর ৩০ সেপ্টেম্বর। ৫ অক্টোবর অভিযুক্ত ব্যক্তি সেটি দেখতে ফিরে এসেছিলেন বলে অভিযোগ, যা কৌঁসুলিদের প্রকাশ করা সিসিটিভি ছবিতে দেখা যায় বলে জানানো হয়েছে।
ওপেনএআই বলছে, তারা এফবিআইকে জানিয়েছে, আর নিজেদের এআই মডেল ব্যবহার করেছে ‘যন্ত্রটি ও সেটি কোথা থেকে এসেছে তা বুঝতে, এবং শনাক্ত করতে যে কয়েক দিন আগে নির্দিষ্ট একজন কর্মী সেটি বসিয়েছিলেন’।
যে খুঁটিনাটি এটিকে অন্য ধরনের খবর বানায়
এফবিআইয়ের ভাষ্যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওপেনএআইয়ের ভেতরের স্পর্শকাতর জায়গা আর গোপনে অডিও যন্ত্র বসানোর উপায় খুঁজতে ব্যবহার করেছেন একটি ‘প্রোডাক্টিভিটি টুল’ ও একটি ‘চ্যাটবট’।
কৌঁসুলিরা অভিযুক্ত প্রম্পটগুলোর তালিকা দিয়েছেন: যন্ত্র বানানো, নিজের মতো সাজানো, বসানো, পরীক্ষা করা, আড়াল করা আর দূর থেকে ব্যবহার করা। এর মধ্যে আছে ‘নিরবচ্ছিন্ন অডিও রেকর্ডার বানানো’, ‘ওয়াই-ফাই সংযোগ নিজের মতো সাজানো’, ‘অডিও ও সরাসরি শোনার মান উন্নত করা’ আর ‘এসডি কার্ড এনক্রিপ্ট করা’র সহায়তা চাওয়া।
অর্থাৎ প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, একটি এআই সহকারী কাজটি পরিকল্পনায় সাহায্য করেছে আর এআই মডেলই সেটি উন্মোচনে সাহায্য করেছে—একই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেছেন, উদ্দেশ্য ছিল ওপেনএআইয়ের এআই পণ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ।
ওপেনএআই বলছে, সোর্স কোড, মডেল ওয়েট বা গ্রাহকের তথ্যে অনুচিতভাবে প্রবেশ বা সেগুলো নেওয়ার কোনো ইঙ্গিত তারা পায়নি।
বাংলাদেশে এর মানে কী
এই ঘটনার জৌলুসপূর্ণ পাঠটি হলো সর্বাধুনিক এআই গবেষণাগারে করপোরেট গুপ্তচরবৃত্তি। কাজের পাঠটি নিরস, আর সেটি সরাসরি প্রযোজ্য: আক্রমণটি ছিল ভৌত, প্রবেশাধিকার ছিল বৈধ, আর যন্ত্রটির দাম সামান্য।
বাংলাদেশের কার্যালয়ে নিরাপত্তার বেশির ভাগ খরচ যায় নেটওয়ার্কে—ফায়ারওয়াল, অ্যান্টিভাইরাস, ভিপিএন। প্রায় কিছুই যায় না এই মামলার মূল প্রশ্নে: সভাকক্ষে টেলিভিশনের সঙ্গে একা কে থাকতে পারেন। সভাকক্ষের পর্দার পেছনের ইউএসবি পোর্ট কোথাওই নজরদারিতে থাকে না, আর যে কর্মীর ওই কক্ষে ঢোকার অধিকার আছে তিনি ঢুকলে কোনো সতর্কবার্তাই বাজে না।
এ থেকে দুটি বিষয় আসে, যেগুলো নিতে কোনো খরচ নেই। যেসব কক্ষে বাণিজ্যিকভাবে স্পর্শকাতর আলোচনা হয়, সেখানকার পোর্ট ও তার নির্দিষ্ট সময় পরপর যাচাই করা দরকার—এমন কাউকে দিয়ে, যিনি জানেন ওখানে কী থাকার কথা; এই যন্ত্রটি ধরেছে কর্মীরা, কোনো ব্যবস্থা নয়। আর কর্মী বিদায়ের প্রক্রিয়ায় কেবল অ্যাকাউন্ট নয়, ভৌত প্রবেশাধিকারও থাকা দরকার: এ দেশে সাধারণ ব্যর্থতাটি হলো পদত্যাগ করা কর্মীর ই-মেইল বন্ধ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর তাঁর অফিসের চাবি আর ভবনের পাস ফেরত নেওয়া।
একই সমস্যার উল্টো দিকটি—যেখানে আক্রমণকারী দূরে বসে ঊর্ধ্বতন কারও ছদ্মবেশ ধরেন—আছে অ্যানথ্রপিকের নির্বাহীর ছদ্মবেশ নিয়ে লেখাটিতে।
যে প্রশ্নটি এখনো খোলা
অভিযোগপত্র যা বলে না, সেটিই এই ঘটনার সবচেয়ে আগ্রহজাগানো অংশ: চ্যাটবটটি কেন সাহায্য করল?
অভিযোগ অনুযায়ী প্রম্পটগুলো ছিল নিরবচ্ছিন্ন অডিও রেকর্ডার বানানো, ওয়াই-ফাই সংযোগ সাজানো, সরাসরি শোনার মান বাড়ানো আর এসডি কার্ড এনক্রিপ্ট করা নিয়ে। আলাদা করে দেখলে এর একটিও অবৈধ নয়—এগুলো ইলেকট্রনিকসের শৌখিন কাজের সাধারণ প্রশ্ন, আর যেকোনো সহকারীই এর উত্তর দেবে।
ক্ষতিকর উদ্দেশ্যটি ছিল প্রশ্নগুলোর ক্রমে, কোনো একটিতে নয়। এটিই এআই নিরাপত্তার কঠিনতম সমস্যাগুলোর একটি: ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্য বোঝা যায় কেবল পুরো আলাপের ধরন দেখে, অথচ প্রতিটি প্রশ্নকে আলাদা করে দেখলে সবই নিরীহ। প্রতিষ্ঠানগুলো যখন বলে তাদের মডেল ‘ক্ষতিকর অনুরোধ’ ফিরিয়ে দেয়, তারা একটিমাত্র বার্তার কথা বলে—ধারাবাহিক আলাপের নয়। এই মামলা সেই ফাঁকটিরই একটি বাস্তব উদাহরণ।
সূত্র: বিবিসি নিউজ, ফেডারেল অভিযোগপত্র এবং ওপেনএআই ও এফবিআইয়ের বক্তব্যের ভিত্তিতে।




