গত দুই বছরে অন্তত একটি চাকরির আবেদন করেছেন—যুক্তরাজ্যের এমন ২ হাজার কর্মীর ওপর চালানো জরিপে দেখা গেছে, ৭৫ শতাংশই জানেন না যে স্বয়ংক্রিয় প্রত্যাখ্যানকে চ্যালেঞ্জ করার অধিকার তাঁদের আছে।
অধিকারটি কী
লন্ডনভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা পিপল লাইক আস রিজেক্ট দ্য রিজেকশনস নামে একটি প্রচার চালাচ্ছে, যাতে নিয়োগকর্তারা স্বয়ংক্রিয় নিয়োগব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ান। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী শিরাজ গুলশের মনে করিয়ে দিচ্ছেন ইনফরমেশন কমিশনারস অফিসের নির্দেশনার কথা, যেখানে বলা আছে—কিছু স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্তের আওতায় পড়া ব্যক্তিরা মানুষ দিয়ে পুনর্বিবেচনা চাইতে পারেন।
তাঁর ভাষায়, ‘আমরা মানুষকে এ অধিকারের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি, কারণ অনেকেই এটি জানেনই না।’

‘এআই যুদ্ধ’ বলতে তিনি যা বোঝাচ্ছেন
গুলশের বর্তমান অবস্থাকে বর্ণনা করছেন অস্ত্র প্রতিযোগিতা হিসেবে: প্রার্থীরা ‘আবেদন শক্তিশালী করতে এআইয়ের দ্বারস্থ হচ্ছেন’, আর ‘নিয়োগকর্তারা বিপুল পরিমাণ আবেদন সামলাচ্ছেন’ এবং সেগুলো ছাঁটতে এআই ব্যবহার করছেন। একপক্ষের স্বয়ংক্রিয়তা অন্যপক্ষের জবাব, আর দুই প্রান্তেই পরিমাণ বাড়ছে।
নিয়োগকর্তাদের কাছে তাঁর দাবিটি নির্দিষ্ট ও পরিমিত: এসব ব্যবস্থার নিরীক্ষা করুন, ফল প্রকাশ করুন, আর স্বাধীনভাবে যাচাই করান। ‘আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি না যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের স্বয়ংক্রিয় বা এআই ব্যবস্থা পক্ষপাতমুক্তভাবে চলছে।’
যে তথ্যটিতে থমকে যেতে হয়
জাতিগতভাবে বৈচিত্র্যময় চাকরিপ্রার্থীদের ৭০ শতাংশ বলেছেন, নিয়োগ সফটওয়্যার বাতিল করে দিতে পারে—এ আশঙ্কায় তাঁরা জীবনবৃত্তান্তের তথ্য বদলেছেন বা লুকিয়েছেন; এর মধ্যে আছে জন্মভূমি, ধর্ম কিংবা নাম। শ্বেতাঙ্গ প্রার্থীদের মধ্যে এ হার ৫৭ শতাংশ।
এটি প্রযুক্তির ভুল করা নিয়ে অভিযোগ নয়। এটি হলো মানুষ আগেভাগেই নিজের পরিচয় নথি থেকে মুছে ফেলছেন, কারণ তাঁরা ধরে নিচ্ছেন যন্ত্র সেটিকে তাঁদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করবে। সফটওয়্যার সত্যিই তা করত কি না, তা আলাদা প্রশ্ন—বিশ্বাসটিই বিপুল পরিসরে আচরণ বদলে দিচ্ছে। আর যে নিয়োগব্যবস্থা নীরবে মানুষকে শেখায় তাঁরা কোথাকার তা লুকিয়ে রাখতে, তার এমন একটি সমস্যা আছে যা নির্ভুলতার কোনো মাপকাঠিতেই ধরা পড়বে না।
বাংলাদেশে এর গুরুত্ব, আর ভিন্নতা
বাংলাদেশি আবেদনকারীরা এসব ব্যবস্থার মুখোমুখি হন উল্টো দিক থেকে। বিদেশি নিয়োগকর্তার কাছে আবেদন, বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞাপিত দূরের কাজ, আর ক্রমে আমদানি করা অ্যাপ্লিক্যান্ট-ট্র্যাকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করা বড় দেশি প্রতিষ্ঠান—সবখানেই বাছাই করে এমন সরঞ্জাম, যা মূলত পশ্চিমা জীবনবৃত্তান্ত ও পশ্চিমা পেশাজীবনের ধরন দেখে প্রশিক্ষিত।
বাংলাদেশি জীবনবৃত্তান্ত নিরীহভাবেই ওই ধরনে ব্যর্থ হয়: ব্যবস্থাটি কখনো দেখেনি এমন প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি, এ দেশে স্বাভাবিক এমন কর্মবিরতি, পার্সার যে নাম এলোমেলো করে ফেলে, ভিন্ন ক্রমে লেখা তারিখ। এর কোনোটিই রাজনৈতিক অর্থে পক্ষপাত নয়। এটি প্রশিক্ষণের বাইরের পরিসরে একটি মডেলের দুর্বল কাজ—বাংলা ভাষায় এআইয়ের দুর্বলতার ক্ষেত্রেও যা একই ব্যর্থতা, কেবল পোশাক আলাদা।
বাস্তব কথাটি হলো, মানুষ দিয়ে পুনর্বিবেচনার অধিকার এ দেশে কার্যত নেই। আইসিওর নির্দেশনার মতো কিছু বাংলাদেশে নেই, আর বিদেশি নিয়োগকর্তার সফটওয়্যারে বাতিল হওয়া প্রার্থীর যাওয়ার জায়গাও নেই। তাই বাস্তবসম্মত পরামর্শটি অতৃপ্তিকর হলেও সত্যি: জীবনবৃত্তান্ত এমনভাবে লিখুন যাতে পার্সার পড়তে পারে—সাধারণ শিরোনাম, প্রচলিত তারিখ-বিন্যাস, ছবির ভেতরে লেখা নয়—আর যেখানে মানুষের নাগাল পাওয়া যায়, সেখানে মানুষের মাধ্যমেই আবেদন করুন।
আরেকটি দিক আছে, যা এ দেশের নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন আমদানি করা অ্যাপ্লিক্যান্ট-ট্র্যাকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করছে, আর সেগুলোর বাছাইয়ের নিয়ম প্রায়ই ডিফল্ট অবস্থাতেই রেখে দেওয়া হয়। ফলে বিদেশি ধরনে প্রশিক্ষিত একটি ব্যবস্থা দেশি প্রার্থীদের বাছাই করে, অথচ সেটি কীসের ভিত্তিতে বাদ দিচ্ছে তা কেউ পরীক্ষা করে দেখে না।
যে প্রতিষ্ঠান এমন সফটওয়্যার কেনে, তার অন্তত তিনটি প্রশ্ন করা উচিত: কোন কোন মাপকাঠিতে প্রার্থী বাদ পড়ছেন, সেই তালিকা কি দেখা যায়? বাদ পড়ার কারণ কি নথিভুক্ত হয়? আর কোনো প্রার্থী আপত্তি জানালে মানুষ দিয়ে পুনর্বিবেচনার ব্যবস্থা আছে কি? তিনটির উত্তরই না হলে প্রতিষ্ঠানটি জানেই না, সে কাকে ফিরিয়ে দিচ্ছে।
সম্পর্কিত: একই প্রতিযোগিতার অন্য পিঠ।




