প্রযুক্তি বাংলাদেশ

দেশে এখন চাকরির সাক্ষাৎকার নিচ্ছে এআই — আর তা নিচ্ছে বাংলায়, পরিবর্তনটা এখানেই

তিনটি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ও ১৪ হাজারের বেশি প্রার্থী নিয়ে পরীক্ষামূলক চালানোর পর রোববার দেশের সব নিয়োগদাতার জন্য প্ল্যাটফর্মটি খুলে দিয়েছে হাইপো এআই।

দেশে এখন চাকরির সাক্ষাৎকার নিচ্ছে এআই — আর তা নিচ্ছে বাংলায়, পরিবর্তনটা এখানেই

প্রযুক্তিভিত্তিক মানবসম্পদ প্রতিষ্ঠান হাইপো এআই রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–পরিচালিত রিয়েল-টাইম সাক্ষাৎকারের প্ল্যাটফর্ম, যা উন্মুক্ত করা হয়েছে বাংলাদেশের সব নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ও চাকরিপ্রার্থীর জন্য। চালুর আগে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে তিনটি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান আর ১৪ হাজারের বেশি প্রার্থী এই ব্যবস্থায় সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করেছেন।

এটি যা করে

প্রার্থী অ্যাকাউন্ট খুলে চাকরির সুযোগ খুঁজে নেন, আর মানুষের বদলে মডেলের নেওয়া রিয়েল-টাইম সাক্ষাৎকারে বসেন। নিয়োগদাতা সিভির স্তূপের বদলে পান একটি কাঠামোবদ্ধ মূল্যায়ন, আর কম সময়ে একই প্রক্রিয়ায় বেশি প্রার্থীকে নিতে পারেন। ওয়েবসাইট hipo.com.bd–এর পাশাপাশি আছে মোবাইল অ্যাপও — যে বাজারে বেশির ভাগ মানুষ ইন্টারনেটে ঢোকেন ফোন দিয়ে, সেখানে এটি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিষ্ঠানটি সমস্যাটি দেখছে দুই দিকেরই সময় নষ্ট হিসেবে: বাছাইয়ে নিয়োগদাতার সপ্তাহ পেরিয়ে যায়, আর প্রার্থী কেন বাদ পড়লেন তা কদাচিৎ জানতে পারেন।

যে দাবিটি করা হচ্ছে

সহ–উদ্যোক্তা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউল পারভেজ চৌধুরী বিষয়টি রেখেছেন দক্ষতার বদলে ন্যায্যতার ভাষায়। তিনি বলেছেন, ‘নিয়োগপ্রক্রিয়াকে সবার জন্য সমান করার ভাবনা থেকেই আমাদের এ যাত্রা।’ তাঁর যুক্তি, চাকরিপ্রত্যাশীরা ন্যায্য সুযোগ না পেলে বেকারত্বের সমাধান সম্ভব নয়, আর গতানুগতিক এইচআর টেক দিয়ে সেই সুযোগ তৈরি করা যায় না। ঘোষিত লক্ষ্য হলো মাতৃভাষাসহ সব ভাষায় সাক্ষাৎকার, আর তাতে বিশেষ জোর বাংলা সাক্ষাৎকারের অভিজ্ঞতায় — যাকে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে এ ধরনের প্রথম উদ্যোগ বলছে।

বাংলা সাক্ষাৎকারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ কেন

এআই সাক্ষাৎকারের সরঞ্জাম নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের পর বছর এগুলো বেচছে, আর প্রায় সবই চলে ইংরেজিতে।

বাংলাদেশে ওই খুঁটিনাটিই ঠিক করে দেয় কে উতরে যাবেন। এখানে ইংরেজিতে সাবলীলতা চলে শিক্ষার সঙ্গে, আর শিক্ষা চলে টাকা ও ভূগোলের সঙ্গে। ঢাকার ইংরেজি মাধ্যমের স্নাতক আর জেলা কলেজের স্নাতক হিসাবরক্ষণ, মজুদ বা গ্রাহকসেবা সম্পর্কে সমান জানতে পারেন, আর তা বর্ণনা করতে গিয়ে শোনাতে পারেন একেবারে আলাদা। শুধু ইংরেজির বাছাই প্রথমটি মাপার ভান করে দ্বিতীয়টিই মাপে — আর তা করে কোনো মানুষ প্রার্থীকে দেখার আগেই।

বাংলায় সাক্ষাৎকার নেওয়া ওই ছাঁকনিটি সরিয়ে দেয়। এতেই মূল্যায়ন ন্যায্য হয়ে যায় না, তবে শুধু ইংরেজির সরঞ্জাম স্বভাবতই যে নির্দিষ্ট অন্যায্যতাটি আমদানি করে, সেটি থামে — আর এ ধরনের খাপ খাওয়ানো দেশেই বানাতে হয়, কারণ কোনো বিদেশি বিক্রেতার এটি করার বাণিজ্যিক কারণ নেই।

১৪ হাজার সাক্ষাৎকার যা প্রমাণ করে, আর যা করে না

সংখ্যাটি সত্যি, আর ওই পরিমাণে প্ল্যাটফর্মটি স্পষ্টতই চলে। তবে সম্পন্ন হওয়া মানে নির্ভুলতা নয়। চৌদ্দ হাজার সাক্ষাৎকার দেখায় পাইপে ট্রাফিক বইছে; প্রার্থী সম্পর্কে মডেলের রায় একজন ভালো মানুষ-সাক্ষাৎকারগ্রহীতার সিদ্ধান্তের সঙ্গে মেলে কি না, তা নিয়ে এগুলো কিছুই বলে না — অংশ নেওয়া তিন প্রতিষ্ঠান সুপারিশগুলো কাজের পেয়েছে কি না, তা নিয়েও না।

গভীর প্রশ্নটি প্রতিটি স্বয়ংক্রিয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রেই খাটে। খারাপ একটি সকাল যাওয়া মানুষ-সাক্ষাৎকারগ্রহীতা একটি ঘরে একজন প্রার্থীকে প্রভাবিত করেন। আর নির্দিষ্ট একটি বলার ভঙ্গি পছন্দ করতে শিখে যাওয়া মডেল সেই পছন্দ প্রয়োগ করে প্রতিটি প্রার্থীর ওপর — একইভাবে, অদৃশ্যভাবে, আর এমন মাপে যা কোনো অভিযোগপ্রক্রিয়া ধরতে পারবে না। মানুষের পক্ষপাত একটি সমস্যা; বাছাই ব্যবস্থার পক্ষপাত একটি নীতি।

এটি যাচাইযোগ্য, আর যাচাইয়ের উপায় প্রকাশ করা। জেলা, বিশ্ববিদ্যালয়, লিঙ্গ আর প্রার্থী বাংলা না ইংরেজি ধারা বেছেছেন — এসব ধরে ভাগ করা উত্তীর্ণের হার একটি সারণিতেই মিটিয়ে দেবে যা কোনো পরিমাণ বর্ণনা পারে না। ন্যায্যতাকেই যে প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় দাবি বানাচ্ছে, সেগুলো প্রকাশের জন্য তারাই সবচেয়ে ভালো জায়গায় আছে।

আপনি যদি এমন সাক্ষাৎকারে বসতে যান

  1. বাংলা শক্ত হলে বাংলা ধারাই বেছে নিন। এটি আছে যাতে দ্বিতীয় ভাষায় আপনাকে প্রতিযোগিতা করতে না হয়, আর তা ব্যবহার করা আপনার বিপক্ষে যায় না।
  2. শুরুর আগে মাইক্রোফোন পরীক্ষা করুন, আর তা যে ঘরে সত্যিই বসবেন সেখানেই। রিয়েল-টাইম ব্যবস্থা আপনার কথা লিপিবদ্ধ করছে; খারাপ সংযোগ পড়া হয় খারাপ উত্তর হিসেবে।
  3. যে প্রশ্ন করা হয়েছে তারই উত্তর দিন। কাঠামোবদ্ধ সাক্ষাৎকারে নম্বর দেওয়া হয় প্রশ্নের বিপরীতে, কাজেই অন্য প্রশ্নের দারুণ উত্তরে নম্বর শূন্য।
  4. প্রতি উত্তরে একটি নির্দিষ্ট উদাহরণ দিন — আপনি কী করেছেন, কোন প্রতিষ্ঠানে, আর তাতে কী বদলেছে। বিশেষণের চেয়ে নির্দিষ্ট তথ্য স্বয়ংক্রিয় নম্বরে বেশি টেকে।
  5. কী জিজ্ঞেস করা হলো তা লিখে রাখুন। সিদ্ধান্ত ভুল মনে হলে প্রশ্নগুলোই আপনার হাতের একমাত্র নথি।

এই পাইপলাইনে জোগান দেওয়া বিদ্যালয়গুলো এর জন্য প্রস্তুত কি না, তা নিয়ে দেখুন বাংলাদেশের শ্রেণিকক্ষে এআই নিয়ে সেলডন প্রতিবেদন। শ্রমবাজারের এক ধাপ ওপরে একই যুক্তি নিয়ে দেখুন বিপিও সামিট আর মূল্যশৃঙ্খলে ওপরে ওঠার পরামর্শ।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।