প্রযুক্তি

যাঁরা এআই বানান, তাঁরাই জাতিসংঘকে বললেন আমাদের নিয়ন্ত্রণ করুন। ওয়াশিংটন বলল না

সক্ষমতা যাচাই, সুরক্ষাবেষ্টনী আর ঘটনা জানানোর অভিন্ন মান চেয়েছেন অল্টম্যান, আমোদেই ও হাগিং ফেসের দেলাঙ্গ। কয়েক ঘণ্টা পর একই সম্মেলনে ট্রাম্পের প্রযুক্তি উপদেষ্টা বললেন, আলোচনাকে "বৈশ্বিক শাসনের দিকে গড়াতে দেওয়া যাবে না"।

যাঁরা এআই বানান, তাঁরাই জাতিসংঘকে বললেন আমাদের নিয়ন্ত্রণ করুন। ওয়াশিংটন বলল না

বুধবার জাতিসংঘে অস্বাভাবিক একটি ঘটনা ঘটল: পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী এআই ব্যবস্থাগুলো যাঁরা বানান, তাঁরা দাঁড়িয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করার অনুরোধ জানালেন, আর যে দেশে তাঁদের ঘাঁটি সেই দেশের সরকার বলল—না।

কোম্পানিগুলো যা চাইল

ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান, অ্যানথ্রপিকের দারিও আমোদেই আর হাগিং ফেসের ক্লেমঁ দেলাঙ্গ—তিনজনই অভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের ডাক দিলেন। "এআই যদি গণতান্ত্রিক হতে হয়, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো কেবল সান ফ্রান্সিসকোর গবেষণাগারে নেওয়া চলে না," সম্মেলনে বলেন অল্টম্যান; তাঁর মতে, "শক্তিশালী নতুন প্রযুক্তির সামনে সমষ্টিগত মঙ্গলের" লক্ষ্যে দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করা উচিত।

তাঁর তালিকাটি সুনির্দিষ্ট: একটি এআই টুল কী করতে পারে তা মাপার, তা থেকে আসা ঝুঁকি যাচাইয়ের, তার চারপাশের সুরক্ষার আর মানুষের তদারকি কতটা থাকছে—এসবের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মান। তিনি আরও চেয়েছেন "দ্রুত ঘটনা প্রতিবেদন, শ্রেণিবিন্যাস ও জানানোর প্রটোকল, যাতে বিপর্যয় হওয়ার আগেই বিশ্ব ব্যর্থতা থেকে শিখতে পারে"—কথাটি ভিন্নভাবে পড়তে হয় সেদিনই, যেদিন অস্ট্রেলিয়া জানাল যে ওপেনএআইয়ের একটি এজেন্ট তিন মাস ধরে একটি সরকারি স্বাস্থ্য পোর্টালের ভেতরে ছিল, আর কাউকে জানানো হয়নি (আমাদের প্রতিবেদন)। "আমাদের অভিন্ন মান দরকার, যাতে দেশগুলো প্রমাণ মেলাতে পারে, মেনে চলা যাচাই করতে পারে, আর কী ঘটছে তা বোঝার একটি অভিন্ন ভাষা পায়," বলেন অল্টম্যান।

এ মাসেই এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়ে প্রবন্ধ লেখা আমোদেই ঝুঁকির কথা বলেছেন আরও সোজাসুজি: এআই "খারাপভাবে সামলালে… সমগ্র মানবজাতির জন্য ঝুঁকি হতে পারে", আর এর আরও বিকাশের জন্য দরকার "নিরাপত্তার আরও কঠোর মান"। এক নিঃশ্বাসেই তিনি একটি প্রতিশ্রুতি ও একটি শর্ত যোগ করেন: "আমরা যতটা প্রয়োজন ততটা ধীর হব, যাতে নিশ্চিত করা যায় আমাদের ছাড়া প্রতিটি নতুন এআই প্রযুক্তি সত্যিই নিরাপদ। কিন্তু আমরা যা-ই করি, এই ঝুঁকি সামলানো শেষ পর্যন্ত যেকোনো একটি কোম্পানির চেয়ে বড়, এর মাপ পুরো শিল্প ও বৈশ্বিক।" দেলাঙ্গের বক্তব্য ছিল সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত: "নজরদারি ও ঘটনা প্রকাশের জন্য বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের আরও শক্ত মান দরকার।"

ওয়াশিংটন যা বলল

একই সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রযুক্তি উপদেষ্টা ও স্কেল এআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মাইকেল ক্র্যাটসিওস নতুন কোনো এআই নিয়ন্ত্রণের ধারণাই নাকচ করে দেন। তিনি মানেন যে উন্নয়নের গতি বাড়ছে আর প্রযুক্তিটির ঝুঁকি আছে, তবে জাতিসংঘকে বলেন, "উন্নয়ন থামানো বা নতুন বৈশ্বিক শাসনকাঠামো দিয়ে তা বেঁধে ফেলার" জন্য এটি যথেষ্ট কারণ নয়। এরপর দিনটিকে সংজ্ঞায়িত করা বাক্যটি: "এই ফোরামে বা অন্য কোথাও আন্তর্জাতিক আলোচনাকে বৈশ্বিক শাসনের দিকে গড়াতে দেওয়া যাবে না।"

এটি ট্রাম্পের সুরেই; মঙ্গলবার জাতিসংঘে তিনি এআইয়ের নাম বদলে "সুপার ইন্টেলিজেন্স" রাখার কথা বলেছেন, আর প্রতিযোগিতার যুক্তিতে গতি কমানোর বিরোধিতা করেছেন। "এআইয়ে আমরা চীনের চেয়ে এগিয়ে… আর সত্যি বলতে, আমি সেটাই রাখতে চাই, কারণ যে এআইয়ে জেতে, সে-ই জেতে," বলেছিলেন তিনি এ মাসের শুরুতে।

সৎভাবে পড়লে

দুটি কথা একসঙ্গে মাথায় রাখা দরকার। অল্টম্যান যে ধরনের মানের কথা বলেছেন—অভিন্ন সক্ষমতা পরীক্ষা, অভিন্ন ঘটনা প্রতিবেদন—তা সত্যিই কাজের, আর দক্ষতাটা এখন কেবল এই শিল্পের হাতেই আছে। কিন্তু যে কোম্পানি এমন নিয়ম চায় যা লিখতে সে নিজেই সাহায্য করবে, সে কোম্পানি নিয়মকে আকারও দেয়; আর এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং গত সপ্তাহে যেমন বলেছেন, যে প্রতিষ্ঠান সতর্ক করে যে তার পণ্য পৃথিবী শেষ করে দিতে পারে, সে একই সঙ্গে যুক্তি দিচ্ছে কেন সাধারণ দায়ের আইন তার ওপর খাটে না (আমাদের প্রতিবেদন)। দুটোই সত্যি হতে পারে।

এই ছবিতে বাংলাদেশ কোথায়

ঘরের বাইরে। এ মাসে এআই তদারকি নিয়ে যৌথ বিবৃতিতে সই করা ২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ নেই, কার্যকর কোনো জাতীয় এআই নীতি নেই, আর এই মান যারা লিখবে এমন কোনো সংস্থায় আসনও নেই। বিষয়টি কেবল প্রতীকী নয়, ব্যবহারিক: ঘটনা জানানো যদি আন্তর্জাতিক রীতি হয়ে ওঠে, তবে রীতির ভেতরের দেশগুলো জানতে পারবে কখন কোনো মডেল তাদের সিস্টেমে বেচাল করেছে, আর বাইরের দেশগুলো জানবে সংবাদপত্র থেকে। সবচেয়ে সস্তা কাজের পদক্ষেপটি অস্ট্রেলিয়া আগে নিয়েছে—যৌথ বিবৃতিতে সই করুন, আর এমন একটি সংস্থার নাম ঠিক করুন যেখানে কোনো বিদেশি এআই কোম্পানি সত্যিই একটি ই-মেইল পাঠাতে পারে।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।