সিভি লিখতে এআই ব্যবহার এখন বড় নিয়োগদাতারা মোটামুটি মেনে নিচ্ছেন। ভিডিও সাক্ষাৎকারের সময় সরাসরি ব্যবহার করা মেনে নিচ্ছেন না। আগ্রহের বিষয় হলো, এই দুই বিন্দুর মাঝে কতটা জায়গা পড়ে আছে, আর তা কত দ্রুত সরছে।
জরিপটি
এই গ্রীষ্মে ইনস্টিটিউট অব স্টুডেন্ট এমপ্লয়ার্স (আইএসই) জরিপ করেছে যুক্তরাজ্যের ১৫৫টি বড় স্নাতক-নিয়োগদাতার ওপর। তাঁরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার কিছু ধাপে প্রার্থীদের এআই ব্যবহার আগের চেয়ে ‘বেশি মেনে নিচ্ছেন’—সবচেয়ে বেশি কাভার লেটার ও সিভি লেখায়, এরপর অনলাইন আবেদনের প্রশ্নের উত্তরে।
একই সঙ্গে ৯২ শতাংশ বলেছেন, বাছাইয়ে তাঁরা এআই ‘অসদাচরণ’ দেখেছেন বা সন্দেহ করেছেন—গত বছর যা ছিল ৮৫ শতাংশ। সবচেয়ে সাধারণ রূপ: অনলাইন ভিডিও সাক্ষাৎকারের সময় এআইকে তাৎক্ষণিক সহকারী হিসেবে ব্যবহার, আর অনলাইন মূল্যায়ন সম্পন্ন করা।
প্রার্থীর যুক্তি
মেইডস্টোনের ২২ বছরের টম ভূগোলে স্নাতক করে ২০০-র বেশি চাকরিতে আবেদন করার পর গত মাসে রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ পেয়েছেন। প্রক্রিয়াটিকে তিনি বলছেন ‘ক্লান্তিকর’ ও ‘হতোদ্যম করা’—নিয়োগদাতারা প্রায়ই কোনো উত্তরই দেননি।
‘নিয়োগদাতারা চান আপনি আবেদনে আপনার সর্বোচ্চটা দিন, কিন্তু আমি যদি দিনে ১০ থেকে ২০টি চাকরিতে আবেদন করি, বাস্তবে সেটা সম্ভব নয়।’
তিনি এআই ব্যবহার করেছেন কাভার লেটার, সিভি আর প্রাথমিক বাছাই যেসব ‘বাজওয়ার্ড’ খোঁজে তা বের করতে—মূল্যায়ন বা সাক্ষাৎকারে নয়। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরা প্রার্থী বাছাইয়ে এআই ব্যবহার করে অথচ প্রার্থীদের নিষেধ করে, একে তিনি বলছেন ‘ভণ্ডামি’:
‘এখানেই মনে হয় অদ্ভুত এক দড়ির ওপর হাঁটছি। বেশি এআই ব্যবহার করা যাবে না, নইলে আপনি মানুষ নন। আবার এআইয়ের মতো করে না লিখলে এআই বাছাইয়ে বাদ পড়ে যেতে পারেন।’
‘স্প্রে অ্যান্ড প্রে’
এআইয়ের সহায়তায় একসঙ্গে বহু আবেদন পাঠানোর শিল্প-পরিভাষা ‘স্প্রে অ্যান্ড প্রে’। আইএসইর যুগ্ম প্রধান নির্বাহী স্টিফেন ইশারউড বলছেন, এটি আগে থেকেই ভিড়ে ঠাসা বাজারে ‘শিক্ষার্থীদের ওপর প্রতিযোগিতা ও চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে’।
প্রক্রিয়াটি বোঝার মতো। এআই যদি প্রতিটি প্রার্থীকে পাঁচ গুণ বেশি পদে আবেদন করতে দেয়, তবে চাকরির বাজারে একজন বাড়তি মানুষ না ঢুকেই প্রতি শূন্যপদে আবেদনের সংখ্যা পাঁচ গুণ হয়। তখন প্রত্যেক আবেদনকারীর সম্ভাবনা কমে, আর তিনি সাড়া দেন আরও বেশি পদে আবেদন করে। কেউ লাভবান হন না, সবাই বেশি খাটেন—ভেতর থেকে অস্ত্র-প্রতিযোগিতা দেখতে এমনই।
বাংলাদেশে এর মানে কী
আন্তর্জাতিক নিয়োগদাতাদের কাছে আবেদন করা বাংলাদেশি স্নাতকেরা এই ব্যবস্থার সবচেয়ে কঠোর রূপটির মুখোমুখি হন, কারণ মানুষ কিছু পড়ার আগেই তাঁরা সাধারণত ছাঁটাই হয়ে যান।
বাস্তব পাঠটি সংকীর্ণ, আর তা নিখুঁতভাবে বলা দরকার। যে এআই আপনার নিজের কথাগুলোকে পরিষ্কার ইংরেজিতে লিখতে সাহায্য করে, সেটি এই সীমারেখার গ্রহণযোগ্য দিকে—আর অ-মাতৃভাষীর জন্য এটি এমন একটি ফাঁক পূরণ করে, যার সঙ্গে যোগ্যতার সম্পর্ক নেই। যে এআই আপনার হয়ে আবেদনটি লিখে দেয়, সেটি আপনাকে ৯২ শতাংশের দিকে নিয়ে যায়—আর বড় নিয়োগদাতারা এখন ঠিক সেটিই খুঁজছেন।
পরীক্ষাটি সরল: সাক্ষাৎকারে আপনি কি প্রতিটি বাক্যের পক্ষে দাঁড়াতে পারবেন? যে কাভার লেটার আপনি লিখতে পারতেন না কিন্তু বলতে পারতেন, সেটি সহায়তা। যেটির ব্যাখ্যা আপনি দিতে পারেন না, সেটি দায়—কারণ সাক্ষাৎকারেই তা ধরা পড়ে।
এর একটি দেশীয় রূপও আছে, যা কেউ মাপছেন না। এখানকার নিয়োগদাতারা বড় পরিসরে এআই বাছাই চালাচ্ছেন না, তাই বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি আবেদনকারীর চিঠি একজন মানুষই পড়েন—যার অর্থ এআইয়ের লেখা গদবাঁধা চিঠি লন্ডনের চেয়ে এখানে বেশি চোখে পড়ে, কম নয়।
ঢোকার পর কাজটি আসলে কত আয় দেয়, তা আছে গেম শিল্পের বেতন নিয়ে লেখাটিতে।
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একই সমস্যার অন্য রূপ
বাংলাদেশের বহু মানুষ চাকরিতে নয়, আপওয়ার্ক বা ফাইভারের মতো মার্কেটপ্লেসে প্রস্তাব পাঠান—আর সেখানে এই ব্যবস্থাটি আরও কড়া।
কারণ সেখানে ছাঁকনি দুই স্তরের। প্রথমে প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম ঠিক করে আপনার প্রস্তাব ক্লায়েন্ট আদৌ দেখবেন কি না; তারপর ক্লায়েন্ট পড়েন। এআই দিয়ে লেখা গদবাঁধা প্রস্তাব প্রথম ধাপে পাস করতে পারে, কিন্তু দ্বিতীয় ধাপে ধরা পড়ে—কারণ একই ক্লায়েন্ট একই দিনে বিশটি প্রায় অভিন্ন প্রস্তাব পান, আর সেগুলোর পার্থক্য তাঁর চোখে পড়ে।
যে জিনিসটি এখনো কাজ করে, সেটি সস্তা নয় বলেই কাজ করে: ক্লায়েন্টের কাজের বিবরণের নির্দিষ্ট একটি অংশ ধরে দুই লাইন লেখা, যা প্রমাণ করে আপনি সেটি পড়েছেন। এআই আপনার হয়ে সেটি লিখতে পারে না, কারণ কোন খুঁটিনাটিটি গুরুত্বপূর্ণ তা আপনাকেই বুঝতে হয়। এই এক জায়গাতেই মানুষের পড়ার সময়টুকু এখনো দামি।
সূত্র: বিবিসি নিউজ, জরিপের তথ্য ইনস্টিটিউট অব স্টুডেন্ট এমপ্লয়ার্সের।




