যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর আর অ্যানথ্রপিকের এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করছে না—সোমবার বিবিসিকে এ কথা জানিয়েছেন দপ্তরের এক কর্মকর্তা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দপ্তরটি “অ্যানথ্রপিকের পণ্য ব্যবহার বন্ধ করেছে”—জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সরবরাহ-শৃঙ্খলের ঝুঁকি ঘোষণা করার কয়েক মাস পর।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ফেব্রুয়ারিতে ওই তকমা দেন এবং বলেন, আগস্টের শেষ নাগাদ পেন্টাগন অ্যানথ্রপিকের ব্যবহার বন্ধ করবে। সময়সীমা পেরিয়ে যায়। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহ পর্যন্তও গবেষণা, বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে—এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে—ক্লড ব্যবহৃত হচ্ছিল।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে আট মাস লাগল কেন
ব্যাখ্যাটি আমলাতান্ত্রিক গড়িমসি নয়, আর এই খবর থেকে নেওয়ার মতো অংশ এটিই।
ক্লড এমন কোনো সাবস্ক্রিপশন ছিল না যা কেউ বাতিল করে দিতে পারত। এটি বসানো ছিল মাভেন স্মার্ট সিস্টেমের ভেতরে—গোয়েন্দা ও অন্যান্য তথ্য গোছানোর জন্য পেন্টাগনের প্রধান প্ল্যাটফর্ম, যা পরিচালনা করে পালান্টির। মডেলটি বসে ছিল এমন এক ব্যবস্থার নিচে, যার ওপর অন্য ব্যবস্থাগুলো নির্ভর করে।
জর্জটাউনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজির লরেন কান, যিনি নিজে সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা, সরাসরি বলেছেন: মাভেনের গভীরে গেঁথে থাকায় ক্লডকে দ্রুত টেনে বের করা যায়নি। তাঁর ভাষায়, “গোটা ব্যবস্থা থেকে ক্লডের সব ব্যবহার সরাতে পেন্টাগনের এত দিন লেগে যাওয়াই বলে দেয়, এগুলো প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে নয়। একবার গেঁথে গেলে সরানো যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে।”
এটি রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কহীন একটি ক্রয়-সংক্রান্ত শিক্ষা। যে প্রতিষ্ঠান অ্যাপ্লিকেশন স্তরে মডেল নেয়, সে এক বিকেলেই বিক্রেতা বদলাতে পারে। আর যে প্রতিষ্ঠান নিজের মূল প্ল্যাটফর্মের ভেতরে মডেলটিকে যুক্তির স্তর বানিয়ে ফেলে, সে একটি নির্ভরতা কিনেছে—আর সেই নির্ভরতার দাম চোখে পড়ে কেবল বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে।
বিরোধের শুরু যেভাবে
পেন্টাগন অ্যানথ্রপিককে চাপ দেয় ক্লড থেকে নিরাপত্তাবেষ্টনী তুলে নিতে এবং সামরিক বাহিনীকে অবাধ ব্যবহারের সুযোগ দিতে। গণনজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের কথা বলে প্রতিষ্ঠানটি রাজি হয়নি। এরপর হেগসেথ একে “জাতীয় নিরাপত্তা সরবরাহ-শৃঙ্খল ঝুঁকি” ঘোষণা করেন—যে তকমা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিকূল দেশের প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হয়, আর কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর যা আগে কখনো প্রয়োগ হয়নি।
অ্যানথ্রপিক একে “নজিরবিহীন ও বেআইনি” বলে মামলা করে। আদালতের লড়াই আর ফেডারেল আপিল আদালত তাতে কী বলেছে, তা আছে কালো তালিকা নিয়ে রায়ের খবরে।
নথির সময়ক্রমটি লক্ষ করার মতো। হেগসেথ ছয় মাসের মধ্যে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন ২৭ ফেব্রুয়ারি—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার ঠিক এক দিন আগে। এরপরের মাসগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ সেই সরঞ্জামই ওই দেশের বিরুদ্ধে অভিযানে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল বলে জানা গেছে।
শূন্যস্থান পূরণ করল কারা
মামলা চলাকালে পেন্টাগন গুগল, এক্সএআই ও ওপেনএআইয়ের সঙ্গে চুক্তি করেছে, আর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সামরিক বিভাগগুলোতে ওপেনএআইয়ের সরঞ্জামই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০২৪ সাল থেকে অ্যানথ্রপিকই ছিল প্রথম অগ্রসর এআই প্রতিষ্ঠান, যাদের সরঞ্জাম যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেণিবদ্ধ কাজ করা সরকারি সংস্থায় মোতায়েন হয়।
এক সাবেক জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার একটি কথা লক্ষণীয়: বাদ দেওয়ার নির্দেশের সময় “অ্যানথ্রপিক ছেড়ে ওপেনএআইয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ ছিল”। উদ্বেগটি আনুগত্যের নয়। মডেল বদলানো মানে তার ওপর বানানো সবকিছু আবার পরীক্ষা করা, আর ব্যবস্থার ভেতরের কেউ সেই কাজ চান না।
এখানকার ক্রেতার যা নেওয়ার
বাংলাদেশ শ্রেণিবদ্ধ কাজের জন্য সীমান্তের মডেল কিনছে না, তবে সমস্যার গঠনটি হুবহু এক—অঙ্কটাই কেবল ছোট।
যে ব্যাংক বা হাসপাতাল নির্দিষ্ট কোনো বিক্রেতার মডেলকে নিজের মূল কর্মপ্রবাহে জুড়ে দেয়—সুবিধা হিসেবে নয়, বরং এমন জিনিস হিসেবে যাকে অন্য সুবিধাগুলো ডাকে—সে এমন একটি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা আজ সস্তা আর ফেরানো ব্যয়বহুল। ফেরানোর খরচটি প্রস্তাবে কখনো লেখা থাকে না।
সই করার আগে তিনটি প্রশ্ন সেটি দৃশ্যমান করে। মডেলটিকে ডাকা অ্যাপ্লিকেশন নতুন করে না লিখে কি অন্য মডেল বসানো যায়? বিক্রেতা যেকোনো কারণে—রাজনৈতিক কারণসহ—অনুপলব্ধ হলে ব্যবস্থাটি কী করবে, তার লিখিত বর্ণনা আছে কি? আর ইন্টারফেস থাকলেই বদল সম্ভব ধরে নেওয়ার বদলে কেউ কি সত্যিই বদলটি পরীক্ষা করে দেখেছেন?
এই প্রশ্নগুলোর বাস্তব উত্তর পেতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের আট মাস আর একজন নামী প্ল্যাটফর্ম পরিচালক লেগে থাকলে, ঢাকার মাঝারি কোনো প্রতিষ্ঠানের ধরে নেওয়া উচিত নয় যে তারা দ্রুত পারবে।
বৃহত্তর নীতির ছবিটি আছে সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স নিয়ে লেখাটিতে।




